সিলেট সিটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জনকল্যাণে আমার ভাবনায় ভবিষৎ পরিকল্পনা ও প্রণয়ন....মোঃ নূরুল ইসলাম মজুমদার

হজরত শাহজালাল (র:) ও হজরত শাহপরান (র) সহ ৩৬০ আউলিয়ার পূণ্যভূমি সিলেট । আমরা সবাই জানি প্রারম্ভিক পবিত্র আযান ধক্ষনির  সাথে সাথে রাজা গৌর গোবিন্দের রাজ প্রাসাদ ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যায়। অলি আউলিয়াদের  আগমনে ও তাদের পরশে সিলেট আধ্যাত্বিক রাজধানীর মর্যাদা লাভ করে। দীর্ঘ ৮০০ বছর অতিবাহিত  হলেও দেশ বিদেশের সকল স্থরের মানুষ আজও শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে থাকেন। অলি আউলিয়াদের সুবাধে সিলেট অঞ্চলের মানুষ সহজ-সরল, ভদ্র, ধার্মিক, রুচিশীল, বিশ^স্থ, সাহসী, কোমল হৃদয়ের অধিকারী ও শান্তি প্রিয়। তারা স্পষ্টবাদিতা, কর্তব্য পরায়নতা, শৃঙ্খলাবোধ, মর্যাদা ও মানবতাবোধ পছন্দ করে। সিলেটের আবহাওয়া ১২ মাসই সু-শীতল, নির্মল ও কোমল। প্রাকৃতিক ভাবে নদী-নালা, খাল-বিল, হাওর-বাওরে বেষ্ঠিত হওয়ায় সিলেট অঞ্চল সমৃদ্ধ ও মহিমান্বিত। এ অঞ্চলের মানূষ বিদেশে অবস্থান করায় দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় দেশের রেমিটেন্সের হার বেশি। সিলেট পৃথিবীর মধ্যে একটি পরিচিত ও সম্মানিত নাম। তাই সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সিলেট নগরী পৃথিবীর একটি শ্রেষ্ঠ নগরীতে পরিচিত হোক ইহাই কাম্য। আগামী ৩০ শে জুলাই ২০১৮ সিলেট সিটি  কর্পোরেশন এর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচনোত্তর বৃহত্তর সিলেটের উন্নয়নে আমার ভাবনায় একটি সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছি তা নি¤েœ উপস্থাপন করলাম ঃ- 

১। সিলেট নগরী একটি সুন্দর, নির্মল, মনোমুগ্ধকর, দৃষ্টি নন্দন, নিরাপদ ও যানযটমূক্ত নগরী হিসাবে গড়ে উঠুক ইহাই আমাদের প্রত্যাশা।
২। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সকল কর্মকান্ডকে জবাবদিহী মূলক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা আবশ্যক।
৩। প্রতি ৩ মাস পরপর জনগণের সাথে মেয়র এবং কাউন্সিলরদের সমন্বয়ে সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে মত বিনিময় সভার আয়োজন করা  জনগনের প্রত্যাশা ।
৪। জন স্বার্থে অন-লাইনে সেবা প্রদান করা  সময়ের দাবী। সকল প্রকার কার্যক্রম অবলোপন ও মতবিনিময় করার জন্য তথ্যকেন্দ্র এবং ডকুমেন্ট সংরক্ষণের লক্ষ্যে একটি সেল গঠন করা আবশ্যক। 
৫। সচেতন মহল অবগত আছেন সিলেট অঞ্চল ডাউকি জোনের আওতায় একটি ভূমিকম্প প্রবণ হওয়ার কারণে একটি অতি ঝুকিপূর্ণ তথা মহা দূর্যোগ পূর্ণ এলাকা। তাই বর্তমান সিটি কর্পোরেশন এলাকাকে যত দ্রুত সম্ভব নগরীর আয়তন বৃদ্ধি করে সম্প্রসারণের মাধ্যমে নগরকে গড়ে তুলতে হবে। সুরমা নদী সিলেট শহরকে বিভাজন করে দিয়েছে। মনোযোগ  আকর্ষণ করছি যে, জাতীয় স্বার্থে সিলেট সিটি কর্পোরেশন কে ২ ভাগে বিভক্ত করে একটি উত্তর সিলেট সিটি কর্পোরেশ ও অন্যটি দক্ষিন সিলেট সিটি কর্পোরেশনে পরিণত করার লক্ষ্যে শীঘ্রই বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া শুরু করা আবশ্যক।
৬। দক্ষিণ সিলেট সিটি কর্পোরেশনের কার্যালয়টি দক্ষিণ সুরমা এলাকায় যেখানে বর্তমানে শহরের ময়লা আবর্জনা ফেলা হয় ঐ স্থানটিতে করা যেতে পারে।
৭। সিলেট সিটি কর্পোরেশন এলাকার অলি-গলির রাস্তাগুলো এখনও সরু বা ছোট। বিদ্যুৎ,পানি ও গ্যাস লাইন এলো মেলো অবস্থায় আছে। কোন কোন গলিতে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ী ঢোকেনা। খোদা না করুক যদি কোন দুর্যোগ আসে তবে ঐ মূহুর্তে দূর্যোগের সরঞ্জামাদীর বড়বড় গাড়ী গুলো কীভাবে যাতায়াত করে ধক্ষংসস্তুপ থেকে মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষা করা যাবে বিষয়টি ভেবে দেখা দরকার। বর্তমান প্রেক্ষাপটেও পানি ও গ্যাসের লাইন এবং বিদ্যুতের খাম্বাগুলো প্রয়োজন অনুসারে পুণঃস্থাপন জরুরী।
৮। মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষার্থে ফায়ার সার্ভিস বিভাগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সিলেটের মত একটি উন্নত ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বিভাগীয় পর্যায়ে ফায়ার সার্ভিসের বিভাগীয় দপ্তর এবং কর্মকর্তা/কর্মচারী/ফায়ারম্যানদের বিভাগ পর্যায়ে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপিত হয়নি। বর্তমানে তালতলায় এবং আলমপুর/গোটাটিকর এলাকায় দুটি ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন রয়েছে। প্রয়োজনের তুলনায়  তা অপ্রতুল। তাই সার্বিক বিবেচনায় ১। দক্ষিণ সুরমা এলাকার লালা বাজারে একটি ২। লাক্কাতুরা স্টেডিয়াম এলাকা থেকে শুরু করে বিমানবন্দর পর্যন্ত যে কোন স্থানে একটি ৩। মদিনা মার্কেট থেকে শুরু করে টুকের বাজার বাস স্ট্যান্ড পর্যন্ত এর মধ্যে একটি সম্ভাব্যতা যাচাই করে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপন করা আবশ্যক। বিষয়টি জরুরী ভাবে বিবেচনার জন্য সদাসয় সরকারের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
৯। সিলেটে সরকারি ও বেসরকারি ভাবে অনেক হাসপাতাল থাকলেও সরকারি ভাবে সিলেটে কোন পঙ্গু হাসপাতাল নেই। তাই সার্বিক দিক বিবেচনা করে দক্ষিণ সুরমা এলাকায় একটি পঙ্গু হাসপাতাল স্থাপনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
১০। একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সদয় দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য জানাচ্ছি যে,আমাদের দেশের পাশর্^বর্তী দেশ ভারতের মেঘালয় পাহাড় কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভূলাগঞ্জ সীমানা ঘেষে অবস্থিত। মেঘালয় পাহাড়ের পাথর, চুনাপাথর, কয়লা তথা খনিজ সম্পদ শতাব্দীর পর শতাব্দী আহরণ করলেও তা শেষ হবেনা। কারণ পাহাড়ে একবার পাথর খনন করার পরও দেখা যায় যে ঐ স্থানে প্রাকৃতিক ভাবে পূনরায় পাথর পাওয়া যায়।  ভারত হলো উজানের দেশ আর  বাংলাদেশ হলো ভাটিতে। ভারতের ন্যায় বাংলাদেশের খনিজ সম্পদ নেই। তাই বাংলাদেশের চাহিদা মোতাবেক ভারত থেকে খনিজ সম্পদ বাংলাদেশকে আমদানী করতে হবে। এমনকি ট্রেনজিট হিসাবেও বাংলাদেশের মাটি/ল্যান্ড ব্যবহৃত হবে।  ভূলাগঞ্জ হয়ে সিলেটের মালবাহী ট্রাক দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গমন করে থাকে,ভবিষ্যতেও সড়কপথ ব্যবহৃত হবে। ফলে আমাদের দেশের সড়কপথ গুলো  দারুন ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবে। এক সময় দেখা যাবে আমাদের জাতীয় বাজেটের অধিকাংশ অর্থ সড়ক পথেই ব্যয় করতে হবে। তাই সহজ পন্থা হিসাবে ভূলাগঞ্জ থেকে কোম্পানীগঞ্জ হয়ে ছাতক পর্যন্ত রেললাইন স্থাপন করে রেল পথেই খনিজ সম্পদ গুলো পরিবহন করতে হবে। জাতীয় স্বার্থে জরুরীভাবে পরিকল্পনা গ্রহণ করার প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য সরকারের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
১১। বর্তমানে সিলেট বিমান বন্দর এখনও পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক  বিমান বন্দরে রুপান্তর করা সম্ভব হয়নি। অদুর ভবিষ্যতে যখন পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বিমান অবতরণ ও বহির্গমন করবে তখন যান বাহনের জন্য বড় টার্মিন্যাল নির্মাণ,রানওয়ে সহ পূর্ণাঙ্গ বিমান বন্দরের জন্য যা যা প্রয়োজন তার চাহিদা মিটানোর জন্য বর্তমানে বিমান বন্দরের যে ভূমি রয়েছে প্রস্তাবে উল্লেখিত চাহিদা গুলো মিটানোর জন্য আরও অনেক  ভূমির  প্রয়োজন হবে।ফলে সড়ক পথের বর্তমান স্থান পরিবর্তন হতে পারে ভূলাগঞ্জ থেকে সিলেটে আগত সড়কটির বিষয়  খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আনুমানিক  ১০ বছর পর যেন পূণরায় নতুন করে পরিকল্পনা গ্রহণ করতে না হয় তাই জাতীয় বাজেটের অর্থ ব্যয়ে হিসাব কষে সতর্কতার সাথে করতে হবে । আরো উল্লেখ্য যে,ভূলাগঞ্জ থেকে সড়ক পথে সিলেট আসার জন্য সালুটিকর থেকে বিকল্প স্থায়ী রাস্তা এবং নৌপথ ব্যবহারের উপযোগী রাখতে হবে।
১২। ভবিষ্যতে যদি কখনও তৃতীয় বিশ^যুদ্ধ শুরু হয় তবে সিলেট ওসমানী বিমান বন্দর ব্যবহার করা ছাড়া আর কোন বিকল্প নেই। সিলেট এক সময় আসাম প্রদেশের সাথে সংযুক্ত ছিল। ১৯৪৭ সালে রেফারেন্ডাম এর মাধ্যমে তৎকালীন পাকিস্তানের সাথে সিলেট যুক্ত হয়। সিলেটের গুরুত্ব অনুধাবন করে বর্তমান সরকার বৃহৎ সেনা নিবাস স্থাপন করেন। তাই ভৌগলিক ও কৌশলগত কারণে বিমান বন্দর সহ সিলেট অঞ্চলকে রক্ষা করার জন্য একটি বিমান ঘাটি ও বিমান বাহিনীর ইউনিট স্থাপন করার জন্য সদাসয় সরকারের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
১৩। সিলেট ওসমানী বিমান বন্দর থেকে সিলেট শহরে আসার সড়ক পথটি আঁকা বাকা।তাই মাঝে মধ্যে দূর্ঘটনা ঘটে থাকে। সড়ক পথটিকে সোজা করে তা পূন:নির্মাণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
১৪। বিনোদনের জন্য টিলাগড় ইকো পার্ককে চিড়িয়াখানায় রূপান্তর করে তা চালু করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
১৫। শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড। সিলেট বিভাগে প্রতিনিয়ত শিক্ষার হার বাড়ছে। কর্ম সংস্থানের জন্য এবং ব্যবসা করতে হলেও সু-শিক্ষায় শিক্ষিত মানুষের দরকার। তাই সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, সিলেট মহিলা কলেজ, দক্ষিণ সুরমা এলাকায় লতিফা-শফি চৌধুরী মহিলা কলেজ, দক্ষিণ সুরমা কলেজ, শাহ খুররম ডিগ্রী কলেজ ও সিলেট ল’কলেজকে বিশ^বিদ্যালয়ে উন্নীত করার প্রক্রিয়া গ্রহণ করা আবশ্যক।
১৬। সিলেট সরকারী টিচার্স ট্রেনিং কলেজটি শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রেখে চলেছে। এ প্রতিষ্ঠানটিতে বিভিন্ন সমস্যা বিরাজমান, সমস্যাগুলো নিরসনে মাননীয় অর্থ ও মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী মহোদয়ের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
১৭। মৌলভীবাজার জেলায় একটি মেডিকেল কলেজ ও একটি সার্ভে ইন্সটিটিউট স্থাপন করার জন্য সদাশয় সরকারের সদয়দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
১৮। ছাত্র-ছাত্রীরা শুধু পাশ করলেই চলবেনা বিশে^র শিক্ষা ব্যবস্থার সম পর্যায়ে আমাদের দেশের শিক্ষার গুণগত মান বজায় রাখতে হবে। আমরা লক্ষ্য করেছি উচ্চ মাধ্যমিক থেকে শুরু করে ¯œাতকোত্তর পর্যন্ত পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে কলেজে কোন ক্লাস হয়না এতে ছাত্র-ছাত্রীরা পিছিয়ে পড়ছে এবং অবসর সময় কাটাচ্ছে। তাই কলেজ পর্যায়ে পরীক্ষা কেন্দ্র বাদ দিয়ে অন্যত্র স্থায়ীভাবে পরীক্ষা কেন্দ্র স্থাপন প্রয়োজন। সিলেটের জন্য মেজরটিলা এলাকায় পরিত্যাক্ত টেক্সটাইল মিলের ভূমিতে পরীক্ষা কেন্দ্রটি স্থাপন করা যেতে পারে।
১৯। পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের চার বছর ডিপ্লোমা কোর্স করার পর অনেক ছাত্র-ছাত্রীরাই উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করতে পারছেনা। তাই ডুয়েটের ন্যায় সিলেটে ও অনুরুপ একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলার জন্য সদাসয় সরকারের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
২০। দেশের গুরুত্ব অনুধাবন করে সরকারি/আধাসরকারি/বিশেষ ব্যবস্থাপনায় একটি সিএ কলেজ ও হোটেল এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট স্থাপন আবশ্যক।
২১। পৃথিবীতে ১৯৩টি স্বাধীন দেশ রয়েছে। প্রতিটি দেশের ভাষা শিখতে পারলে আমাদের জনগন বিদেশ গমন করে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারবে। ফলে আমাদের দেশের রেমিটেন্স এর হার অনেক বৃদ্ধি পাবে। সিটি কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনায় অথবা সিটি কর্পোরেশন ও জনগনের যৌথ ব্যবস্থাপনায় একটি আন্তর্জাতিক ভাষা শিক্ষা একাডেমী স্থাপন করা প্রয়োজন।
২২। অসহায় ও অতি দরীদ্র ছাত্র-ছাত্রীদের  জন্য সিটি কর্পোরেশনের অধীনে একটি শিক্ষাবৃত্তি চালু করার জন্য সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
২৩। অন্ধ, বধির, পঙ্গু ও প্রতিবন্ধীদের সাহায্যার্থে বিশেষ কর্মসূচী গ্রহণ করার জন্য সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
২৪। কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে মহিলাদের জন্য দেশী বিদেশী ঘএঙ দের মাধ্যমে ক্ষুদ্র ঋনের ব্যবস্থা করা ।
২৫। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে সিটি কর্পোরেশন এর অধীনে সফতওয়্যার তৈরী সহ আইটি সেক্টর এর বিভিন্ন কোর্সের মাধ্যমে শিক্ষা প্রদানের জন্য একটি ইনস্টিটিউট স্থাপন অত্যাবশ্যক।
২৬। মহিলাদের কর্মসংস্থানের জন্য গার্মেন্টস ফ্যাক্টরী স্থাপন আবশ্যক।
২৭। সকল উন্নয়নে এবং দুর্নীতি প্রতিরোধে জবাবদিহীতা খুবই জরুরী। মহাহিসাব রক্ষক ও নিরীক্ষকের অধীনে ১২টি শাখা রয়েছে। সিলেটে মাত্র ২টি শাখা চালু করা হয়েছে অবশিষ্ট ১০টি শাখা এখানো চালু করা হয়নি। দুর্নীতি প্রতিরোধে  জাতীয় স্বার্থে মহা হিসাব রক্ষকের অধীনে অবশিষ্ট শাখা গুলোর অফিস চালু করার জন্য মাননীয় অর্থ মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
২৮। বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ ঃ- সিলেট সিটি কর্পোরেশনের অধীনে বৃটিশ আমলে বারুতখানায় পানি সরবরাহের একটি কেন্দ্র স্থাপিত হয়। বর্তমানে উক্ত সরবরাহ কেন্দ্রটি অকেজো/প্রায় বন্ধ অবস্থায় আছে। উক্ত স্থানটিতে নতুন প্ল্যান এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার জন্য বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের লক্ষ্যে প্ল্যান তৈরীর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
২৯। উল্লেখ প্রয়োজন যে, নতুন ভাবে প্ল্যান তৈরী করার জন্য যথেষ্ট ভুমি রয়েছে। বৃটিশ আমলে স্থাপিত পানি সরবরাহ কেন্দ্রের পাশেই সিটি কর্পোরেশনেরই ভূমি রয়েছে। উক্ত ভূমিতে জরাজীর্ণ অবস্থায় কয়েকটি কোয়ার্টার রয়েছে। উল্লেখিত ভূমিতে বহুতল ভবন নির্মান করে দিলে সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা/কর্মচারীদের আবাসন ব্যবস্থার সমস্যা দূরীকরণ সম্ভব। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনার জন্য সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
৩০। সিলেটকে বাণিজ্যিক ও শিল্প নগরী হিসাবে গড়ে তোলার জন্য ই,পি,জেড/বিশেষ অর্থনৈতিক জোন স্থাপন করা আবশ্যক।
৩১। যাত্রী ছাউনী ও বুক স্টল স্থাপন ঃ- ১। বর্তমান জেলখানার পাশে ২। মদিনা মার্কেটে ৩। আম্বরখানায় ৪। হুমায়ুন রশীদ চত্বরে ৫। কদমতলী ৬। দক্ষিণ সুরমা এলাকায় ক্ষীণব্রীজের পাশে যাত্রী ছাউনী স্থাপন ও এরই পাশে বই ও পত্রিকা বিক্রির ব্যবস্থা করার জন্য সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
৩২। অনুমান  করা যাচ্ছে  সাময়িকভাবে গ্যাস সংযোগ স্থগিত রয়েছে। অনুগ্রহ পূর্বক পুনরায় গ্যাস সংযোগ দেওয়া যায় কিনা তা বিবেচনার জন্য কর্তৃপক্ষের কৃপা দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
৩৩। সিলেট থেকে ঢাকা পর্যন্ত সরাসরি সম্পূর্ণ বিরতিহীন একটি দ্রুতগামী ট্রেন চালু করার জন্য সদাশয় সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। 
৩৪। সিলেট কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠটি সিলেটের ঐতিহ্য। প্রতি নিয়তই জনসংখ্যা বাড়ছে। অনেক মসজিদেই ঈদের  জামাত অনুষ্ঠিত হয়। ঈদগাহ মাঠের উঁচু অংশের পশ্চিমাংশে কিছু খালি জায়গা রয়েছে। উক্ত খালি জায়গা ভরাট করে ঈদগাহ সম্প্রসারণ করা যায় কিনা সিলেটের শ্রদ্ধেয় গুণীজনদের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
৩৫। পবিত্র হজ¦ পালনের জন্য হাজী সাহেবদের কষ্ট লাঘবের লক্ষ্যে সিলেটে একটি স্থায়ী হাজী ক্যাম্প স্থাপন করা আবশ্যক। বিষয়টি সদয় বিবেচনার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
৩৬। জবাবদিহীতা নিশ্চিত করার জন্য বই আকারে শে^তপত্র প্রকাশ ঃ- প্রত্যেক বছর সরকারি বরাদ্ধ এবং সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন খাতের  অভ্যন্তরীন আয় উভয়টি মিলে সর্বমোট অর্থ কোন কোন খাতে কোন কোন ¯া’নে কত টাকা ব্যয় হয়েছে এর উপর ভিত্তি করে প্রত্যেক আর্থিক সাল শেষে অর্থাৎ জুলাই মাসে বই আকারে শে^তপত্র প্রকাশ করার জন্য সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
৩৭। উল্লেখিত প্রস্তাবনাগুলো বাস্তাবায়নে ইউ এন ডিপি, ইউনিসেফ, ইউনিস্কো সহ আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থা সমূহের সহায়তা নেয়া যেতে পারে।   
৩৮। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সার্বিক সফলতা কামনা করছি। আল্লাহ আমাদের সহায় হোন।।
প্রস্তাবনা গুলো যাচাই-বাচাই,পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার জন্য একটি বিশেষজ্ঞ/গবেষক টিম গঠন করা যেতে পারে।

      লেখকঃ মোঃ নূরুল ইসলাম মজুমদার
           লেখক, গবেষক ও কলামিষ্ট
        মোবাইল : ০১৭১৬-২৪২৮০৬।

No comments: