জুড়ীতে হোম কোয়ারেন্টিন অমান্য করায় এক প্রবাসীকে জরিমানা

বিশেষ প্রতিনিধিঃ মৌলভীবাজারের জুড়ীতে হোম কোয়ারেন্টিন না মেনে প্রকাশ্যে ঘুঁরে বেড়াচ্ছেন দুবাই ফেরত রফিকুল ইসলাম সুহেল (৩৩) নামে এক প্রবাসী। তবে তিনি নিজেকে একজন সুস্থ ব্যক্তি হিসেবে দাবি করছেন। কোয়ারেন্টিন না মেনে বেপরোয়া চলাফেরা করার অভিযোগে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। শুক্রবার (২০ মার্চ) রাত সাড়ে সাতটায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অসীম চন্দ্র বণিক তাকে এই অর্থদণ্ড প্রদান করেন। অর্থদণ্ডপ্রাপ্ত ওই প্রবাসীর বাড়ি উপজেলার জায়ফরনগর ইউনিয়নের দক্ষিণ জাঙ্গিরাই গ্রামে। তাঁর পিতার নাম মৃত আব্দুস সামাদ। 

জানা যায়, গত ১৫ মার্চ ওই ব্যক্তি দুবাই থেকে দেশে ফেরেন। এরপর তাকে নিজ দায়িত্বে ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে নিয়মিত সামাজিক অনুষ্ঠান, আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে ঘুরে বেড়ানো, হাট-বাজারে ঘুরাফেরা করতেন। শুক্রবার জুম্মার নামাজে মসজিদে যান তিনি। এ সময় মসজিদের মুসল্লীরা আতঙ্কে পড়ে যান। পরে ওইদিন বিকেলে তাঁর বাড়িতে ডাক্তার পাঠানো হয়। ডাক্তার বাড়িতে গেলে সে এবং তাঁর পরিবারের লোকজন ডাক্তারের সাথে খারাপ আচরণ শুরু করে। তিনি নিজেকে একজন সুস্থ মানুষ হিসেবে দাবি করে বলেন, আমি সুস্থ আছি তাহলে কেন আমাকে কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। তাঁর এমন কথাবার্তায় হতবাক এলাকার সবাই। করোনা আতঙ্কে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এলাকার মানুষ। 

এ বিষয়টি জানতে পারে উপজেলা প্রশাসন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সন্ধ্যার সময় তাঁর বাড়িতে হাজির হন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অসীম চন্দ্র বণিক। এ সময় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময়ও তিনি ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ শুরু করেন। পরে তাকে সরকারি নির্দেশনা ও রোগ সংক্রামক আইন বুঝিয়ে বলার পর তিনি প্রশাসনের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে। এ সময় তাঁর বাড়িতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং ১৪ দিন নিজ বাড়িতে কোয়ারেন্টিনে থাকতে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জুড়ী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ মোঈদ ফারুকসহ জুড়ী থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন সরদারের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল।

সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রবাস ফেরত চারজনকে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। ইতিমধ্যে ১৪ জনকে কোয়ারেন্টিনমুক্ত হয়েছেন। সেই সাথে সচেতনতার লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও পুলিশের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হচ্ছে এবং সব ধরনের খেলা, ওয়াজ, কীর্তন, ওরুসসহ সব ধরনের জনসমাগম নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

No comments: