ওসির জন্য প্রাণে বাঁচল স্কুলছাত্র


কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় দুর্ঘটনাকবলিত বালুভর্তি একটি ট্রাক উদ্ধার করে থানায় নেওয়ার পথে আবারও ঘটে দুর্ঘটনা। ব্রিজে ওঠার সময় রেলিং ভেঙে সেখানে চাপা পড়ে মো. ইসরাফিল (১৫) নামের নবম শ্রেণির এক ছাত্র।
কিন্তু তার পা ও শরীর রেলিংয়ের সঙ্গে আটকে থাকায় তাকে উদ্ধারে দেখা দেয় বিপত্তি। ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহজাহান কবিরসহ পুলিশ সদস্যরা। ওসি প্রায় ৪০ মিনিট ব্রিজের রেলিংয়ে ঝুলে থাকা নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে আটকে পড়া ওই স্কুলছাত্রকে রক্ষা করেন।
২৮ জুন, বৃহস্পতিবার ব্রাহ্মণপাড়া থানার সামনে এ ঘটনা ঘটে। ইতোমধ্যে ব্রিজের রেলিং ধরে সেখানে ওসির ঝুলে থাকার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা সদরের দক্ষিণ বাজারে একটি বালুভর্তি ট্রাকের চাপায় স্থানীয় সাহেবাবাদ লতিফা ইসমাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের এক স্কুলছাত্র ও নগরপাড় গ্রামের জয়দল হোসেনের ছেলে মো. হৃদয় (১৪) আহত হন। এসময় এলাকাবাসী ট্রাকটি আটক করলেও ট্রাকচালক ও হেলপার পালিয়ে যায়।
খবর পেয়ে বিদ্যালয়ের কয়েকশ শিক্ষার্থী উপজেলা সদরে বিক্ষোভ করে থানার সামনে উপস্থিত হয়ে ট্রাক চালককে গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এতে জেলা নির্বাহী অফিসার ও ওসি ট্রাকচালক ও হেলপারকে আটক করে আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দেন।
এরপর ঘটনাস্থল থেকে বালুভর্তি ট্রাকটি থানায় প্রবেশ করানোর জন্য থানার সামনের ব্রিজের ওপরে নিয়ে আসা হলে অ্যাপ্রোস সড়কের মাটি সড়ে গিয়ে ব্রিজের রেলিংয়ের সঙ্গে ট্রাকটি হেলে পড়ে। এ সময় প্রতিবাদ জানাতে আসা ৯ম শ্রেণির ছাত্র সাহেবাবাদ পূর্বপাড়া গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে ইসরাফিল ট্রাক এবং ব্রিজের রেলিংয়ের মাঝখানে চাপা পড়ে।
এক পর্যায়ে সহপাঠীরা তাকে তাৎক্ষণিক বের করে আনার চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়। পরে থানার ওসি শাহজাহান কবির জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রায় ৪০ মিনিট ব্রিজের রেলিংয়ে ঝুলে থেকে এলাকাবাসী ও পুলিশ সদস্যদের সহযোগিতায় ব্রিজের রেলিং ভেঙে আটকে পড়া ও মারাত্মক আহত ছাত্রটিকে উদ্ধার করে।
পরে তাকে স্থানীয় ব্রাহ্মণপাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং অবস্থার অবনতি হওয়ায় সন্ধ্যায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ডাক্তাররা জানান, ইসরাফিলের ডান পায়ের ওপরের অংশ ভেঙে গেছে এবং শরীরের নিচের অংশ থেতলে গিয়ে সে মারাত্মভাবে আহত হয়েছে।

No comments: