দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ

বিশেষ প্রতিনিধিঃ মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় দ্বিতীয় শ্রেণির এক ছাত্রী (৮) ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের (ওসিসি) মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য ওই ছাত্রীকে মৌলভীবাজারের ২৫০ শয্যার হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার কুলাউড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ ও ছাত্রীর স্বজন সূত্রে জানা যায়, ওই ছাত্রীর বাবা বেঁচে নেই। তাঁর মা বিভিন্ন বাড়িতে কাজ করেন। মেয়েকে নিয়ে তিনি একটি কলোনিতে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকেন। গতকাল বুধবার শিশুটির গণিত বিষয়ের পরীক্ষা ছিল। দুপুরে খাবার শেষে মা তাকে পড়ায় বসিয়ে জরুরি কাজে বাইরে বেরিয়ে পড়েন। এই সুযোগে প্রতিবেশী আজমান উল্লা (৫৫) বাসায় ঢুকে শিশুটিকে ধর্ষণ করেন। কাজ শেষে মা বাসায় ফেরার পর শিশুটি কেঁদে কেঁদে তার মাকে ঘটনাটি জানায়। মা শিশুটিকে কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসকের পরামর্শে ওসিসির মাধ্যমে তাকে মৌলভীবাজারের হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ওসিসির কর্মসূচি কর্মকর্তা আমান উল্লাহ বৃহস্পতিবার বিকেলে মুঠোফোনে বলেন, ‘ধর্ষণের আলামত দেখে দ্রুত শিশুটিকে আমরা মৌলভীবাজারের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিই। এ ছাড়া জুড়ী থানার ওসিকেও বিষয়টি জানিয়েছি। মৌলভীবাজার থেকে ফিরে শিশুটির মা মামলা করবেন।’

শিশুটির মা মুঠোফোনে বলেন, ‘কামকাজ করি খাই। একমাত্র মেয়েটার সর্বনাশ হই গেল। আসপাতালো (হাসপাতালে) শুইয়া মেয়েটা খালি কান্দে। আমি এইটার বিচার চাই।’

জুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জালাল উদ্দিন বলেন, শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেল তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিকেল পাঁচটার দিকে অভিযুক্ত আজমানের বাসায় গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি। তিনি কোথায় গেছেন আশপাশের কেউ জানেন না। তাঁর সঙ্গে কোনোভাবে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় তিনজন বাসিন্দা জানান, শিশুটিকে নির্যাতনের ঘটনাটি শুনেছেন তাঁরা।

No comments: