জুড়ীতে শিক্ষিকা মাছুমা আক্তার মুক্তা’র প্রশংসনীয় কার্যক্রমের ভিডিও ভাইরাল

জুড়ী টাইমস সংবাদ: মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী উপজেলার সাগরনাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষিকা মাছুমা আক্তার মুক্তা’র প্রশংসনীয় কার্যক্রমের একটি ভিডিও অনলাইনে ও সোস্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে ঐ শিক্ষিকার বেশকিছু ব্যতিক্রমী ও প্রশংসনীয় কার্যক্রম দেখা যায়। স্কুলের কোমলমতি বাচ্চাদেরকে আদর করে করে ক্লাসে ঢুকাতে দেখা যায় ঐ শিক্ষিকাকে।  ভিডিওতে দেখা যায় তিনি ছোটছোট শিক্ষার্থীদেরকে হ্যান্ডশেক করে এবং তাদেরকে আদর করে কাছে টেনে অভিবাদন জানিয়ে ক্লাসে ঢুকাচ্ছেন।

ভিডিওটি অনলাইনে ও সোস্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকহারে শেয়ার হচ্ছে এবং প্রশংসিত হচ্ছে। ভাইরাল হওয়া ঐ ভিডিওতে অনেকেই নানান ইতিবাচক মন্তব্য করছেন।  একজন লিখেছেন- ‘যুগান্তকারী পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানাই।  এরকম শিক্ষক প্রতিটি স্কুলে যদি থাকে তাহলে সু-শিক্ষিত সু-নাগরিক দ্রুত তৈরি হবে’।

আরেকজন মন্তব্য করেছেন- ‘খুব ভালো লাগলো দেখে।  ছাত্রছাত্রীরা উপস্থিতি বায়োমেট্রিক হাজিরা দিয়ে শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি হওয়া, এভাবে শিক্ষক আন্তরিক থাকলে দেশ ও জাতি উন্নতি লাভ করবে।  ধন্যবাদ ম্যাডাম।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাগরনাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষিকা মাছুমা আক্তার মুক্তা বলেন- ‘আমি চাই স্কুলে এসে বাচ্চারা যেন আনন্দের সাথে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে।  স্কুলের প্রতি আগ্রহী ও আন্তরিক হয়।  আমি তাদেরকে ক্লাসে এবং ক্লাসের বাহিরেও বিভিন্নভাবে পড়ালেখা ও ক্লাসের প্রতি মনযোগী হতে উদ্বুদ্ধ করি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের বিদ্যালয়ে এখন শিক্ষার্থীরা আনন্দের সাথে শ্রেণীকক্ষে আসে এবং পাঠ গ্রহণ করে।  আমার বিশ্বাস এ প্রজন্মের যেসব শিক্ষার্থী স্কুলে পড়ার সুযোগ পাচ্ছে তারা ভবিষ্যতে দেশের উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারবে।’

সাগরনাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা প্রভাসিনী মোহন্ত বলেন, ‘আমাদের সহকারি শিক্ষিকা মাছুমা আক্তার মুক্তা’র শিক্ষার্থীদের প্রতি আন্তরিকতার এমন প্রশংসনীয় কার্যক্রমে আমরাও প্রশংসিত হয়েছি। আগে যেসব শিক্ষার্থীরা নিয়মিত স্কুলে আসতে চাইতো না, তারাও এখন নিয়মিত স্কুলে আসছে।’

এবিষয়ে জুড়ী উপজেলা শিক্ষা অফিসার মন্তোষ কুমার দেবনাথ বলেন- ‘এটা আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য খুবই সুখকর বিষয়। আমরা খুবই আনন্দিত হয়ে বলছি যে, প্রাথমিক শিক্ষাকে আরও বেশি উদ্বুদ্ধ করার জন্য এমন কার্যক্রম যেন ছড়িয়ে পড়ে। এমন সৃজনশীল কার্যক্রম দেশের প্রাথমিক শিক্ষাকে আরো উন্নত ও আকর্ষণীয় করবে।’


No comments: