ভারতে সাজা ভোগের পর দেশে ফিরল ২১ বাংলাদেশি

সুদীপ দাস, করিমগঞ্জ থেকেঃ অবৈধভাবে ভারতে অনুপ্রবেশকারী ২১ বাংলাদেশি সাজাভোগের পর যাবতীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্নের পর শনিবার দুপুর ১২ টায় দক্ষিণ অসমের সদর করিমগঞ্জের আন্তর্জাতিক সীমান্তদ্বার সুতারকান্দি সীমাম্ত দিয়ে তাঁদের বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দিয়েছে বিএসএফ এবং করিমগঞ্জের সাধারণ ও পুলিশ প্রশাসন।

ওইদিন বাংলাদেশের হাতে যে ২১ জনকে তুলে দেওয়া হয়েছে তাঁদের মধ্যে ১৯ জন পুরুষ এবং ২ জন মহিলা রয়েছেন। তারা যথাক্রমে নাসির হুসেন, সুমন ফকির, বাবলু আহমেদ, খাইরুল ইসলাম, আব্দুল ওয়াহিদ, রাজু আহমেদ, মহম্মদ শুক্কুর, রুবেল আহমেদ, নাজিম উদ্দিন, জাহিদা বেগম, সুফিয়া বেগম, মাসুম আহমেদ, আশ্রাফুল আলম চৌধুরী, লিটনকান্তি দাস, সফিক ইসলাম, তফিক আলি, পাবেল মিয়াঁ, দিলওয়ার হুসেন, সাবিল আহমেদ, শামিম আহমেদ এবং রমজান আলি।

করিমগঞ্জ জেলা প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, এরা বিগত দিনে কাছাড়, করিমগঞ্জ এবং ত্রিপুরার বিভিন্ন সীমান্ত অতিক্রম করে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করেছিল। অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে শাস্তির মেয়াদ সম্পূর্ণ হলে আজ এই সব বাংলাদেশিকে স্বদেশে প্রত্যর্পণ করা হয়েছে। এর আগে তাঁদের প্রত্যাবর্তন সম্পর্কীয় যাবতীয় কাগজপত্র-সহ তাঁদের জেলা প্রশাসনের হাতে তুলে দেওয়া হয়। শনিবার সকালে আসাম রাজ্যের শিলচরের ডিটেনশন ক্যাম্প থেকে তাদের সোজা সুতারকান্দিতে নিয়ে আসা হয়। এখানে হস্তান্তর সংক্রান্ত প্রক্রিয়া শেষ করে বেলা ১২টা থেকে তাঁদের বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড এবং বাংলাদেশ সরকারের পদস্থ অফিসারদের হাতে সমঝে দেওয়া হয়েছে। এই ২১ জন বাংলাদেশিকে ভারত-বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ীই তাঁদের স্বদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। সূত্রটি জানিয়েছে, শিলচর ডিটেনশন ক্যাম্পে এ রকম আরও বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে তাঁদেরও এভাবে যথাসময় বাংলাদেশ সরকারের হাতে তুলে দেওয়া হবে। প্রসঙ্গত, এর আগে গত ২০১৭ এবং ২০১৮ সালে যথাক্রমে ৮/১০ বাংলাদেশি নাগরিককে আসামের করিমগঞ্জের কুশিয়ারা এবং সুতারকান্দি সীমান্ত দিয়ে তাঁধের স্বদেশে পাঠানো হয়েছিল। এদিকে, রমজান আলি নামের অনুপ্রবেশকারীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ২০১৭ সালে উত্তর প্রদেশের আজমিরে নামাজ আদায়ের জন্য সে ভারতে এসেছিল। পরবর্তীতে ত্রিপুরা সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে যাওয়ার সময় আসামের পাথারকান্দির কোনও এক জায়গা থেকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। সীমান্তবর্তী বিভিন্ন দালালের সহযোগিতায় তাঁর মতো বহু বাংলাদেশি ভারতে অনুপ্রবেশ করেছে বলে জানায় রমজান।

বিয়ানীবাজার থানার ওসি অবনী শংকর কর জানান, ভারত থেকে ফেরত পাঠানো ২১ বাংলাদেশির মধ্যে ১৫ জনকে সুতারকান্দি সীমান্ত থেকে তাদের স্বজনরা নিয়ে গেছেন। অপর ৬ জন পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। তাদের স্বজনদের খবর দেয়া হয়েছে। তারা আসার পর স্বজনদের কাছে তাদেরকে হস্তান্তর করা হবে।

বিজিবি ৫২ ব্যাটালিয়ানের (বিয়ানীবাজার) অধিনায়ক লে. কর্নেল আহমেদ ইউসুফ জামিল পিএসসি জানান, অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে ভারতে সাজাভোগের পর সুতারকান্দি সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশিরা দেশে ফিরেছেন। এর আগে বিএসএফ তাদেরকে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে।

No comments: