জুড়ী প্রি-ক্যাডেট একাডেমীর শিক্ষা সফর অনুষ্ঠিত

সাইফুল ইসলাম সুমনঃ শিক্ষা সফরের মাধ্যমেই  শিক্ষা অর্জন সম্ভব। সফর একটি আরবি শব্দ। ইংরেজি অর্থ ট্যুর। বাংলায় ভ্রমণ। শিক্ষা সফর মানব জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। এমনকি এক কথায় বলা যায় যে, সফর মানব সভ্যতার এক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। অজানাকে জানার জন্যে, অদেখাকে দেখার জন্যে, পরিচিত গন্ডির বাইরে অপরিচিত জগৎটাকে দেখার জন্যে, অন্তরের আকুল আগ্রহ নেই এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না। জীবনের সাথে শিক্ষার সম্পর্ক যেমন নিবিড়, শিক্ষার সাথে সফরের সম্পর্কও তেমনি নিবিড়। তাই সফর শিক্ষার অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। শিক্ষার প্রতিটি ক্ষেত্রেই সফরের গুরুত্ব রয়েছে। শিক্ষা সফরের মাধ্যমে মানুষের অসম্পূর্ণ ও আবদ্ধ জ্ঞান বিকাশ লাভের সুযোগ পায়। শিক্ষা সফর একজন শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবনকে করে আনন্দময় ও পরিপূর্ণ। শিক্ষা সফরের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা সুযোগ পায় নিজের দেশ ও জাতির ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি তথা নিজের শেকড় সম্পর্কে জানতে।

পুঁথিগত বিদ্যার বাইরে বিভিন্ন বিষয়ের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার মধ্যেই রয়েছে শিক্ষার সম্পূর্ণতা। সম্প্রতি শিক্ষা সফরের আয়োজন করে জুড়ী প্রি-ক্যাডেট একাডেমী। ১৯ ফেব্রুয়ারি শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন স্থানে দিনব্যাপী শিক্ষা সফরে অংশগ্রহণ করেন জুড়ী প্রি-ক্যাডেট একাডেমীর শতাধিক শিক্ষার্থী/শিক্ষক-শিক্ষিকা/অভিভাবক। ওইদিন হালকা কুয়াশা পড়া সকালে সবাই এসে উপস্থিত হয় প্রি-ক্যাডেট একাডেমীতে। ঘড়ির কাঁটা তখন সকাল ৭টায় যেন থেমে আছে। ধীরে ধীরে মোটামুটি সবার আসা নিশ্চিত হওয়ার পর প্রি-ক্যাডেট একাডেমীর সম্মুখ থেকে সকাল ৯টায় যাত্রা শুরু হয় শ্রীমঙ্গলের বিটিআরআই এর উদ্দেশে। শতাধিক শিক্ষার্থীসহ দুটি বাস গন্তব্যের দিকে যাচ্ছে। কারো চোখে হয়তো তখনো ঘুম লেগে আছে, কিন্তু বাসে ওঠার পর হইচই আর আনন্দে সেই ঘুম উধাও হয়ে গেল। আর সবকিছুর সঙ্গে গান তো রয়েছেই। শিউলী আক্তারের নির্দেশনায় একে একে গান পরিবেশন করেন তৃষ্ণা রানী কর, লাকী রানী কর, পলি রানী, কুলছুমা আক্তার তান্নি, সুমি বেগম, শিক্ষার্থী মাহবুবা জান্নাত ছামিয়া, প্রার্থনা দেবী পিউ, মাছুমা আক্তার, আরিয়ানা, আরাবি, নিশাত, ফাতেমা, আয়শা, মুছা, খাদিজা, লিজাসহ অনেকেই। বাস চলছে সেই সঙ্গে চলছে গল্প, আনন্দ আর গান। পান খাওয়ার দৃশ্যটাও চোখে পড়ার মতো। কেউবা বাসের ভেতরেই ছবি তোলায় ব্যস্ত। ততক্ষণে গাড়িটি কুলাউড়া শহর পেরিয়ে গিয়েছে। হালকা ঠান্ডা আবহাওয়া যেন সায় দিচ্ছে শিক্ষা সফরের আনন্দকে। ঘড়ির কাঁটা বেলা ১১টা ছুঁই ছুঁই করছে, তখন মাইকে ঘোষণা দেয়া হলো আর কিছুক্ষণের মধ্যে শ্রীমঙ্গলের বিটিআরআই এ প্রবেশ করবে বাস। ঘোষণা শোনামাত্রই সবাই একসঙ্গে আনন্দধ্বনি করে উঠল। বাস এসে থামল শ্রীমঙ্গলের বিটিআরআই এর একটু আগে। সব শিক্ষার্থী বাস থেকে নেমে জড়ো হলো সেখানে। এবার শ্রীমঙ্গলের বিটিআরআই ফটকের সামনে সবাই হাজির। একে একে সবাই প্রবেশ করল বটিআরআই এর ভেতর। সেখানে জমায়েত হওয়ার পর উপস্থিত জুড়ী প্রি-ক্যাডেট একাডেমীর প্রধান শিক্ষক জসিম উদ্দিন শিক্ষার্থীদের নির্দেশনা দিলেন কীভাবে ছবি, ভিডিও ফুটেজ, তথ্য ইত্যাদি সংগ্রহ করতে হবে। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষার্থীরা নিজেদের কাজ শুরু করলেন। নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেয়া হলো, যাতে সেই সময়ের মধ্যে ঘোরাঘুরি আর ছবি তোলা শেষ করা যায়। নিজেদের প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি ঘুরে দেখার জন্যও পর্যাপ্ত সময় রয়েছে। ঐতিহাসিক এ স্থানটির ভবনগুলো অপূর্ব। প্রতিটি জায়গার পরতে যেন সৌন্দর্যের ছোঁয়া। যেন ঐতিহ্যের সাক্ষী হয়ে ঠায় দাঁড়িয়ে আছে বিটিআরআই। বিটিআরআইতে ঘোরাঘুরি শেষে সবাই ধীরে ধীরে দুটি বাসে এসে উঠে। এবার শ্রীমঙ্গল বদ্ধভূমির উদ্দেশে যাত্রা শুরু হয়। যেখানে ১৯৭১ সনে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পশ্চিম পাকিস্তানের হানাদার বাহিনি গণহত্যা চালায়। আমরা ১০/১৫ মিনিটের মধ্যেই পৌছে গেলাম শ্রীমঙ্গল বদ্ধভূমিতে। বদ্ধভূমিতে ঘুরে দেখতে দেখতে কখন যে দুপুর হয়েছে কেউ টের পায়নি। তখন ঘড়ির কাঁটা বেলা ২টা ছুঁই ছুঁই করছে। তবে আমাদের সবার প্রিয় অমিত ও মোমেন স্যারের পেটের ক্ষুধা জানান দিচ্ছে সময় হয়েছে। জুড়ী থেকে রান্না করা খাবার গাড়ীতে রয়েছে। তাই বদ্ধভূমির পাশেই ছড়িয়ে ছিটিয়ে বসে সবাই দুপুরের আহার পর্ব সেরে নিল। এর পর আমরা গেলাম রতিশ বাবুর চিড়িয়া খানায়। যেখানে রয়েছে অসংখ্য দেশী-বেদেশী প্রানী ও বৃক্ষরাজী। শিক্ষার্থীরা এই সব প্রানী দেখে হতবাক হয়েগেছে। তারা যেন এক অন্যরকম জগতে প্রবেশ করলো। সবাই যার যার পছন্দ মতো প্রানী সঙ্গে ছবি তুলতে আর কতা বলতে ব্যস্ত হয়ে গেছে। তবে বেশি ছবি তুলতে আর কতা বলতে দেখা গেছে মাহমুদা আক্তার লিনা, চাদঁ সুলতানা বিউটি, শাহিদা বেগম, শামীম আহমদ, বদরুল ইসলাম, রুহুল আমিন, আবুল হোসেন, সাইফুল ইসলাম, দেব দুলাল, মাছুম আহমদ-কে। বেলা যখন ৪টা তখন আমরা জাতীয় উদ্যান লাউয়াছড়া হয়ে জুড়ীর দিকে রওয়ানা হই। আবার শুরু হলো গান আর গল্প। গানের সুরে সুরে কখন যে জুড়ী এসে পৌছে গেলাম টেরই পাইনি। সফরের রেশ যেন রয়েই গেলো। 

No comments: