জুড়ীতে কমলা চাষের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় করলেন সিলেট বিভাগীয় কমিশনার

সাইফুল ইসলাম সুমন: সিলেট বিভাগীয় কমিশনার মো. মোস্তাফিজুর রহমান পিএএ বলেছেন, জুড়ীতে কমলাকে ঘিরে একটা পর্যটন শিল্প গড়ে তোলার অপার এক সম্ভাবনা রয়েছে। পর্যটকদের আগ্রহী করতে এই অঞ্চলের কমলা বাগানগুলোকে সাজানো হবে। কমলাকেন্দ্রিক একটা ইকো ট্যুরিজম গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বুধবার (২৭ নভেম্বর) সকাল ১১টায় জুড়ী উপজেলার গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নের লালছড়া এলাকায় উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের আয়োজনে কমলা চাষের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে কমলা চাষীদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথাগুলো বলেন। 

সিলেট বিভাগীয় কমিশনার মো. মোস্তাফিজুর রহমান পিএএ কমলাচাষীদের উদ্দেশ্যে বলেন, কমলা চাষ এই অঞ্চলের একটি ঐতিহ্য। বন্যপ্রাণী ও বনজ সম্পদ রক্ষা করে কমলা চাষিদের সচেতন হয়ে চাষাবাদ করতে হবে। কমলা চাষের সকল সমস্যা ও সমাধানের জন্য আজকের এই মতবিনিময় সভা। শুধু ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভর করলে হবে না। জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদসহ অন্যান্য প্রকল্পের মাধ্যমে কমলাচাষিদের আর্থিক সহযোগিতা করা হবে। কমলা বাগানের পানি ও যাতায়াত ব্যবস্থার সমস্যা অচিরেই সমাধান করা হবে। এই কমলাকেই কেন্দ্র করে এই অঞ্চলে একটি পর্যটন শিল্প গড়ে তোলা হবে। যদি কমলাকে নিয়ে পর্যটন শিল্পের বিকাশ সঠিকভাবে ঘটানো যায় তবে পর্যটক ঠেকানো যাবে না। 

মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক নাজিয়া শিরিন এর সভাপতিত্বে ও জুড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অসীম চন্দ্র বনিকের পরিচালনায় মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য রাখেন মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খোদেজা খাতুন, জুড়ী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ মোঈদ ফারুক, সহকারী কমিশনার (ভূমি) নূসরাত লায়লা নীরা, সহকারী পুলিশ সুপার মো: হুমায়ুন কবির, জুড়ী থানার ওসি জাহাঙ্গীর হোসেন সরদার, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন, গোয়ালবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান শাহাব উদ্দিন লেমন, জুড়ী রেঞ্জের বন কর্মকর্তা মো. এনামুল হক, উপজেলা জনস্বাস্থ্য উপ-সহকারী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম, কমলা চাষী বাবুল মিয়া, মোর্শেদ মিয়া প্রমুখ। 

মতবিনিময় সভায় কমলা চাষিরা তাদের সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে বলেন, এবারকার কমলা ফলনে আমরা লাভবান হচ্ছি। তবে কমলায় অনেক সময় পোঁকায় আক্রান্ত হয়। তখন কিছু কমলা নষ্ট হয়ে যায়। এ ছাড়া এই বাগানে কমলার বাইরেও আদালেবু, বাতাবি লেবু, মাল্টা, লেবুও সম্ভাবনাময় ফল রয়েছে। বাগান এখনো সঠিকভাবে সৌন্দর্য্য করতে পারিনি। বনভূমি থেকে সরকার যদি বাগান করার জন্য জমি লিজ দেয় তাহলে আমরা সুন্দরভাবে বাগান করতে পারবো। আমাদের জমির কোনো কাগজাদি নাই তাই ব্যাংক থেকে কোন ঋণ নিতে পারছি না। পানির ও রাস্তার সমস্যা রয়েছে বেশি। বছরে এই জুড়ী অঞ্চল থেকে ৩-৪ কোটি টাকার কমলাসহ বিভিন্ন ফল বিক্রি করা হয়। দেশের বিভিন্নপ্রান্তে কমলা বাজারজাত করা হচ্ছে এবং আমরা জীবিকা নির্বাহ করছি। 


No comments: