বাজারে অভিযান চালানোর নামে ব্যবসায়ীদের হয়রানী করা যাবে না: কাজী ইরাদত আলী

রাজবাড়ী প্রতিনিধিঃ
রাজবাড়ী বাজারের ব্যবসায়ীদের সাথে পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অসদাচরণ, ভ্রাম্যমান আদালত, ভোক্তা অধিকার সংরণ অধিদপ্তর সহ যে কোন সংস্থা বাজারে অভিযান চালানোর আগে সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আগে বাজার ব্যবসায়ীদের সাথে আলোচনা করে করতে হবে। অভিযানের নামে ব্যবাসায়ীদের হয়রানী করা যাবে না বলে জানিয়েছেন রাজবাড়ী চেম্বার-অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি কাজী ইরাদত আলী।

০৫ জুলাই বৃহস্পতিবার দুপুরে ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে ৫ জুলাই বৃহস্পতিবার বেলা ২টায় রাজবাড়ী চেম্বার-অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি কাজী ইরাদত আলী, শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলীর উপস্থিতিতে একথা বলেন। এসময় জেলা প্রশাসক মোঃ শওকত আলী উপস্থিত ছিলেন।

ব্যবসায়ী নেতা কাজী ইরাদত বলেন, বাজার ঠিক রাখার জন্য জেলা প্রশাসন, পৌরসভা, ভোক্তা অধিকার সংরণ অধিদপ্তর ও ভ্যাট কর্মকর্তাগণ বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করবে ঠিক আছে। তবে ব্যবসায়ীদের সাথে আগে সকল বিষয় নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে তাদের সতর্ক করতে হবে এবং যে জিনিস পত্র গুলি অবৈধ তার বিষয়ে আগে থেকেই ব্যবাসায়ীদের ব্রিফিং দেওয়া উচিত।

কোন কথা নেই বার্তা নেই পৌর সভার পক্ষ থেকে বাজারের ব্যবসায়ীদের জিনিস পত্র ট্রাকে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়া, বিউটি পার্লার, কসমেটিক্স এর দোকান সহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভোক্তা অধিকার প্রয়োকারী সংস্থা ও ভ্রাম্যান আদালত হুটহাট অভিযান পরিচালনা করায় ব্যবাসায়ীরা খুবই সমস্যায় আছে। এমন ভাবে চললে ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে বাধ্য হবে।

এর আগে চেম্বার অব কর্মাস অফিসে ব্যবাসায়ীদের সাথে মতবিনিময় সভায় চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি সভাপতি কাজী ইরাদত আলী বলেন, দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (এফবিসিসিআই)-এর জেলা পর্যায়ের প্রতিনিধিত্ব করে জেলা চেম্বার অব কমার্স।

যা জেলার সর্বোচ্চ ব্যবসায়ী সংগঠন। এেেত্র বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মোতাবেক ব্যবসায়ীদের যে কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত  গ্রহণের আগে সেই বিষয়ে অবশ্যই জেলার শীর্ষ সংগঠন জেলা চেম্বার অব কর্মাসের সাথে আলোচনা করে পদপে গ্রহণ করতে হবে। জেলার ব্যবসায়ীদের যে কোন ধরনের সমস্যা সমাধানে জেলা চেম্বার অব কমার্স তাদের পাশে থেকে কাজ করবে।

তিনি বলেন, রাজবাড়ী পৌরসভা কর্তৃক ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা না করে বা ব্যবসায়ীদের কোন রকম নোটিশ প্রদান না করে হঠাৎ করে গত ২রা জুলাই বাজারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার চেষ্টা ও বিভিন্ন ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দসহ সাধারণ ব্যবসায়ীদের সাথে যে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়েছে সেটা সকল ব্যবসায়ীর জন্যই অপমানজনক।

এই ঘটনার জন্য জেলা চেম্বার অব কর্মাসের প থেকে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। সেই সাথে রাজবাড়ীর ব্যবসায়ীরা যাতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ব্যবসা করতে পারেন সেই ল্েয পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে যে কোন সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানান তিনি।

রাজবাড়ী বাজারের ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করে বলেন, বিভিন্ন সময় তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারী দপ্তরের কর্মকর্তাগণ বিশেষ করে ভোক্তা অধিকার সংরণ অধিদপ্তর, পৌরসভা ও ভ্যাট কর্মকর্তাগণ বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করে তাদেরকে আর্থিক জরিমানাসহ বিভিন্নভাবে হয়রানী করছে।
ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ অভিযোগ, রাজবাড়ী বাজারে বিদ্যুৎ ও বিশুদ্ধ পানির সমস্যা, পাবলিক টয়লেট পরিস্কার না করা, জলাবদ্ধতা, অপরিচ্ছন্নতা, রাস্তা মেরামত না করা, রাস্তায় বাতি না থাকা, গাড়ী ও মোটর সাইকেল পার্কিংয়ের ব্যবস্থা না থাকাসহ বিভিন্ন সমস্যা রয়েছে। যার অধিকাংশই রাজবাড়ী পৌরসভার করার কথা।

কিন্তুপ্রপকৃত অর্থে পৌরসভা সেই কাজগুলো করছে না বরং উল্টো তাদের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারী দ্বারা বাজার ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন সময় অপমানিত হচ্ছে। যা দুঃখজনক হলেও সত্য। অথচ আজকে যা সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে সেগুলো সদিচ্ছা থাকলে অনেক আগেই পারস্পরিক সহযোগিতা ও আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব হতো।

উল্লেখ্য, গত ২রা জুলাই বেলা ১১টার দিকে পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারী বাজারে ঢুকে একটি শেড উচ্ছেদের চেষ্টা করে। ব্যবসায়ীরা সংঘবদ্ধ হয়ে বাঁধা দিলে পৌরসভার কর্মচারীরা পুলিশকে খবর দেয়। এ সময় ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে বিােভ করতে থাকে। খবর পেয়ে পুলিশের পাশাপাশি রাজবাড়ী চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি কাজী ইরাদত আলীসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ সেখানে সেখানে উপস্থিত হন। পরে কাজী ইরাদত আলীর অনুরোধে ব্যবসায়ীরা তাদের বিােভ কর্মসূচী স্থগিত করেন।।

No comments: