রাজবাড়ী-২ আসনে আওয়ামীলীগ-বিএনপির কোন প্রার্থী জনপ্রিয়


রিজাউল করিম : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজবাড়ী-২ ( পাংশা, বালিয়াকান্দি ও কালুখালী) উপজেলার রাজনৈতিক অঙ্গন এখন মুখরিত। আওয়ামী লীগ, বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা নানাভাবে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। তৃণমূলের পাশাপাশি কেন্দ্রেও দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন তাঁরা। নেতারা পাড়া-মহল্লায় গিয়ে মানুষের আস্থা অর্জনের চেষ্টা, কুশলাদী বিনিময়সহ নানা ধরনের প্রচারনা চালাচ্ছেন।
রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলার ১০টি, বালিয়াকান্দি উপজেলার ৭টি ও কালুখালী উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন নিয়ে রাজবাড়ী-২ সংসদীয় আসন। বর্তমানে আসনটি মতাসীন আওয়ামী লীগের দখলে। আগামী নির্বাচনে আসনটি ধরে রাখতে মরিয়া দলটি। অন্যদিকে বিএনপি এ আসনে আবার জিততে মরিয়া। দুই দলের ভোটে প্রতিদ্বন্দিতা করার আগে মনোনয়ন পাওয়ার লড়াইয়ে নামছে হচ্ছে সম্ভাব্য প্রার্থীরা। বর্তমান সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মোঃ জিলুল হাকিম, বাংলাদেশ কৃষকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য, দৈনিক জনতার আদালত পত্রিকার সম্পাদক নুরে আলম সিদ্দিকী হক, আওয়ামী লীগের টিকিটে নির্বাচন করতে চান। বিএনপির মনোনয়ন চান সাবেক সংসদ সদস্য নাসিরুল হক সাবু, জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক হারুন অর রশিদ হারুন।

আওয়ামী লীগ ঃ শাসক দলটির নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জাতীয় সংসদের ২১০ নম্বর নির্বাচনী এলাকা পাংশা, বালিয়াকান্দি ও কালুখালীতে আওয়ামী লীগে নিজেদের মধ্যে প্রকাশ্যে বিরোধ নেই। অবশ্য দলের কেউ কেউ বঞ্চিত হয়ে ভেবে দূরে সরে আছেন। তবে বেশির ভাগ নেতাকর্মীই বলছে, নৌকাকে বিজয়ী করতে যাঁকে দল মনোনয়ন দেবে তাঁর পইে কাজ করবে তারা। মনোনয়নের উপরই নির্ভর করবে আওয়ামীলীগের ভোটের লড়াই। তারপরও বসে নেই সম্ভাব্য প্রার্থীরা। নুর আলম সিদ্দিকী হকই বেশি সময় দিচ্ছেন নেতাকর্মীদের সাথে। আপদে বিপদে পাশে গিয়ে দাড়াচ্ছেন। থেমে নেই অন্য প্রার্থীরাও।

জিল্লুল হাকিম ১৯৯৬ সালে প্রথম সংসদ সদস্য হন। দলের সভাপতি শেখ হাসিনা তাঁকে চারবার এ আসন থেকে প্রার্থী মনোনয়ন দেন। এর মধ্যে তিনবার তিনি বিজয়ী হন। তাঁর সময়ে পাংশা, বালিয়াকান্দি ও কালুখালী উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রায় প্রতিটি সড়ক পাকা হয়েছে। পাংশা ও বালিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেক্স দুটি ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত হয়েছে। কলেজ, মাদারাসা, উচ্চ বিদ্যালয় ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুই শতাধিক ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। ২০টি বড় ও অর্ধশতাধিক ছোট সেতু হয়েছে। রাস্তা,ঘাট, ব্রীজ, কালভার্ট, মসজিদ, মন্দির, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, বিদ্যুৎসহ রাজবাড়ী-২ আসনে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে।

কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও আওয়ামীলীগের অর্থ ও পরিকল্পনা উপ-কমিটির সদস্য নুরে আলম সিদ্দিকী হক কালুখালী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় সাপোর্ট না পেলেও সাধারন ভোটারদের সমর্থন নিয়ে প্রতিদ্বন্দিতা করে অল্প ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। তারপরও থেমে থাকেনি হক। ক্ষোভকে শক্তিতে পরিনত করে গণমানুষের সঙ্গে নিয়ে পাড়া, মহল্লা, গ্রাম, ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীদের আপদেষ-বিপদে পাশে আছেন সব সময়। সাধারন মানুষের প্রাণের নেতা হিসেবে বর্তমানে সমাদ্রিত হয়েছেন। একজন নেতার যে গুনাবলী থাকার কথা তার চেয়ে কমতি নেই হকের মধ্যে। রাজবাড়ী-২ আসনে তার চেনে না বা জানে না এমন কোন লোক পাওয়া দুষ্কর। প্রাণের মানুষ হিসেবেই ভালোবাসায় তার কাজকে যেন এগিয়ে দিয়েছে জনসাধারন। আগামী সংসদ নির্বাচনে জননেত্রী শেখ হাসিনা তরুণ নেতৃত্বকে এগিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। সে অনুযায়ী যদি তাঁকে মনোনয়ন দেওয়া হয়, তাহলে তিনি বিজয়ী হওয়ার ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। সকল শ্রেণী-পেশার মানুষের সাথে নিবিড় যোগাযোগ করাসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগদান, বঞ্চিত নেতাকর্মীদের পাশে থেকে অনুপ্রেরনা দিয়ে যাচ্ছেন। বিভিন্ন সভা-সমাবেশ করে নিজের অবস্থান শক্ত তৈরী করছেন। ঈদে শুভেচ্ছা পোষ্টারসহ মতবিনিময় করছেন। রাজবাড়ী-২ আসনে হক একজন জনপ্রিয় নেতা হিসেবে পরিচিত। এখন মনোনয়ন লড়াইয়ে ব্যস্ত।

নুরে আলম সিদ্দিকী হক এ প্রসঙ্গে বলেন, আমি মানুষের ভালোবাসা নিয়ে মাঠে আছি। রাজনীতিতে সমতা আনার চেষ্টা করছি। এলাকার আওয়ামীলীগের বঞ্চিত ও অবহেলিত, নির্যাতিত নেতাকর্মীদের সব সময় সাহস যুগিয়ে তাদের মাঠে কাজে লাগিয়েছি। তাই আজ নেতাকর্মীরা উজ্জেবিত। জননেত্রী শেখ হাসিনা তাকে মনোনয়ন দিলে শতভাগ বিজয়ে আশাবাদী।

বিএনপিঃ রাজবাড়ী-২ নির্বাচনী এলাকায় বিএনপির মধ্যে প্রকাশ্যে বিরোধ রয়েছে। দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাবেক সংসদ সদস্য নাসিরুল হক সাবু এবং জেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদের মধ্যে এ বিরোধ। দলীয় সূত্রে এমন তথ্য জানা গেছে। তবে সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপির প্রার্থী ও নেতাকর্মীরা তৎপর। এ আসনে দলটির সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য পাংশা উপজেলা বিএনপির সভাপতি নাসিরুল হক সাবু ছাড়াও আছেন জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক হারুন অর রশিদ। নাছিরুল হক সাবু নানা প্রতিকূলতার মধ্যে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে মাঠে রয়েছেন। রাজবাড়ী-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে এর আগে তিনি বিজয়ী হয়েছেন। এ আসনের সাধারণ মানুষ, ভোটার ও দলীয় নেতাকর্মীরা তাঁকে ভালোবাসে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় সভানেত্রী তাঁকেই মনোনয়ন দেবেন। মনোনয়ন পেলে একাট্টা হয়ে মাঠে নামবে দলীয় নেতাকর্মীরা।

হারুন অর রশিদ দলের কাছে তিনি মনোনয়ন চাইবেন। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপে নির্বাচন হলে আগামী সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবেন। তিনি দলের দুঃসময়ে দলের হাল ধরেছেন তাই তাকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে বলেও আশাবাদী।

No comments: