“সিলেট আমার অহঙ্কার” এই স্লোগানে কানাডার টরেন্টোয় বিশ্ব সম্মেলন

সাইফুল ইসলাম সুমনঃ ‘সিলেট আমার অহঙ্কার’- এই স্লোগানকে সামনে রেখে কানাডার টরোন্টোয় শেষ হয়েছে দুইদিন ব্যাপি ৪র্থ বিশ্ব সিলেট সম্মেলনের প্রথম দিন।

বাংলাদেশ, ভারত, জার্মানী, ইংল্যান্ড আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত প্রায় এক হাজার প্রতিনিধি কানাডার টরেন্টোর এই সম্মেলনে যোগ দেন। টরেন্টো শহরের সম্মেলনস্থল গ্র্যান্ড প্যালেসের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল ওসমানি মঞ্চে এদিন দুপুর ১২টায় বেলুন উড়িয়ে বিশ্ব সম্মেলনের সূচনা করেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ কাজি খালেকুজ্জামান, বাংলাদেশের সাবেক তত্বাবধায়ক সরকারের  উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরি, টরেন্টো শহরের মেয়র জন টোরি, জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব ঢাকার সভাপতি সিএম তোফায়েল সামী, জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব টরন্টোর সভাপতি দেবব্রত দে তমাল ও ডা. জিয়াউদ্দিন আহমেদসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা।

উদ্বোধনী বক্তব্যে রাশেদা কে চৌধুরি বলেন,‘ এটা একটি বিশ্ব সিলেটি বাঙালির মিলন মেলা। আজ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল ওসমানির শততম জন্মদিবস। এই পূণ্যদিনে এই সম্মেলনের সূচনা হল। শুধু সিলেটি বাঙালি নয়, সবাইকে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন নিয়ে এই সম্মেলন শুরু হল। আমাদের গর্ব, আমাদের অহঙ্কার সিলেট। কলকাতা থেকে ঢাকা হয়ে নিউইর্য়কের পর এবার টরেন্টো। বাঙালি সংস্কৃতি তথা সিলেটকে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দেওয়া আমাদের লক্ষ্য।’

টরেন্টো শহরের মেয়র জন টোরি বলেন, ‘আমাদের কানাডা তথা আমার এই শহরে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যারা এসেছেন তাঁদের সবাইকে স্বাগত জানাচ্ছি। আপনাদের ঐতিহ্যবাহি এই সংস্কৃতি টরেন্টোবাসীকে সমৃদ্ধ করবে।’
 
এদিকে, সম্মেলন স্থল ঘিরে শুরু হয়েছে মিলন মেলা। পরিচিত মানুষদের বহুদিন পরে অনেকদিন পরে চোখের দেখা দেখার জন্য সমবেত হয়েছেন সিলেটিরা। সম্মেলন চত্বরে স্থাপন করা হয়েছে সিলেটের আইকন বলে পরিচিত সুরমা নদীর তীরে অবস্থিত আলি আমজদের ঘড়ির রেপ্লিকা। সম্মেলন উপলক্ষে “শীতলপাটি” নামে একটি নান্দনিক স্যুভেনীর প্রকাশিত করা হয় এদিন। 
 
সম্মেলনস্থলে বরাক ও সুরমা নামে দুটি অডিটোরিয়ামে আয়োজন করা হয়েছে সিলেটের সাংবাদিকতা, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, সিলেটি ভাষাসহ একাধিক বিষয় নিয়ে আলোচনা সভা। এই আলোচনায় প্রথম দিন যোগ দেন বিভিন্ন দেশ থেকে আগত প্রতিনিধিরা। বক্তব্য রাখেন, কানাডা থেকে তাজুল মুহম্মদ, নজরুল ইসলাম মিন্টো, ভারতের অধ্যাপক অমলেন্দু চক্রবর্তী, রক্তিম দাশ, আমেরিকার ডা. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, সৌদি আরবের ড. সাইদুর চৌধুরি, বাংলাদেশ থেকে সুপ্রিম কোর্টের  বিচারপতি ড. আবু তারেক, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র ডেইজি সারোয়ার প্রমুখ।
 
বিশ্ব সম্মেলনে এদিন সিলেটের পাঁচালি বলে একটি তথ্যচিত্র প্রর্দশন করা হয়। সন্ধ্যায়  ছিল মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে অংশ নেন বাংলাদেশ সহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত  শিল্পীরা।

No comments: