এমপিওভুক্তির দাবি আমরণ অনশনে ২৪ জন অসুস্থ

এমপিওভুক্তির দাবিতে বেসরকারি শিক্ষকদের আমরণ অনশন দ্বিতীয় দিনের মতো অব্যাহত আছে। রোদ-বৃষ্টির মধ্যে রাস্তার পাশে অনাহারে থাকা এসব শিক্ষকের অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।
মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত ২৪ জনের অসুস্থ হয়ে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে আলতাফ হোসেন নামে একজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এছাড়া সাধারণ সম্পাদক ড. বিনয় ভূষণ রায়সহ আরও ১০ জনকে স্যালাইন দিয়ে অনশনস্থলে রাখা হয়েছে। বাকিরা হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের ব্যানারে সোমবার থেকে অনশন চলছে। অবশ্য গত ১০ জুন থেকে তারা ধারাবাহিকভাবে নানা কর্মসূচি পালন করছেন। জাতীয় প্রেসক্লাবের বিপরীত দিকে সড়কের পাশে শিক্ষকরা অবস্থান নিয়েছেন। ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যক্ষ গোলাম মাহমুদুন্নবী ডলার যুগান্তরকে বলেন, অনশন দু’দিন ধরে চললেও শিক্ষকরা কোনোরকম বা না খেয়ে ১৭ দিন ধরে রাজপথে আছে। অনেকে রাজপথে ঈদ করেছেন।
তিনি বলেন, ২০১০ সাল থেকে এমপিওভুক্তি বন্ধ আছে। এর আগে আরও ২৭বার এমপিওভুক্তি আশ্বাস পেয়ে তারা ঘরে ফিরেছেন। সর্বশেষবার প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে তার কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা আশ্বাস দেয়ায় তারা অনশন ভেঙেছিলেন। কিন্তু বাজেটে নতুন এমপিওভুক্তির ব্যাপারে কোনো দিকনির্দেশনা না দেখে আন্দোলনে নেমেছেন।
মাহমুদুন্নবী ডলার বলেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কার্যকর কোনো উদ্যোগ না দেখা পর্যন্ত তাদের এবারের আন্দোলন চলবে। স্বীকৃতি পাওয়া সব কটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত না হওয়া পর্যন্ত তারা আমরণ অনশন চালিয়ে যাবেন।
অনশনস্থলে স্যালাইন দিয়ে রাখা শিক্ষকরা হলেন, পঞ্চগড়ের আবদুল কুদ্দুস, গাইবান্ধার মাসুম বিল্লাহ, সাতক্ষীরার রাবেয়া বেগম ও ইসহাক হোসেন, কুষ্টিয়ার আবদুর রাজ্জাক, যশোরের শরীফুল ইসলাম, দিনাজপুরের ইবনে ফজল, বরিশালের রুনা খানম।
ফেডারেশনের সভাপতি বলেন, আমরণ অনশনরত কোনো শিক্ষকের মৃত্যুর দুঃসংবাদ শোনার আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এমপিওভুক্তির আশ্বাস বাস্তবায়নের জোর দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় আমরণ অনশন অব্যাহত থাকবে।

No comments: