এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের ৫টি উপায় ;; হাফিজ আমিনুল ইসলাম

প্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা, প্রথমেই তোমাদের জন্য রইল প্রাণবন্ত ভালোবাসা, দো'য়া এবং শুভ কামনা! পরীক্ষায় ভালো ফল করাটা শুধু জন্মগত প্রতিভা বা আজন্ম সাধনা নয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বই নিয়ে পড়ে থাকাও নয়। নিয়মিত ভালো ফলাফল করে- এমন শিক্ষার্থীদের আসলে কিছু অভ্যাস থাকে যা তাদের ভালো ফল করতে সাহায্য করে। ভালো ছাত্র বলতে আমরা তাদেরকেই বুঝি যারা সবসময় বই নিয়ে পড়ে থাকে, অন্য কোনোদিকে মনোযোগ দেয় না। কিন্তু কিছু কিছু ছাত্ররা পড়াশোনা, খেলাধুলা, শিল্পচর্চা সবদিকেই সময় দিতে পারে। তারা আসলে এসব অভ্যাসের চর্চা করে বলেই ভালো ফল করতে পারে সব দিকেই। যেহেতু এখন এস এস সি/দাখিল পরীক্ষা শুরু হয়েছে সেহেতু সময় নষ্ট নামক বিনোদন, শিল্প চর্চা, মিউজিক, সব ধরনের মেসেজ, মোবাইল নোটিফিকেশন, সোস্যাল মিডিয়া, ওয়েব পেইজ এবং ফেইচবুক একদমই চলবেনা; কারন এটা তোমার পড়াশোনার প্রতি মনোযোগ নষ্ট করবে। 

তুমি ছাত্র, শিক্ষা তোমার আদর্শ এবং ভালো ফলাফল হচ্ছে উত্তম বিনোদন। পড়াশোনা করে যে গাড়ি-ঘোড়া চড়ে সে, পড়াশোনা না জানলে কিছুই হবেনা, এ কথাগুলো ছোট বেলা কতইনা শুনেছি। আসলে পড়াশোনার একচুয়েলি কিছু ফর্মুলা আছে। ★টানা পড়াশোনা নয়, ভেঙ্গে ভেঙ্গে পড়াশোনা, টানা আট-দশ ঘন্টা পড়াশোনা না করে বরং পড়াশোনাকে যদি ৩০-৪০ মিনিটের ছোট ছোট স্লটে ভেঙে ফেলা যায় তাহলে পড়াশোনা অনেক ইফেক্টিভ বা সফল হবে। এতে করে মস্তিষ্কের ধারন ক্ষমতায় একটা উপযোগি সেটাপ তৈরি হবে। ★নির্দিষ্ট সময়ে পড়াশোনার অভ্যাস গড়ে তোলে রাত জেগে পড়াশোনার অভ্যাস পরিহার করতে হবে, তাহলে এটা হবে স্বাস্হ্য সম্মত এবং মস্তিষ্কে সহনীয়। ★নতুন করে কোন পড়া আয়ত্বে আনার চেষ্টা না করাই ভালো, কেননা এতে করে পুরাতন পড়া যা পড়েছ তা ভুলে যাবার আশঙ্কা থাকে এবং পরীক্ষার পড়াশোনার পরিকল্পনায় বাড়তি টেনশন আসতে পারে, তাই যা পারো তা ভালো করে বারবার রিভাইস করো। মুখস্ত নয়; বুঝে- বুঝে পড়ার চেষ্টা কর। ★পরীক্ষার ভালো নম্বরের প্রায় ৫০% সফলতা নির্ভর করে প্রশ্ন ভালোভাবে বোঝার উপর। সাধারনত পরীক্ষার প্রায় ১৫ মিনিট আগে খাতা দেওয়া হয়, নাম, রোল, রেজিট্রেশন ও মার্জিন টানার জন্য, হাতে দশ মিনিট সময় নিয়ে ভালোভাবে মস্তিষ্ক স্হীর রেখে সম্পাদন করতে যেন কোনো ত্রুটি না হয়। একটু অমনোযোগী বা অবহেলা হতে পারে একটি বছরের কান্না! ★প্রশ্নপত্র হাতে পাওয়ার পর সাথে সাথে দেখে নিবে প্রিন্টিং মিস্টেক আছে কিনা, যদি থাকে তাহলে তৎক্ষনাত চেইন্জ করে নিতে হবে, এতে তুমি কিছুটা ঝামেলামুক্ত থাকবে। পরীক্ষার হলে শান্ত শিষ্ট থাকতে হবে, কেননা উদ্বিগ্নতা তোমাদের টেনশন বাড়িয়ে উষ্ণ শিহরনে হতভম্ব করে দিতে পারে!এতে যা শিখে এসেছ বা পড়েছ গোলমাল সৃষ্টি হয়ে অধরায় রয়ে যেতে পারে সকল সূর-সকল অনুভূতি! প্রশ্নটি মিনিমাম দু'বার ভালো করে পড়ে নিতে হবে, এতে তোমাদের মস্তিষ্কে প্রশ্ন রিলেটেড পড়াগুলো রিমাইন্ডেড হতে শুরু করবে। অনেক শিক্ষার্থীরা মনে করে যে শিক্ষকরা না পড়েই নম্বার দেন, আসলে শিক্ষকরা নম্বার প্রদানের ক্ষেত্রে খুবই সচেতন। আবার অনেক শিক্ষার্থী উত্তর না জেনেই খাতা ভড়িয়ে লিখে ফেলে, তাই প্রতিটি শিক্ষার্থীর উচিত স্পেসিফিকভাবে প্রশ্নের উত্তর দেওয়া অর্থাৎ অযথা খুব বড় করার চেষ্টা না করে প্রয়োজনীয় অংশটুকু লেখার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি বইয়ের কথাগুলো সাবলিল ভাষায় উল্লেখ করা এবং কাল্পনিক গল্প-কাহিনী উপস্হাপন না করাই একজন শিক্ষার্থীর স্বার্থকতা। প্রিয় বন্ধুরা! আমি আবারও বলছি, ভালো করে তোমাদের নাম, রোল, রেজিট্রেশন ও হল শিক্ষকের সাইন যাচাই করতে ভুলবেননা। শিক্ষা ক্রমবর্ধমান একটি উন্নত আর্ট, যারা সর্বাবস্থায় নিজেকে স্হীর রেখে প্রতিভার বিকাশ ঘঠাতে পারে তাদেরকে কেউ ঠেকাতে পারেনা। 

লেখক: হাফিজ আমিনুল ইসলাম। জুড়ী-মৌলভী বাজার।


No comments: