মহান বিজয় দিবসে জুড়ী উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মসূচী পালন

সাইফুল ইসলাম সুমনঃ শুধু স্বাধীনতা অর্জন করেই থেমে থাকেনি বাংলাদেশ। হেনরি কিসিঞ্জারের ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ এখন উন্নয়নশীল দেশ, বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল। দেশে দারিদ্র্যের হার ২২ শতাংশের নিচে এবং চরম দারিদ্র্য নেমে এসেছে ১৩ শতাংশেরও নিচে। গত আট বছরে দেশে খাদ্যশস্য উৎপাদন বেড়েছে ৩০ দশমিক ৪৮ শতাংশ। জাতিসংঘের কৃষি ও খাদ্য সংস্থার তথ্যানুযায়ী, চাল ও মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ, সবজিতে তৃতীয় এবং আলু উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন সপ্তম স্থানে। খাদ্যশস্য উৎপাদন বেড়েছে ৩০ দশমিক ৪৮ শতাংশ। সুবিধাবঞ্চিত দেড় কোটি মানুষের ভাগ্য বদলে দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উদ্যোগ ‘একটি বাড়ি, একটি খামার’ প্রকল্প। সারা দেশেই এখন বিজলি বাতির চমক। দেশের প্রায় ৮০ ভাগ মানুষই ইতোমধ্যে বিদ্যুৎ পেয়ে গেছেন। মরণব্যাধি ক্যান্সারের ওষুধ, হেপাটাইসিস সি ও রোটা ভাইরাসের ভ্যাকসিনসহ জটিল রোগের ওষুধ তৈরি করে চমকে দিয়েছেন দেশীয় বিজ্ঞানীরা। চাহিদার ৯৮ শতাংশ ওষুধ এখন দেশেই তৈরি হচ্ছে। বাংলাদেশের তৈরি ওষুধ রপ্তানি হচ্ছে ইউরোপ-আমেরিকাসহ বিশ্বের ১৫০টি দেশে। কমিউনিটি ক্লিনিকে বিনামূল্যে মিলছে ৩০ ওষুধ।

মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দল আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এখন ডিজিটাল বাংলাদেশ। সারা দেশে ৫ হাজার ২৭৫টি ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার এবং ৮ হাজার ২০০ ই-পোস্ট থেকে ২০০ ধরনের ডিজিটাল সেবা পাচ্ছেন জনগণ। দেশে মোবাইল ফোন ব্যবহারকীর সংখ্যা এখন ১৩ কোটিরও বেশি। ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা সাড়ে ৮ কোটি। দেশে সাক্ষরতার হার ৭২ দশমিক ৭৬ শতাংশ। ৫০ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম। শুধুই দেশেই নয় লাল-সবুজের বিজয় পতাকা উড়ছে মহাবিশ্বে। মহাকাশের ৫৭তম স্যাটেলাইটের গর্বিত মালিক এখন বাংলাদেশ। বাংলাদেশের এই অসামান্য অর্জনের পেছনে রয়েছে এক রক্তাক্ত ইতিহাস। পাকিস্তানি শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে জাতি। অনেক রক্ত ও ত্যাগের মূল্যে এই যুদ্ধ পূর্ণতা পায় ওই বছরই ১৬ ডিসেম্বর। মুক্তিযুদ্ধে বাঙালির গৌরবময় বিজয়ের ৪৭ বছর পূর্ণ হলো আজ। এ জাতির হাজার বছরের ইতিহাসে গৌরবের মহিমায় সমুন্নত অনন্য এই দিনটি।

মহান বিজয় দিবস আজ। দেশের সর্বত্র আজ আনন্দ-উৎসব। বাঙালির জাতীয় জীবনের সর্বকালের শ্রেষ্ঠ এই দিন। এ বছর দিবসটির তাৎপর্য অন্য বছরের তুলনায় অনেক বেশি। আর ১৩ দিন পর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। জাতি আজ আনন্দ-উৎসব ও শোক-শ্রদ্ধার এক অপূর্ব সম্মিলনে বিজয়ের দিনটি উদযাপনের পাশাপাশি সে শপথেও বলীয়ান হবে। এবারের বিজয় দিবসে বাঙালি জাতি তাই আবারো শপথ নেবে মুক্তিযুদ্ধের বিজয়কে সফল ও সার্থক করে তোলার। শপথ নেবে স্বাধীন, সার্বভৌম বাংলাদেশকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশ গড়ার সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ার। এবারের বিজয় দিবসে বাঙালির শপথ হবে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও হানাহানিমুক্ত একটি গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল এবং অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার। এবারের বিজয় দিবসে যে কোনো মূল্যে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে সুরক্ষা করতে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার শপথ নেবে বাংলার মানুষ। বিজয় দিবসের দিনে আজ বিজয়োল্লাসে ভাসবে দেশ। 

এদিকে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী উপজেলায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করা হয়।  

সূর্যোদয়ের সাথে সাথে জুড়ী শিশু পার্কে ৩১ বার তোপধ্বনি করে দিবসের অনুষ্ঠানমালার সূচনা করেন জুড়ী থানা পুলিশ। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। সূর্যোদয়ের ক্ষণে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষথেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের শ্রদ্ধা জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অসীম চন্দ্র বনিক। উপজেলা পরিষদের পক্ষথেকে উপজেলা চেয়ারম্যান গুলশানারা মিলি পুষ্পস্তবক অর্পণ করে। জুড়ী থানার পক্ষথেকে অফিসার ইনচার্জ মোঃ জাহাঙ্গির হোসেন সরদার পুষ্পস্তবক অর্পণ করে। পরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

সকাল ৯ টায় তৈয়বুন্নেছা খানম একাডেমী ডিগ্রী কলেজ মাঠে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন জুড়ী উপজেলা চেয়ারম্যান গুলশানারা মিলি। পরে বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ, শারীরিক কসরত প্রদর্শনী ও পুরস্কার বিতরণ করা হয়। সকাল ১১ টায় উপজেলা পরিষদ বনাম উপজেলা ক্রীড়া সংস্থা এর মধ্যে এক প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়।

No comments: