বীর মুক্তিযোদ্ধা বদরুল হোসেন স্যার একজন সংগঠক একজন শিক্ষাগুরু

সোহাদ আল আজাদঃ জুড়ীর রাজনৈতিক অঙ্গনে অন্যতম ব্যক্তিত্ব বীর মুক্তিযোদ্ধা বদরুল হোসেন স্যার। ছাত্র জীবন থেকেই যিনি এদেশের মানুষের অধিকার আদায়ের সকল আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ পূর্ববর্তী স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে তিনি ছিলেন টগবগে তরুণ। বঙ্গবন্ধুর অত্যন্ত আস্থাভাজন ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক শহীদ তৈমুছ আলী এমপির নির্দেশনায় তখনকার ছাত্র আন্দোলনে নেতৃত্বের সারিতে থেকে তিনি কাজ করেছিলেন। সিলেটের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ এমসি কলেজের ছাত্রলীগ নেতা বদরুল হোসেন ছাত্রদের কাছে মুক্তির দাবানল ছড়িয়ে দিয়েছিলেন।  মুক্তিপাগল ছাত্রদের মাঝে জ্বলে ওঠা দাবানলেই জেগে ওঠেছিল দেশ। সংঘটিত হয়েছিল উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান। অর্জিত হয়েছিল সত্তরের নির্বাচনে বিশাল জয়। একাত্তরে রণাঙ্গনে তিনিও অস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর দেশ গড়ার কাজে নিজেকে নিয়োজিত করেন। এজন্য তিনি সর্বোৎকৃষ্ট পেশা শিক্ষকতা শুরু করেন। সত্তরের দশকে তিনি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হন। অতঃপর যখন রাজনীতিতে পেশীশক্তি ভর করে, একজন শিক্ষক হিসেবে তিনি সেই অপরাজনীতি থেকে নিজেকে বিরত রাখেন।  কেননা শিক্ষাগুরু কখনোই নিজের ছাত্রদের হাতে অস্ত্র তুলে দিতে পারেননা। কিন্তু যার চিন্তা চেতনা দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করা, তিনি নিজেকে নিভৃত করে রাখতে পারেন না।  বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতি করা এই নিঃস্বার্থ মানুষ আজীবন একজন একনিষ্ঠ আওয়ামীলীগ কর্মী হয়েই থেকেছেন। ১৯৯১ সালে জাতীয় নির্বাচনে বড়লেখা থেকে মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও বয়োজ্যেষ্ঠতার জন্য মরহুম ঈমান উদ্দীন সাহেবকে সম্মান দিয়ে তিনি পিছিয়ে যান। বর্তমানে তিনি মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামীলীগের অন্যতম বয়োজ্যেষ্ঠ সর্বজন শ্রদ্ধেয়  নেতা। মাননীয় বন পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আলহাজ্ব শাহাব উদ্দীন আহমেদ এমপিও এই নিঃস্বার্থ মানুষের অবদানকে যথেষ্ট মূল্যায়ন করেন। আজীবন মানুষের জন্য রাজনীতি করে যাওয়া বদরুল হোসেন স্যার নিজের জন্য কিছুই করেননি। উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া পৈতৃক বাড়িতেই থেকে এখনো তিনি নিঃস্বার্থভাবে রাজনীতি করে যাচ্ছেন। অথচ আওয়ামীলীগ সরকারের বিগত দুই মেয়াদে অনেক নেতাই অবৈধভাবে সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন। দুঃখজনকভাবে তাঁর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপবাদ ছড়ায়।
বদরুল হোসেনরা মানুষের জন্য রাজনীতি করেন। মানুষের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য নিজেদের নিয়োজিত রাখেন। নিঃস্বার্থ এই রাজনীতির প্রতিদানস্বরূপ জনগণও তাঁদের যথাযথ মূল্যায়ন করতে হবে। বীর মুক্তিযোদ্ধা বদরুল হোসেনকেও আমরা যথাযথ মূল্যায়ন করতে না পারলে এটা আমাদের ব্যর্থতা হয়ে থাকবে। আগামী উপজেলা পরিষদ নির্বাচন হচ্ছে এই  নিঃস্বার্থ মানুষের ঋণ পরিশোধ করার মোক্ষম সুযোগ। যিনি জুড়ীতে শিক্ষার সম্প্রসারণে শিক্ষাগুরুু হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। জুড়ীবাসীর অধিকার আদায়ে সচেষ্ট ছিলেন। তাঁকেই আমরা জুড়ী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের আসনে উপবিষ্ট করবো। এই গুনী মানুষের মাধ্যমেই আমরা গড়বো প্রতিহিংসামুক্ত সুশৃঙ্খল জুড়ী উপজেলা। তাঁর মাধ্যমেই বজায় থাকবে শতশত বছর ধরে চলে আসা জুড়ীর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পরিবেশ। জুড়ী হবে একটি উন্নত ও মডেল উপজেলা।

No comments: