সাক্ষরতা আর উন্নয়ন দুটোই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলে; অসীম চন্দ্র বনিক

সাইফুল ইসলাম সুমনঃ আজকের আধুনিক দুনিয়াতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার হলেও সমস্ত দুনিয়ার সমগ্র মানুষ আজও শিক্ষার আলো গ্রহন করতে পারেনি। এমনকি নিজের পরিচয়ও লিখতে পারেনা লক্ষ্য লক্ষ্য মানুষ। তাদের সাক্ষরতা দানের উদ্দ্যেশে ১৯৬৫ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো ৮ সেপ্টেম্বরকে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস হিসাবে ঘোষণা করে। আর ১৯৬৬ সালে ইউনেস্কো প্রথম দিবসটি উদযাপন করলেও ১৯৭২ সাল থেকে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস পালিত হচ্ছে। পৃথিবীর সব মানুষকে নিজেদের অন্যতম মৌলিক অধিকার শিক্ষার আলোয় আলোকিত করার ব্যাপারে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষেই মূলত এই দিনটির প্রচলন ঘটানো হয়েছে। সারা বিশ্বে লক্ষ্য করলে দেখা যায় সাক্ষরতা হার যাদের বেশি বৈশ্বয়িক উন্নয়নে তারাই এগিয়ে। সাক্ষরতা আর উন্নয়ন দুটোই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলে। সাক্ষরতাই টেকসই সমাজ গঠনের মূল চালিকাশক্তি। টেকসই সমাজ গঠনের জন্য যে জ্ঞান ও দক্ষতা প্রয়োজন তা সাক্ষরতার মাধ্যমেই অর্জিত হয়। সাক্ষরতা বলতে সাধারণত অক্ষর জ্ঞানসম্পন্নতাকে বোঝানো হলেও বর্তমানে এর সংজ্ঞা আরও ব্যাপক হয়েছে। এখন এর সঙ্গে জীবনধারণ, যোগাযোগের দক্ষতা ও ক্ষমতায়নের দক্ষতাও সংযোজিত হয়েছে। তাই দিবসটি যথাযথভাবে পালনের গুরত্ব রয়েছে। “সাক্ষরতা অর্জন করি, দক্ষ হয়ে জীবন গড়ি” এই প্রতিপাদ্য বিষয়কে সামনে রেখে আজ শনিবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় মৌলভীবাজারের জুড়ীতে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস-২০১৮ উপলক্ষে র‌্যালী শেষে উপজেলা অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন জুড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকার্তা অসীম চন্দ্র বনিক।

উক্ত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, জুড়ী উপজেলা শিক্ষা অফিসার আমিনুল হক, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার কুলেশ চন্দ্র চন্দ মন্টু, জুড়ী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিতাংশু শেখর দাস, উপজেলা সহকারি শিক্ষা অফিসার রাজন কুমার সাহা, উপজেলা যুবলীগ সাধারন সম্পাদক শেখরুল ইসলাম, জুড়ী উপজেলা সাংবাদিক সমিতির সাধারন সম্পাদক সাইফুল ইসলাম সুমন, দক্ষিণ জাঙ্গিরাই মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম ভুইয়া, জেলা ছাত্রলীগ সহ-সভাপতি হুমায়ুন রশিদ রাজি প্রমূখ। 

সভাপতির বক্তব্যে জুড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকার্তা অসীম চন্দ্র বনিক আরো বলেন, পৃথিবী যখন প্রতিদিন এগিয়ে যাচ্ছে তখন শত সম্ভাবনা থাকার পরও আমরা অনেক পিছিয়ে আছি। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে আমাদের দেশের জনসংখ্যার বিশাল একটি অংশ এখনো নিরক্ষরতার বেড়াজালে বন্দি। শিক্ষার সঙ্গে সাক্ষরতার আর সাক্ষরতার সঙ্গে উন্নয়নের সম্পর্ক ওতপ্রোতভাবে জড়িত। যে দেশের সাক্ষরতা হার যত বেশি সে দেশ তত উন্নত। বঞ্চিত এবং নিরক্ষর শিশু-কিশোর এবং যুবকদেরকে শিক্ষার মাধ্যমে দেশের জনসম্পদে পরিণত করা দরকার। তাই নিরক্ষরতার অভিশাপ থেকে জাতিকে মুক্ত করতে যার যার অবস্থান থেকে সকলকে এগিয়ে আসা জরুরী। নিরক্ষরতা, ক্ষুধা দারিদ্যতা ও দুর্নীতি এক একটির হানাদার শত্রুর মত। এই শত্রুকে হত্যা করতে যে অস্ত্র দরকার তা হচ্ছে শিক্ষা ও সাক্ষরতা । এজন্য চাই সবার জন্যা শিক্ষা। চাই নিরক্ষর মুক্ত, শিক্ষিত ও আত্ননির্ভরশীল আধুনিক বাংলাদেশ। আসুন আমরা সমাজ এবং দেশের টেকসই উন্নয়নে কাঁধে কাঁধ মিলাই এবং আলোকিত সমাজ গড়ি। আগামীর সোনার বাংলাদেশের স্বপ্ন বুনি। 

No comments: