ওরা আমাকে নির্জন একটি ঘরে হাত-পা বেঁধে আটকে রেখেছিল !


রাজবাড়ী গোয়ালন্দ হতে অপহরণ হওয়া জসিম উদ্দিন (৪৫) নামের এক চাকুরীজীবিকে গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ মঙ্গলবার রাজশাহী হতে উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় অপহরণ চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার ও মুক্তিপণ বাবদ আদায় করা ৩০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

এ ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া আসামীরা হলো, রাজশাহীর শাহ মোখদুম থানার মধ্য নওদা পাড়ার ১৭নং ওয়ার্ডের আরমান আলীর ছেলে জিল্লুর রহমান বিপ্লব (৩৩), বিপ্লবের স্ত্রী কাকলী বেগম (৩০) ও রাজশাহীর বোয়ালীয়া থানার শাল বাগান পাওয়ার হাউজ মোড় এলাকার ১৮নং ওয়ার্ডের মো. তাহাজুল ইসলাম টোকনের ছেলে শরীফুল ইসলাম শরিফ (২২)। গ্রেফতারকৃত আসামীদের বুধবার রাজবাড়ীর আদালতে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি এজাজ শফী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অপহরণ হওয়া শেখ মো. জসিম উদ্দিন গোয়ালন্দ উপজেলার পূর্ব উজানচর গণি শেখের পাড়ার মৃত শেখ মো. নুরুদ্দিন আহম্মেদের ছেলে। তিনি হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর থানায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করেন।

গত ২৪ মার্চ বাড়ী থেকে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে অপহরণকারী চক্র তাকে কৌশলে অপহরণ করে রাজশাহীতে নিয়ে যায়। এরপর ২৫ মার্চ অজ্ঞাত অপহরণকারীরা জসিমের ছোট ভাই জাহিদুর রহমানের মোবাইলে ফোন করে ২০ হাজার টাকা দাবী করে। অন্যথায় জসিমকে হত্যা করে লাশ পদ্মা নদীতে ফেলে দেয়ার হুমকি দেয়। জাহিদ দ্রুত ১৫ হাজার টাকা বিকাশে পাঠানোর পর ওই চক্র আরো ৪০ হাজার টাকা দাবী করে।

ভাইয়ের প্রাণ বাঁচাতে বহু কষ্টে সে টাকাও বিকাশে পাঠানোর পর অপহরণকারীরা এবার ১ লক্ষ টাকা দাবী করে। এরপর জাহিদ থানা পুলিশকে লিখিত ভাবে জানায়। থানা পুলিশ প্রযুক্তির মাধ্যমে বিকাশের নম্বরগুলো যাচাই করে অপহরণকারীদের অবস্থান রাজশাহীর শাহ মোখদুম থানা এলাকাকে চিহ্নিত করি। এরপর থানার এসআই শহর আলীর নেতৃত্বে একটি দল ওইদিন রাতেই সেখানে গিয়ে শাহ মোখদুম থানা পুলিশের সহায়তায় বিকাশের লেনদেনকারী দোকান একে স্টেশনারীকে খুঁজে বের করে।

২৬ মার্চ সকালে পুলিশ ওই দোকানে গিয়ে বিকাশের টাকা নিয়ে যাওয়ার কথা বলে অপহরণকারী দলের সদস্য কাকলী বেগম (৩০) ও শরিফুল ইসলাম শরিফকে (২২) দোকান মালিককে দিয়ে ডেকে এনে গ্রেফতার করে। পরে তাদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী চক্রের অপর সদস্য কাকলীর স্বামী জিল্লুর রহমান বিপ্লবকে (৩৩) গ্রেফতার ও এলাকার একটি ফাঁকা বাড়ী হতে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এরপর তাদের কাছ থেকে মুক্তিপণ বাবদ আদায় করা নগদ ৩০ হাজার টাকা উদ্ধার ও বাকী ২৫ হাজার টাকা বিকাশ লক করে দেয়া হয়।

এ ঘটনায় আসামীদের বিরুদ্ধে ৩৬৪/৩৬৭/৩৮৫/৩৮৬/৩৬ নং ধারায় প্যানাল কোড মামলা দায়েরের পর বুধবার রাজবাড়ীর ২ নং আমলী আদালতের জিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্টেটের কাছে পাঠানো হয়েছে।

উদ্ধার হওয়া জসিম উদ্দিন জানান, অপহরণকারীরা আমাকে নির্জন একটি ঘরে হাত-পা ও চোখ-মুখ বেঁধে আটকে রেখেছিল। আমি তাদের হাত থেকে আর বেঁচে ফিরবো কিনা সংশয়ে ছিলাম। আমাকে দ্রুত উদ্ধার করার জন্য উভয় থানা পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। 

No comments: