ঐতিহ্যের প্রতীক মাটির ঘরবাড়ী

আব্দুর রহমান শাহীন, জুড়ীঃ গ্রাম বাংলার বেশ কিছু ইতিহাস ও ঐতিহ্যের মধ্যে মাটির তৈরি ঘরবাড়ী অন্যতম। আজ অত্যাধুনিক বিভিন্ন কলা-কৌশলে নির্মিত পাকা ঘরবাড়ী ব্যাপক বিস্তারে হারিয়ে যাচ্ছে বাংলার ঐতিহ্যবাহী গ্রামগঞ্জের নির্মাণ কৌশলী সেই মাটির ঘরবাড়ী গুলো। মাটির ঘরবাড়ীর সাথে মিশে আছে গ্রাম বাংলার মানুষের অতীতের বেশ কিছু সুসম্পর্ক। গ্রামের মানুষের  কাছে মাটির ঘর ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে আজও পরিচিত।

মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রতিনিয়ত মাটির তৈরি ঘরবাড়ীর স্থলে স্থান করে নিচ্ছে আধুনিক নানান কলা-কৌশলে নির্মিত বিশাল ব্যয়বহুল, বিলাশবহুল পাকা ঘরবাড়ী ও দালান। সময়ের ব্যবধানে মানুষের চিন্তা-ভাবনার পরিবর্তন হচ্ছে। বিত্তবানদের সাথে তাল মিলিয়ে অত্রাঞ্চলের দিনমজুররা পর্যন্ত এখন মাটির ঘর ভেঙে তৈরি করছেন পাকা দালান ঘর। সচেতন মহল মনে করেন, বিগত কয়েক বছর থেকে জুড়ী উপজেলায় প্রতিযোগিতামূলক যেভাবে মাটির ঘরবাড়ী ভেঙে প্রতিনিয়ত পাকা ঘরবাড়ী নির্মাণ হচ্ছে, সে অনুযায়ী আরো ৫/১০ বছর পর অত্রাঞ্চলে মাটির ঘরের অস্তিত সংকট দেখা দেয়ার সম্ভাবনাটাই বেশি।

অনুসন্ধানে জানা যায়, স্বাধীনতার দীর্ঘ ৩ যুগকাল পর্যন্ত সীমান্তবর্তী জুড়ী উপজেলার প্রতিটি গ্রামেই মাটির ঘর ব্যতিত বসবাসের বিকল্প কোনো চিন্তা-ভাবনাই ছিল না। শীত ও গরম মৌসুমে অত্রাঞ্চলের জনসাধারণ মাটির ঘরে দিনাতিপাত করা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। বর্তমানে এ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে বসবাসরত অল্প সংখ্যক নিন্ম আয়ের জনসাধারণ ও পাতাকুঁড়ি রাজ্যের বৃটিশ  শাষনামলে নির্মিত চা বাগানগুলোতে এখনও বাঙ্গালীর হারিয়ে যাওয়া সেই চিরচেনা ঐতিহ্য চুখে পড়ে। শতাবর্ষী শিলুয়া চা বাগানের কালের সাক্ষী চা শ্রমিক বিরজা গোয়ালাকে তাদের মাটির তৈরি গৃহে বসবাসের সুবিধা ও অনুভতি জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা আমাদের জাতিগত অতীত ঐতিহ্য। আমরা বাংলাদেশে ১৮৩৯ সালের পরবর্তী সময়ে ব্রিটিশদের মাধ্যমে তৎকালীন ভারতবর্ষ (বর্তমান বাংলাদেশ) সীমান্তের অত্রাঞ্চলে প্রথম বসবাসের সময়ে ব্রিটিশ বিশেষঞ্জদের ফর্মুলানুযায়ী চা বাগানগুলোতে মাটির তৈরি ঘর নির্মাণ শুরু হলে পর্যায়ক্রমে তাহা স্থানীয় বস্তি অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। তার মতে, মাটির ঘওে বসবাসের ক্ষেত্রে মানব দেহের অনেক কঠিন রোগ থেকে রেহাই পাওয়া যায়।  

No comments: