নিজ দেশের দেবী শেঠিদের ক’জন চেনেন !

জুড়ী টাইমস সংবাদঃ আমাদের দেশের প্রায় প্রতিটি মানুষই ভারতের প্রখ্যাত হার্ট সার্জন ডা. দেবীপ্রসাদ শেঠি বা দেবী শেঠির নাম জানে। তিনি যে অভিনেত্রী শিল্পা শেঠির ভাই নন, এটাও কেউ কেউ জানেন। যদিও ডা. দেবী শেঠি হার্টের সার্জন, তবুও হার্টের যেকোনো সমস্যায় বাঙ্গালির পরম আস্থার যায়গা এই ডা. দেবী শেঠি। এই আস্থা উনি অর্জন করেছেন উনার নিজ যোগ্যতায়, তাঁকে স্যালুট
আমাদের দেশেও কিন্তু হৃদয়ের (হার্ট) অপারেশনসহ সবধরনের চিকিৎসাই হয়। হাজার হাজার মানুষ এই চিকিৎসায় সুস্থ হচ্ছেন। কিন্তু আমরা কতজন আমাদের দেশের এই ডাক্তারদের নাম জানি? আজ আমি বাংলাদেশের দুইজন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ এর কথা বলবো। 

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. আব্দুল মালিক
বাংলাদেশ তথা অবিভক্ত পাকিস্তানের প্রথম হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ। তিনিই প্রথম ১৯৬৬ সনে পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডি সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে হৃদরোগ ইউনিট প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৭০ সনে তৎকালীন পুর্বপাকিস্তানে ফিরে তিনি পিজি হাসপাতালে (বর্তমান বিএসএমএমইউ) কার্ডিওলজি বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেন, এবং ১৯৭৮ পর্যন্ত সেখানে প্রফেসর এবং বিভাগীয় প্রধান হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৭৬ থেকে ২০০০ সন পর্যন্ত তিনি ছিলেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার Member of Expert Panel Committee on Cardiovascular Disease.
১৯৭৮ সনে তাঁর নেতৃত্বেই প্রতিষ্ঠিত হয় National Institute of Cardiovascular Disease যা হৃদরোগ হাসপাতাল নামেই বেশী পরিচিত। এখানে তিনি ১৯৮৯ সন পর্যন্ত পরিচালক এবং প্রফেসর হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর চিকিৎসায় হাজার হাজার হৃদরোগী সুস্থ হন।

১৯৭৮ সনেই তিনি আরেকটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেন, যার নাম National Heart Foundation. আজ অবধি তিনি এই ফাউন্ডেশনের অনারারী সেক্রেটারী জেনারেল এর দায়িত্ব পালন করছেন। বেসরকারি পর্যায়ে নেশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনেই সবচেয়ে কম খরচে হার্টের সবচেয়ে ভাল চিকিৎসা হয়।
হৃদরোগ চিকিৎসায় অসামান্য অবদানের জন্য তিনি ২০০৪ সনে স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. নুরুন্নাহার ফাতেমা
শিশু হৃদরোগ চিকিৎসায় বাংলাদেশের জীবন্ত কিংবদন্তি। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তথা দেশের একজন প্রথম সারির Pediatric Interventional Cardiologist. ২০১৪ সনের ১ জানুয়ারি তাঁর হাত ধরেই বাংলাদেশে বাচ্চাদের হার্টের একটা জন্মগত ত্রুটির চিকিৎসার ইতিহাস সৃষ্টি হয়। এইদিনে তিনিই প্রথম ৫ বছর বয়সী একটি বাচ্চার হার্টে Live valve প্রতিস্থাপন করেন, বুক না কেটে। এই অপারেশনটি তার আগে এশিয়া মহাদেশে শুধুমাত্র সৌদি আরবের দুইটা সেন্টারে হতো। দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালেই প্রথম সাফল্যের সাথে এই অপারেশনটি করা হয়।

জেনে রাখা ভাল, লাইভ ভাল্ব প্রতিস্থাপন না করলে এই রোগের চিকিৎসায় একটা বাচ্চাকে প্রতি ৩-৪ বছর পর পর ওপেন হার্ট সার্জারীর মাধ্যমে ভাল্ব প্রতিস্থাপন করতে হয় কমপক্ষে ৪ থেকে ৫ বার। যা একটি শিশুর জন্য ভয়ংকর অভিজ্ঞতা। শিশু হৃদরোগের চিকিৎসায় অসামান্য অবদানের জন্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নুরুন্নাহার ফাতেমা এই বছর স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন। 

আমাদের দেশের চিকিৎসক এবং চিকিৎসা ব্যাবস্থাপনার যথেষ্ট ত্রুটি বিচ্যুতি আছে, একথা অনস্বীকার্য। কিন্তু পাশাপাশি আমাদের সাফল্যের পাল্লাও কম ভারী নয়। এমন ব্রিঃ জেনারেল মালিক বা ব্রিঃ জেঃ নুরুন্নাহারের মত ডাক্তার দেশে অনেক আছেন। যারা কোনো পুরস্কারের আশা না করেই নীরবে আমাদেরকে সেবা দিয়ে চলছেন। যাদের চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে প্রতিদিনই বাড়ি ফিরছেন হাজার হাজার মানুষ। তাই ঢালাওভাবে দেশীয় চিকিৎসকদের সমালোচনা না করে যদি তাঁদের ভাল কাজগুলিকে যথাযথ মূল্যায়ন করি তাহলে অন্যরাও ভাল কাজ করার অনুপ্রেরণা পাবেন।


No comments: