জুড়ীতে লিচুর বাম্পার ফলন

বিশেষ প্রতিনিধিঃ জুড়ী উপজেলায় লিচুর বাম্পার ফলন হয়েছে। সদর জায়ফরনগর, পশ্চিম জুড়ী, পূর্ব জুড়ী, গোয়ালবাড়ী, সাগরনাল ও ফুলতলা এই ৬টি ইউনিয়ন সঠিক সময়ে বৃষ্টি হওয়ায় লাল রঙের মিষ্টি বড় লিচু, ছোট বিচির মাঝারি আকৃতির টক-মিষ্টি লিচুর ব্যাপক ফলন হয়েছে। এছাড়াও বাণিজ্যিক ভিত্তিতে লিচুর চাষ শুরু হয়েছে জুড়ী উপজেলায়। কৃষকের উৎপাদিত লিচু জুড়ী উপজেলার চাহিদা মিঠিয়ে সিলেট-সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রপ্তানী হচ্ছে।

অভিজ্ঞ লিচু চাষি পাতিলাসাঙ্গন গ্রামের হাজী জসিম উদ্দিন জানান, এক বছর ফলন বেশি হলে পরের বছর ফলন কম হয়। কিন্তু গত কয়েক বছরের তুলনায় এবছর লিচুর বাম্পার ফলন হওয়ায় পাইকার যেমন লাভবান, সাধারণ ক্রেতা ও এ বার কম দামে লিচু ক্রয় করতে পারছে। গত বছরের তুলনায় এবছর অর্ধেক দামে ক্রয় করতে পারছে। ১শ’টি ছোট ও বড় লিচু ৬০-১২০ টাকা মূল্যে সাধারণ ক্রেতারা ক্রয় করতে পারছে। গত বছর লিচুর ফলন কম ছিলো প্রতি ১শ’টি লিচু ১৫০-২৫০ টাকা মুল্যে বিক্রয় হয়েছিলো। ২০১৮ সালে ১০টি গাছের লিচু বিক্রয় করেছেন ১৫ হাজার টাকা। পাইকারের কাছে, এবার ওই ১০টি লিচু গাছের লিচু বিক্রয় হয়েছে ২৫ হাজার টাকা। ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার বলেন, বাজারের লিচুর দাম কম হলেও হাজী জসিম উদ্দিনের বাড়ীর লিচু ভালো মানের হওয়ায় এ বার বিক্রয় আনুমানিক ৪৫ হাজার টাকা হবে।

এদিকে বাণিজ্যিক ভাবে লিচুর বাগান করেন, পূর্ব জুড়ী ইউনিয়নের নাসির উদ্দিন ও কমর উদ্দিন ২০১৫ সালে প্রায় ১ একর ২০ শতক জমিতে ৫০০টি উন্নত জাতের রাজশাহীর লিচু গাছ রোপন করলে এবার ২৫০টি গাছে লিচু ভালো হয়েছে। ওই বাগানে লিচু বিক্র করেছে ব্যবসায়ী সুইয়াইব আলী ও আবুল কালামের কাছে ২০ হাজার টাকা। ব্যবসায়ী সুইয়াইব আলী জানান, নতুন বাগানে বিভিন্ন জায়গা থেকে লোক আসে লিচু বাগান দেখার জন্যে তাদের কাছে’ই বিক্রয় করছি এবার ৩০-৩৫ হাজার টাকার মতো। আমরা আশা করছি আগামী বৎসরে এই লিচু বাগানে ভালো ফলন আসলে  ৫০-৬০ হাজার টাকা হবে।

এবিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষ্ণ রায় এর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, জুড়ী উপজেলায় ১৪১টি গ্রামের প্রায় ৮০টি গ্রামে ৩২ হেক্টর লিচু বাগানে ২শ ২৪ মেট্রিকটন লিচু উৎপাদন হয়েছে। লিচুর ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকসহ সাধারণ ক্রেতারা খুব আনন্দিত।

No comments: