সবজি চাষ বদলে দিয়েছে জুড়ীর অলির জীবন

এ.বি.এম নূরুল হকঃ জীবন মান উন্নয়নে পরিশ্রম অন্যতম উপাদান। শ্রমের মাধ্যমেই মানুষ তার ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাতে পারে। এমনই একজন সফল শ্রমজীবি মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার জায়ফরনগর ইউনিয়নের নয়াগ্রাম গ্রামের অলি মিয়া (৫৫)। বিভিন্ন জাতের সবজি চাষ করে ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটিয়ে এখন সে স্বাবলম্বী। ৭ বছর আগেও যে ছিলো  নিম্ববিত্তের কোটায়। সংসারের ব্যয় ভার বহণ করা ছিলো যার পক্ষে অসম্ভব। এক সময় ধার দেনায় জর্জরিত হয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খেতো। আর এ সবজি চাষ তার সে অভাব-অনটন দূর করে দিয়েছে। বর্তমানে স্ত্রী, ৩ ছেলে ও ৩ মেয়েসহ ৮ সদস্যের পরিবার নিয়ে সুখেই দিন কাটছে তার। সরেজমিন গিয়ে সবজি জমিতে দেখা হলো চাষি অলি মিয়ার সাথে, এমসয় সে তার ২ সহযোগি নিয়ে সবজি সংগ্রহ করছে। তার জীবন বদলের কাহিনী জানতে চাইলে, অলি মিয়া জানায়, ৭ বছর আগেও সে ছিলো একজন গরিব অসহায় মানুষ। সংসারের ব্যয় ভার বহণ করা ছিলো তার পক্ষে অসম্ভব। স্ত্রী, পুত্র ও কন্যা নিয়ে সংসার চালাতো খুব কষ্টে। পৈত্রিক ভুমি থেকে যা ভাগে পেয়েছিলো তা প্রয়োজনের তুলনায় ছিলো অপ্রতুল। প্রথম প্রথম ওই জমিতে ধানের আবাদ করে লাভবান হতে পারেনি সে। বার বার বন্যার কবলে পড়ায় বহু ক্ষতি হয়ে ছিলো তার। ধার দেনায় জর্জরিত হয়ে শেষ পর্যন্ত একটি সিদ্ধান্তে উপনিত হলো অলি মিয়া। সে তার নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে দেড় কিয়ার জমিতে টমেটো, কালো বেগুন, কাঁচা মরিচ, মিষ্টি কুমড়া, রামাই, ঢেঁড়শ, লাল শাকসহ বিভিন্ন সবজি আবাদ শুরু করে দিয়ে ৭ বছর যাবত চালিয়ে যাচ্ছে এ কাজ। এতে তার প্রতি বছরই হাজার হাজার টাকা উপার্জন হচ্ছে। ধান আবাদে ক্ষতি হলেও ৩য় বছর থেকে সাফল্যের মুখ দেখতে পায় অলি। ওই বছর খরচ বাদে ৬০ হাজার টাকা লাভ হয় তার। এতে দ্বিগুন হারে উৎসাহ বেড়ে যায় অলির। ধারাবাহিকভাবে বাকি বছরগুলোতেও অনেক টাকা লাভ হয় তার। চলতি বছর টমেটো, লাল শাকের সাথে হাইব্রিড জাতের মিষ্টি কুমড়ার চাষ করেছে। এগুলো থেকেও অনেক টাকা আয় হয়েছে তার। ওই বছরগুলোতে অনেক টাকা লাভবান হয়ে বর্তমানে স্বনির্ভরশীল সে। কৃষক অলি মিয়া আরো বলেন, আমার মতো একটু চেষ্টা করলেই যে কোনো কেউ কম পুঁজিতে বেশি আয় করে দারিদ্রের ছোবল থেকে রেহাই পেতে পারে বলে আমার বিশ্বাস। বর্তমানে ধার দেনা কমিয়ে এনে কিছুটা মুক্ত সে। তার বড় ছেলে কোরআনের হাফেজ হয়ে বর্তমানে মাদরাসায় অধ্যয়ন করছে। বড় ২ মেয়ে বিবাহিতা। ছোট ২ ছেলে ও ছোট মেয়ে মাদরাসায় পড়ছে। স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে সুখেই দিন কাটছে তার। জুড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দেবল সরকার জানান, কৃষক অলি মিয়া একজন সফল সবজি চাষি। সে অত্রাঞ্চলের কৃষকদের নিকট অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

No comments: