১ হাজারের বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের ভাগ্য খুলছে

দীর্ঘ প্রায় আট বছর পর বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করতে যাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বিশেষ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১ হাজারের বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘুচতে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (স্কুল-কলেজ) কার্যক্রমের জন্য দুটি কমিটি গঠন করে দিয়েছেন। আজ সোমবার বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোতে (ব্যানবেইস) যৌথ কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে।যে দুই কমিটির মাধ্যমে এমপিওভুক্তির জন্য আবেদন গ্রহণ ও যাচাই-বাছাই করা হবে তার একটির প্রধান করা হয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (বেসরকারি মাধ্যমিক) জাবেদ আহমেদকে। তার নেতৃত্বে গঠন করা হয় নয় সদস্যের ‘প্রতিষ্ঠান বাছাই কমিটি’। এই কমিটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০১৮ অনুযায়ী নতুন এমপিওভুক্তির জন্য সরকারের কাছে সুপারিশ করবে। আর অনলাইনে আবেদন গ্রহণের জন্য আট সদস্যের কারিগরি কমিটির প্রধান করা হয়েছে ব্যানবেইসের মহাপরিচালক মো. ফসিউল্লাহকে। এই কমিটি নীতিমালা অনুযায়ী শর্ত পূরণ করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রস্তুত করার জন্য অনলাইনে আবেদন গ্রহণ করবে। সফটওয়্যারের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রস্তুত করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেরে গ্রেডেশন তালিকা বাছাই কমিটির কাছে উপস্থাপন করবে এই কমিটি। সর্বশেষ ২০১০ সালে ১ হাজার ৬২৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হয়। আর বর্তমানে সারা দেশে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে ৫ হাজার ২৪২টি।শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা আমার সংবাদকে জানান, এমপিওভুক্তর নতুন নীতিমালা হয়ে গেছে। এখন এর আলোকে শিগগিরই অনলাইনে এমপিও-প্রত্যাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে আবেদন গ্রহণ করা হবে। নতুন সফটওয়্যার তৈরি হচ্ছে। আবেদনের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য যাচাই বাছাই করার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবের (মাধ্যমিক) নেতৃত্বে একটি কমিটির খসড়াও প্রস্তুত করা হয়েছে। যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক কর্মচারীদের মাসিক বেতন -ভাতা বাবদ সরকারি অংশ (শত ভাগ মূল বেতন ও কিছু ভাতা) দেওয়া হয়, সেগুলোকে এমপিওভুক্ত বলা হয়। আর যেগুলো এমপিওভুক্ত নয় সেগুলোর শিক্ষক-কর্মচারীরা সরকার থেকে কোনো আর্থিক সুবিধা পান না।শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্রমতে, সারাদেশে কতগুলো স্বীকৃতি পাওয়া বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে এবং এর মধ্যে কতগুলো এমপিওভুক্ত হওয়ার মত অবস্থায় আছে, সেগুলোর তথ্য সংগ্রহ, যাচাই-বাছাই এবং কমিটি গঠনসহ আনুষাঙ্গিক প্রাথমিক কাজ আগামী ১৫ দিনের মধ্যে শেষ করতে নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো: সোহরাব হোসাইন। সম্প্রতি এই নির্দেশনা দেয়া হয়। অর্থ বিভাগের সঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যে কথাবার্তা হয়েছে, তাতে হাজারখানেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হবে বলে তাঁরা বুঝতে পেরেছেন। প্রস্তাবিত বাজেটেও সেভাবেই অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বর্তমানে এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে প্রায় ২৮ হাজার। এগুলোতে শিক্ষক কর্মচারী আছেন প্রায় ৫ লাখ। তাদের বেতন-ভাতা বাবদ মাসে খরচ হয় প্রায় সাড়ে নয়’শ কোটি টাকা। এর বাইরে স্বীকৃত পাওয়া নন- এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে ৫ হাজার ২৪২ টি। এগুলোতে শিক্ষক কর্মচারী আছে ৭৫ থেকে ৮০ হাজার। স্বীকৃতির বাইরে আছে ২ হাজারেরও বেশি নন এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের সূত্রমতে, স্বীকৃত প্রাপ্ত সব প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করা হলে ওই সব প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৮০ হাজার শিক্ষক- কর্মচারীকে এমপিওভুক্ত করলে মাসে আরও প্রায় দেড়শ কোটি টাকা খরচ হবে। যদিও সরকারের পরিকল্পনা হলো হাজারখানেক প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা। এদিকে এমপিওভুক্তির দাবিতে ঈদের আগে থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান করছেন নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা। এমপিওভুক্তির কমিটির সভার ব্যাপারে জানতে চাইলে নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের নেতারা আমার সংবাদকে জানান, নতুন নীতিমালার ভিত্তিতে হাজার খানেক প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির কথা বলছে মন্ত্রণালয়। কিন্তু তাদের দাবি পুরনো নীতিমালা অনুযায়ী স্বীকৃতি পাওয়া সব বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা। সব দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন তারা।

No comments: