বাবা তোর জন্য আমারও মনটা কাঁদছে

প্রায় দুই মাস হতে চলছে সন্তানদের কাছ থেকে দূরে রয়েছি। ঢাকায় সাক্ষ্য প্রদানের জন্য সন্তানদের কাছে যাওয়ার সুযোগও পেয়েছিলাম। তাই আজ সকাল ০৮.৪৫ মিনিটের বাসের টিকেটও নিশ্চিত করলাম। নির্ধারিত সময়ের আগেই বাস কাউন্টারে যাওয়ার জন্য ব্যাগ পোটলা গুছিয়ে দীর্ঘ দিন পর পরিবারের স্পর্শে যাব এমন ভাল লাগায় বাসা থেকে বের হব ঠিক এমন সময় মোবাইলে সংবাদ আসে থানা কোন এক চা বাগান এলাকায় হত্যা কান্ডের ঘটনা ঘটেছে। অফিসার ইনচার্জ সাহেবও বিষয়টি আমাকে নিশ্চিত করেন। পরিবার তথা মা, ভাই, বোন,স্ত্রী, সন্তানদের স্পর্শে যাওয়ার অনুভূতি নিমিশেই ম্লান হয়ে গেল। ব্যাগ পোটলা রেখে দ্রুত ইউনিফর্ম পরিধান করে থানায় এসে অফিসার ইনচার্জ সেকেন্ড অফিসারসহ দ্রুত ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওয়ানা করে লাশের সুরতহাল করে ময়নাতদন্তের জন্য প্রেরণ করে কে বা কাহারা হত্যা কান্ডে জড়িত তা উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরু করি। কিছু কিছু তথ্য পেতে শুরু করি। সকাল গড়িয়ে বিকাল,বিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা নেমে এল। দুপুরের খাবারের সময় টুকু পাওয়া গেল না। এদিকে আমার ছোট্ট বাবাটা তার বাবার জন্য প্রতীক্ষার সময় গুনছে। সে এখনো জানেনা তার বাবা আজ আসবেনা। ছোট ছেলে বাড়ী আসবে বলে মাও ভাল কিছু রান্না করে রেখেছে। কেউ গেটে আসলে ছেলেটা আমার দৌড়ে গেটে গিয়ে দেখছে এই বোধ হয় তার বাবা এসেছে। কিন্তু না তার বাবা বাড়ী যেতে পারেনি। দায়িত্ববোধ আর পেশাদারিত্বের শৃঙ্খলে তার বাবা হত্যা কান্ডে জড়িত আসামীর সন্ধানে ব্যস্ত। আল্লাহর রহমতে দ্রুত সময়ের মধ্যে ঘটনার রহস্য উম্মোচিত হল। ঘটনায় জড়িত চারজনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হলাম।এর মধ্যে দুই জন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করিতে ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। বাবা আসবে এই আনন্দে বাবাটা হয়ত ঘুমিয়ে পড়েছে। আর আমি এখনও থানায় বসে কাজে ব্যস্ত। থাক বাবা মন খারাপ করিস না। আমি আসব তোর কাছে।বাবা তোর জন্য আমারও মনটা কাঁদছে।


***লেখাটি আজ রাত ১ টা ২১ মিনিটে নিজ ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন জুড়ী থানার ওসি তদন্ত আমিনুল ইসলাম সেলিম ###  

No comments: