ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাবে জুড়ী শহরে জলাবদ্ধতা

এ.বি.এম নূরুল হকঃ মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলা শহরটি এ অঞ্চলের বাসিন্দাদের জন্য একটি জনগুরুত্বপূর্ণ এলাকা। অত্র এলাকার এবং বৃহত্তর উপজেলার বাসিন্দাদের জন্য ব্যবসা-বাণিজ্য,কেনাকাটা, চাকরী-বাকরী ও অন্যান্য কাজকর্মসহ সার্বিক  দিক বিবেচনা করলে উপজেলা শহরটি অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ স্থান।ওই শহরে স্কুল, কলেজ,মাদ্রাসা পড়–য়া শিক্ষার্থী , ব্যবসায়ী , ক্রেতা-বিক্রেতা , কাঁচামালের পাইকার , আড়ৎদার ,চাকরীজীবি , শ্রমজীবি , পেশাজীবি , সরকারি , বে-সরকারি বিদ্যালয় কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ লক্ষাধিক মানুষের যাতায়াত ঘটে প্রতিদিন। কাঁচামাল মৌসুমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে বিভিন্ন ধরনের পাইকার ও আড়ৎদারদের সমাগম ঘটে ওই শহরে। জুড়ী শহরের কামিণীগঞ্জ ও ভবাণীগঞ্জ বাজার নিয়ে জুড়ী শহর তথা জুড়ী বাজার গঠিত। আর ওই বাজারটি জেলার একমাত্র ঐতিহ্যবাহী বাজার হিসেবে সবার কাছে পরিচিত। ওই বাজারটিই জুড়ী শহরকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। উপজেলা শহরটি এত গুরুত্বপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘদিন থেকে শহরে নেই কোনো ভালো ড্রেনেজ ব্যবস্থা। বর্তমানে যে ড্রেনেজ ব্যবস্থা রয়েছে,তা পরিকল্পিতভাবে  নির্মাণ না করায় জুড়ী শহরের জলাবদ্ধতা দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করে সমস্যা আরো বেড়েছে। দৈর্ঘ্য,প্রস্থ্যে বড় ্এবং গভীর ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকার ফলে বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টি হলেও ওই শহরের প্রতিটি বাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়কে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে দেখা যায়। এমনকি মুষলধারে বৃষ্টি হলেতো কথাই নেই,শহরের অলিগলিসহ সব দোকানেই প্রায় ১ফুট থেকে দেড় ফুট পানি জমে থাকে। বিশেষ করে উপজেলার পোস্ট অফিস রোডের রেল ব্রীজের নীচ, স্টেশন রোড, কলেজ রোড ও ফুলতলা রোডসহ শহরের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিটি বাজারে হাঁটুপানি জমে যায়। সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, অত্র ২টি বাজারে অপরিকল্পিতভাবে নির্মাণাধিন ড্রেনেজ ব্যবস্থা থাকলেও বৃষ্টির পানি ধারণ ক্ষমতার বাইরে চলে যায়। তাই জুড়ী শহর ও বাইরের মানুষের যাতায়াতের সুবিধার্থে এখনই শহরে অধিক দৈর্ঘ্য,প্রশস্থ ও গভীরভাবে নতুন ড্রেনেজ স্থাপন এবং পুরনো ড্রেনগুলো সংস্কার করা একান্ত জরুরি বলে মনে করেন অত্রাঞ্চলের অভিজ্ঞমহল।

No comments: