আসামে নাগরিকত্ব সংকট : ভবিষ্যৎ কী?

জুড়ী টাইমস সংবাদঃ উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা আর রাজ্যজুড়ে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে গত সোমবার ভারতের আসামে জাতীয় নাগরিক নিবন্ধনের (এনআরসি) চূড়ান্ত খসড়া তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এতে ৪০ লাখেরও বেশি বাসিন্দা শেষ পর্যন্ত ভারতীয় নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি পায়নি। দাবি বা আপত্তি জানানোর জন্য এক মাস সময় দেয়া হয়েছে। সেসব দাবি খতিয়ে দেখে আসছে ডিসেম্বরে চূড়ান্ত নাগরিক তালিকা প্রকাশ করা হবে। অবৈধ অভিবাসী চিহ্নিত করে তাদের সত্যি সত্যিই বহিষ্কার করা প্রক্রিয়াগতভাবেই সহজ কাজ নয়। আসামের ক্ষেত্রে বিবেচনা করা হচ্ছে মুসলিম অনুপ্রবেশকারীদের। এই অবস্থানটি বিপজ্জনক। নতুন তালিকা তৈরি নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি এ প্রক্রিয়াকে ‘বাঙালি তাড়াও’ অভিযান নামে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি প্রশ্ন করেছেন, এই ৪০ লাখ লোক এখন কোথায় যাবে? আসামের বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে বাংলা ভাষাভাষীর সংখ্যা বিগত কয়েক দশকে অস্বাভাবিক হারে বাড়ার কারণে অনেকেরই ধারণা যে তারা প্রকৃত ভারতীয় নয় এবং বিভিন্ন সময় বাংলাদেশ থেকে গিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেছে। আসামে অবৈধভাবে বসবাসকারী চিহ্নিত করতে প্রত্যেক বাসিন্দার নাগরিকত্ব যাচাই করে এনআরসির হালনাগাদ তালিকা প্রকাশে উচ্চ আদালত নির্দেশনা দেন। প্রকাশিত খসড়া তালিকা থেকে জানা যায়, গত ৩১ ডিসেম্বর মোট তিন কোটি ২৯ লাখ ৯১ হাজার ৩৮৪ জন নাগরিক তালিকায় যুক্ত হতে আবেদন করেছিলেন। তাদের মধ্যে দুই কোটি ৮৯ লাখ ৮৩ হাজার ৬৭৭ জনের নাম তালিকায় স্থান পেয়েছে। বাদ পড়েছে ৪০ লাখ সাত হাজার ৭০৭ জন। ১৯৫১ সালের পরে এই প্রথমবার আসামে নাগরিক তালিকা হালনাগাদ করা হয়, যাতে রাজ্যে বসবাসকারী অবৈধ বাংলাদেশিদের চিহ্নিত করা যায়। বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, তালিকায় স্থান পেতে আসামের বাসিন্দাদের প্রমাণ করতে হয়েছে যে তাদের পূর্বপুরুষদের নাম ১৯৫১ সালের এনআরসিতে বা ১৯৭১ সালের মার্চ মাসের আগের কোনো ভোটার তালিকায় ছিল। বাদ পড়াদের নাম তালিকাভুক্ত করতে হলে অবশ্যই সেগুলো প্রমাণ করতে হবে। তালিকায় নাম না থাকা অনেকেই মনে করছেন- ‘অবৈধ’ হওয়ার কারণে তাদের যে কোনো সময় আসাম তথা ভারত থেকে বের করে দেয়া হবে। এমন ভাবনা স্বাভাবিক। মানুষের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে খসড়ায় বরাক এবং ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় বাঙালিদের নাম কম ওঠায় তাদের মনে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। নাম বাদ পড়েছে এমন ব্যক্তিরা আগামী ৩০ আগস্ট থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আবেদন জানাতে পারবেন।
ভারতে বিগত কয়েক বছরের ব্যবধানে ধর্মীয় উগ্রবাদ চরম রূপ ধারণ করছে। ফলে আসামে থাকা বাংলাদেশিরা বৈধ না অবৈধ, তা নির্ণয় করা হচ্ছে ধর্মীয় পরিচয় দেখে। যেভাবে গোটা প্রক্রিয়াটি চালানো হয়েছে, তাতে সন্দেহ হওয়ার যথেষ্ট অবকাশ আছে, বাংলাভাষীদের বিরুদ্ধে একটা চক্রান্ত চলছে। আসামে থাকতে গেলে একটি বিশেষ জনগোষ্ঠীর প্রভুত্ব মেনেই থাকতে হবে। বাংলাদেশের ভূমিকা এই ইস্যুতে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার কথা ছিল। অথচ সরকারের কোনো দায়িত্বশীল ভাষ্য নেই। এটি ভারতের পুরোপুরি অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে অভিহিত করে আসছে। আমাদের মনে প্রশ্ন জাগে আসামে নাগরিকত্ব সংকটের ভবিষ্যৎ কোন দিকে গড়াবে? বাংলাদেশ সরকারের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা উচিত। যাতে আরেকটি রোহিঙ্গা ইস্যু সৃষ্টি না হয়।

No comments: