বৈশাখি ভাতা, ইনক্রিমেন্ট ও এমপিও তিন সুখবর

প্রস্তাবিত বাজেটেই কপাল খুলছে নন-এমপিও ও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তিতে ৫০০ কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে। আর এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের দাবি সরকারি চাকরিজীবীদের মতো বার্ষিক পাঁচ শতাংশ হারে ইনক্রিমেন্ট ও বৈশাখী ভাতার জন্য বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। কৌশলগত কারণে বিষয়টি প্রস্তাবিত বাজেটে স্পষ্ট করা হয়নি। তবে আগামী ৩০শে জুন জাতীয় সংসদে বাজেট পাসের আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে পারেন বলে অর্থ ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।
বিষয়টি স্বীকার করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন রবিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, শিক্ষকদের জন্য সুখবর আছে। তবে একটু অপেক্ষা করতে হবে। বাজেটে সুস্পষ্ট ঘোষণা না থাকার বিষয়ে সচিব বলেন, সব কিছু বাজেটে থাকবে বিষয়টি এমন নয়। এটি হয়তো প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ বরাদ্দ থেকে ঘোষণা দিতে পারেন। এর জন্য আন্দোলন নয়, বাজেটে জাতীয় সংসদে পাস না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
এদিকে বাজেটে এমপিও নিয়ে সুস্পষ্ট ঘোষণা না আসায় ফের আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছিলেন নন এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী রবিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে জড়ো হয়েছিলেন কয়েকশ শিক্ষক। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মসূচি শুরুর আগেই পুলিশ নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে আটক করে নিয়ে যায়। পরে আন্দোলন স্থগিত করার প্রুতিশ্রুতিতে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়। এ ব্যাপারে ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যক্ষ মাহমুদন্নবী ডলার বলেন, কর্মসূচি ঈদ পর্যন্ত স্থগিত রাখার অনুরোধ করেছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা। সরকারের ঘোষণা না এলে আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাবো। 
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, প্রস্তাবিত বাজেটে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের জন্য ১৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ বরাদ্দ থেকে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বার্ষিক পাঁচ শতাংশ ইনক্রিমেন্টে ৪০০ কোটি টাকা, বৈশাখী ভাতার জন্য ১৮৬ কোটি টাকা এবং নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি করতে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হবে। সরকার রাজনৈতিক কৌশলগত কারণে প্রস্তাবিত বাজেটে বিষয়টি স্পষ্ট করেনি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনী বছরে শিক্ষকদের জন্য উপহার হিসেবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে পারেন। তাই প্রস্তাবিত বাজেটে এ তিনটি খাতের কথা অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তৃতায় উল্লেখ করেননি।
সরকারের এমন প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী অবসর বোর্ডের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ শরীফ আহমেদ সাদী বলেন, প্রধানমন্ত্রী যা বলেন, তাই করেন, এর প্রমাণ তিনি আগেও রেখেছেন। তিনি আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন, সে ওয়াদা তিনি রাখছেন। শিক্ষক-কর্মচারীদের ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট ও বেতনের ২০ ভাগ বৈশাখী ভাতা পাবেন শিক্ষকরা।

No comments: