জুড়ীতে স্কুলছাত্রীর ধর্ষককে আটক করিয়ে দিলেন ইউপি সদস্য খোরশেদ আলম

ষ্টাফ রিপোর্টারঃ মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে (৮) ধর্ষণের ঘটনায় আজমান উল্লা ওরফে আজমান মিয়া (৫৫) নামের এক ব্যক্তিকে স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য খোরশেদ আলমের সহায়তায় আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৬ এপ্রিল) কুলাউড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ ও ছাত্রীর স্বজন সূত্রে জানা যায়, ওই ছাত্রীর বাবা বেঁচে নেই। তাঁর মা বিভিন্ন বাড়িতে কাজ করেন। মেয়েকে নিয়ে তিনি পোষ্ট অফিস রোডস্থ সাবেক ইউপি সদস্য কামরুল মিয়ার কলোনিতে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকেন। গত বুধবার (২৫ এপ্রিল) শিশুটির গণিত বিষয়ের পরীক্ষা ছিল। দুপুরে খাবার শেষে মা তাকে পড়ায় বসিয়ে জরুরি কাজে বাইরে বেরিয়ে পড়েন। এই সুযোগে প্রতিবেশী আজমান মিয়া বাসায় ঢুকে শিশুটিকে ধর্ষণ করেন। কাজ শেষে মা বাসায় ফেরার পর শিশুটি কেঁদে কেঁদে তার মাকে ঘটনাটি জানায়। মা শিশুটিকে কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসকের পরামর্শে ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের (ওসিসি) মাধ্যমে তাকে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা হাসপাতালে পাঠানো হয়। ওসিসির কর্মসূচি কর্মকর্তা আমান উল্লাহ বৃহস্পতিবার বিকেলে মুঠোফোনে বলেন, ‘ধর্ষণের আলামত দেখে দ্রুত শিশুটিকে আমরা মৌলভীবাজারের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিই। বিকেল পাঁচটার দিকে অভিযুক্ত আজমানের বাসায় গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। সে কোথায় আছে আশপাশের কেউ বলতে পারেনি। ততক্ষণে সে পালিয়ে সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলায় চলে যায়। শিশু ধর্ষণের ঘটনাটি জানতে পেরে ধর্ষক আজমানকে পুলিশের হাতে তুলে দিতে উদ্যোগ নেন সাবেক ইউপি সদস্য খোরশেদ আলম। এক পর্যায়ে আজমান মিয়ার সাথে যোগাযোগ করে বিষয়টি সালিশের মাধ্যমে মিমাংসা করে দেয়ার কথা বলে তাকে কৌশলে জুড়ীতে এনে পুলিশের হাতে তুলে দেন। ইউপি সদস্য খোরশেদ আলমের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে স্থানীয় এলাকাবাসী।

No comments: