বন ফায়ারের মধ্যদিয়ে শেষ হল প্রানের উৎসব; কলকাতায় বিশ্ব সিলেট উত্সব ২০১৯

সাইফুল ইসলাম সুমন, কলকাতা থেকে ফিরেঃ তিনদিনব্যাপী বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্যদিয়ে শেষ হলো কলকাতায় “বিশ্ব সিলেট উত্সব ২০১৯”। দক্ষিণ কলকাতা সিলেট অ্যাসোসিয়েশনের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে যোধপুর পার্ক বয়েজ স্কুল প্রাঙ্গণে আয়োজন কর হয় এই উত্সব। ভারত, বাংলাদেশ ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী সিলেটীরা এই উত্সবে অংশ গ্রহণ করেন। গত শুক্রবার ২৭ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় কনকনে শীতের আমেজে আর বর্ণাঢ্য আয়োজনে কলকাতায় গ্লোব ঘুরিয়ে তিনদিনব্যাপী বিশ্ব সিলেট উত্সবের শুভ উদ্বোধন করেন ভারতের ছত্তিশগড় রাজ্যের প্রাক্তন রাজ্যপাল শেখর দত্ত এবং সিলেটের মেয়র আরিফুল হক। অপরদিকে গত রবিবার ২৯ ডিসেম্বর রাত ১১ টায় বন ফায়ারের মধ্যদিয়ে শেষ হয় এই প্রানের উৎসব। 

তিনদিনব্যাপী এই প্রানের উৎসবে ছিলো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোচনা সভা, সেমিনার, বাংলাদেশ সন্ধ্যা, গুণীজন সংবর্ধনা, প্যানেল ডিসকাশন, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের সিলেট সফরের শতবর্ষ উপলক্ষে বিশেষ সিরিজ সেমিনার, ‘কালচারাল হেরিটেজ অব সিলেট’ বিষয়ক প্যানেল ডিসকাশন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেন বাংলাদেশ ও ভারতের প্রখ্যাত শিল্পীবৃন্দ। এ ছাড়া যুক্তরাজ্য থেকে হিমাংশু গোস্বামীসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত সিলেটী বংশোদ্ভূত প্রখ্যাত শিল্পীরা অংশ নেন। সিলেট থেকে অংশগ্রহণ করেন উৎপলা দাস, রুমা নাগ, রানা সিংহ, লাভলি দেব, তন্নি দেব, প্রতীক এন্দো প্রমুখ। ভারত থেকে অংশ নেন জি বাংলা সারেগামা বিজয়ী দেবজিৎ সাহা, অধ্যাপক মোহন সিং, নৃত্যশিল্পী সোনালী আচার্য, মিরাক্কেল বিজয়ী তপন দাস, মাদল, শ্রীভূমি। এছাড়াও প্রজন্মের কথা, স্মৃতিচারণ, ভারত-বাংলাদেশের সুধিজনের অনুভূতি, গান, নৃত্য, সাহিত্য, ছড়া, কৌতুক, গীতনৃত্যনাট্য, নাটক, চলচ্চিত্র, ধামাইল, মণিপুরী নৃত্য ইত্যাদি অনুষ্ঠিত হয়। 

শুধু সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোচনা নয় উৎসবে পাওয়া যায় সিলেটি রান্নার বিভিন্ন পদ আস্বাদ করার সুযোগ। এছাড়াও ছিলো সিলেটের ঐতিহ্যবাহি মনিপুরি তাঁত সহ নানা বস্ত্র সামগ্রির কেনাকাটার সুযোগ। উৎসবের এই তিনটি দিন কলকাতার বুকে উঠে আসে মিনি সিলেট।

উক্ত অনুষ্ঠানমালায় উপস্থিত ছিলেন- তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রাশেদ কে চৌধুরী, দৈনিক সমকাল পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি, ভারত সরকারের শীর্ষ অর্থনীতিবিদ বিবেক দেবরায়, লোকসভার সদস্য মালা রাজদীপ রায়, যুগশংখ পত্রিকার চেয়ারম্যান বিজয় কৃষ্ণ নাথ, কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ আব্দুস সালাম বীরপ্রতীক, অল ইন্ডিয়া শ্রীহট্ট সম্মিলনীর সভানেত্রী কৃষ্ণা দাস, আসামের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর ড. অমলেন্দু চক্রবর্তী, দক্ষিণ কলকাতা সিলেট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি প্রদোষ রঞ্জন দে, সাধারণ সম্পাদক বাপ্পু এন্দো, সাংস্কৃতিক সম্পাদিকা দীপ্তা দে, মিডিয়া কনভেনর রক্তিম দাশ, জার্মানী প্রবাসী সাকি চৌধুরী, কানাডা প্রবাসী শেখর চৌধুরী, আমেরিকা প্রবাসী অধ্যাপক ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ  প্রমুখ।  

এ উৎসবে ভারত, বাংলাদেশ এবং বহির্বিশ্বে অবস্থানকারী  বৃহত্তর সিলেটের অধিবাসীদের এক বিশাল মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই উৎসবের ফলে প্রবাসী সিলেটি অধিবাসীগণ ও জনগণের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধি পেয়েছে, তাছাড়াও সিলেটী জনগোষ্ঠীর সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য, সামাজিক দায়িত্ববোধ, ঐক্য, ভ্রাতৃত্ববোধ, সহমর্মিতা দেশাত্ববোধ ও সহ অবস্থানের ভাব গড়ে উঠছে। 

No comments: