ভিক্ষুকের জীবন ত্যাগ করে জুনাব আলীর চোখে নতুন স্বপ্ন!

আব্দুর রহমানঃ একটু উৎসাহ, উদ্দীপনা ও আর্থিক সহযোগীতা বদলে দিতে পারে অস্বচ্ছল কোন ব্যক্তি জীবনের পাতা। এমনই এক ব্যক্তি জুনাব আলী (৬৫) প্রায় ২০ বছর যাবৎ ভিক্ষার ঝুঁলি নিয়ে মানুষে বাসা/বাড়ি ও ধারে ধারে প্রতিদিনই ঘুরে বেড়াতেন। যাতে পরিবারের দু’বেলা আহার জুটে। জুনাব আলীর সংসারে তিনি ব্যতিত উপার্জনের জন্য আর উপযুক্তও কেউ নেই ! অভাব অনটনের সংসারে তিনিই ছিলেন একমাত্র জীবিকা অনষনের উৎস। আর জীবিকা নির্বাহের একমাত্র মাধ্যম তিনি ভিক্ষাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করা ছাড়া দ্বিতীয় কোন পথও ছিল না তার।

তিনি ভিক্ষুকমুক্ত জুড়ী উপজেলা প্রশাসনের দানকৃত সামগ্রী পেয়ে নিজের অতীত জীবন পরিবর্তন করতে পেরেছেন। দিকদিগন্তের সাথী ভিক্ষার ঝুঁলি ত্যাগ করে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার স্বপ্নকে বুকে ধারণ করে এগিয়ে যাচ্ছেন সামনের দিকে। গত ৭ জুলাই থেকে স্থানীয় সাগরনাল বাজারে শুরু করেছেন কাঁচা মালের ব্যবসা। এখন তার চিন্তাচেতনা আর কারো হাতের দিকে না তাকিয়ে কিভাবে ছোট-খাট ব্যবসা বড় করে স্বচ্ছলভাবে বেঁচে থাকা যায়। তিনি ভিক্ষুকমুক্ত মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার সাগরনাল ইউনিয়নের দক্ষিণ বড়ডহর গ্রামের বাসিন্দার। স্ত্রী, ৫ মেয়ে ও ১ ছেলে নিয়ে তার সংসার।

জানা গেছে, সম্প্রতি গত ৭ জুলাই উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক জুড়ী উপজেলাকে ভিক্ষুক মুক্ত উপজেলা হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। এতে উপজেলার ৬ ইউনিয়নের ৬৪ জন ভিক্ষুকের তালিকা করে, তাদের মাঝে চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন উপকরণ দানসামগ্রী বিতরণ করা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় জুনাব আলীর চাহিদা ছিল কাঁচা মাল (তরকারি) ব্যবসার পণ্যের। তার চাহিদা মতো পণ্য দেওয়া হলে, ওইদিনই সে পণ্য নিয়েই নিজ বাড়িতে না গিয়ে স্থানীয় বাজারে ব্যবসা শুরু করে দেয়। এতে তার যেমন ব্যবসা হচ্ছে তেমন ব্যবসার আয়ে এখন পরিবারও চলছে ভালোভাবে।

আলাপকালে জুনাব আলী বলেন, আমার স্বপ্ন ছিল আমি ব্যবসা করবো। কিন্তু পুঁজি কোথায় পাব ? দরিদ্র মানুষকে কি কেউ ঋণ-ধার দেয় ! এমন চিন্তা সবসময় আমার মনে জাগত। আমি জুড়ী উপজেলা প্রশাসনের কাছে চিরঋণী ও কৃতজ্ঞ। যারা আমাকে নিন্দনীয় পেশা থেকে মুক্ত করে স্বনির্ভরশীল হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন।

জুড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার অসীম চন্দ্র বনিক বলেন, সত্যি আজ আমরা আনন্দিত, গর্বিত। আমরা যাদেরকে উপকরণ দিয়েছি, তারা আজ নিজেরাই সেই উপকরণ পেয়ে স্বনির্ভরশীল হওয়ার স্বপ্ন বুনছেন।

No comments: