যে গ্রামে বউ ভাড়া করেন পুরুষরা!

বিয়ে করার অনেক ঝামেলা। একই সঙ্গে রয়েছে অনেক দায়দায়িত্ব। সেই সকল প্রতিকুলতা ছাড়া ভাড়া কড়া বউ নিয়ে দাম্পত্য জীবন কাটানো যায় ভারতের মধ্যপ্রদেশের শিবপুরি জেলায়। প্রক্রিয়াটি আইন সম্মত করতে স্ট্যাম্প পেপারে চুক্তিও করে নেওয়া হয়।
নারী স্বাধীনতা এবং নারী ক্ষমতায়ন নিয়ে চর্চা চলছে দেশ তথা সমগ্র বিশ্ব জুড়ে। ভারতের একাধিক রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পদে রয়েছেন মহিলা, এছাড়াও অনেক প্রশাসনিক শীর্ষপদে মহিলাদের বসার নজির রয়েছে এই দেশে। সেই অবস্থায় এই রেওয়াজ প্রকাশ্যে আসায় প্রশ্নের মুখে নারী স্বাধীনতা।
কোনও নারীকে ভাড়া করে স্ত্রী হিসেবে নিজের কাছে রাখা নারী কেনাবেচার সমতুল। কিন্তু মধ্যপ্রদেশের শিবপুরি জেলার গোয়ালিয়র ডিভিশনে এই নিয়ে কারও কোনও অনুতাপ নেই। কারণ, এই রেওয়াজ যে দীর্ঘদিনের। যা ওই রাজ্যের উত্তর পশ্চিম এলাকায় 'ধাদিচা' প্রথা নামে পরিচিত। আর্থিকভাবে স্বচ্ছল পুরুষেরা ভাড়া কড়া স্ত্রী নিয়ে সংসার করতে পারেন অবলীলায়। আরও ভালো করে বললে ভাড়া করা নারী নিয়ে মেটাতে পারে নিজেদের যৌনসুখ।
মাত্র দশ টাকার স্টাম্প পেপারে হয়ে যায় চুক্তি। মাস বা বছরের হিসেবে ভাড়া দেওয়া হয় নারীদের। চুক্তি শেষ হয়ে গেলে তা ফের নবীকরণ করা যায়। বেশি পয়সা দিলে বেশি দিনের জন্য পাওয়া যায় ভাড়া কড়া স্ত্রী।
রীতিমতো খোলা বাজারে দাঁড় করিয়ে নিলাম হয় নারীদের। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে এই নিন্দনীয় প্রথা। যা নিয়ে কোনও মাথাব্যাথা নেই সমাজের। ধনীদের ভাড়ায় বউ নিয়ে থাকার ক্ষমতা রয়েছে, তারা সেটা করে থাকে। এটাই রেওয়াজ কারোর কিছু বলার নেই।

এই ধরনের নিলাম করে নারী বিক্রি করে ইসলামিক স্টেটের জঙ্গিরা। অপহরণ করে নিয়ে আসা নারীদের যৌনদাসী হিসেবে বিক্রি করতো আইএসআইএস জঙ্গিরা। রীতিমতো ঈশ্বরের নামে স্লোগান দিয়ে চলত 'যৌনদাসী'দের নিলাম। এই সংক্রান্ত অনেক ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে বিভিন্ন সময়ে। বিশ্বের কুখ্যাত জঙ্গি সংগঠনের সমতুল কারবার ভারতেও চলেছে। এবং তা চলে আসছে দীর্ঘদিন ধরে।
মধ্যপ্রদেশের বিষয়টি প্রথম প্রকাশ্যে আসে ২০১৭ সালে। বিয়ে বাড়িতে গিয়ে নিজের স্ত্রীকে এক ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করে দিয়েছিল ইন্দোরের এক ব্যক্তি। ৩০ হাজার টাকায় কেনা সেই মহিলাকে অসংখ্যবার ধর্ষণের পরে ওই ব্যবসায়ী শিবপুরিতে বিক্রি করে দেয়। সেখান থেকে পালিয়ে এসে পুলিশকে জানায় নিজের দুর্দশার কথা। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে ওই নারীর স্বামীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
শুধু মাত্র মধ্যপ্রদেশ নয়। গুজরাতেও এই ধরনের ঘটনার নজির রয়েছে। ২০০৬ সালে এক ব্যক্তি নিজের স্ত্রীকে মাসিক আট হাজার টাকার বিনিময়ে এক ব্যবসায়ীর কাছে ভাড়া দিয়ে দিয়েছিল।

No comments: