রয়ে সয়ে এগোতে চায় বিএনপি

জুড়ী টাইমস সংবাদ: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে ক্ষমতার বাইরে থাকা দেশের বৃহত্তর রাজনৈতিক দল বিএনপি। অভ্যন্তরীন কোন্দল মিটিয়ে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্তের কাজ শুরু করেছে দলটি। বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরাও নির্বাচনের মাঠে নেমেছেন। নিজ নিজ এলাকার নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করছেন তারা। নির্বাচনের আগে যাতে বেকায়দায় পড়তে না হয় সেজন্য আগাম প্রস্তুতি হিসেবে এসব কাজ করছেন দলটির হাইকমান্ড। সংশ্লিষ্ট সূত্র এসব তথ্য জানিয়েছে।

সূত্র জানায়, সব দলের অংশগ্রহণমূলক আগামী নির্বাচন নিশ্চিত করতে নির্বাচনের পূর্বে বড় ধরনের আন্দোলনে যেতে হতে পারে বিএনপিকে। এমনকি দলীয় হাইকমান্ডসহ সিনিয়র অনেক নেতা বিরূপ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারেন। সে পরিস্থিতিতে দল যাতে সঠিক ট্র্যাকে থাকে তা নিশ্চিত করতেই আগাম প্রস্তুতি বিএনপির। তবে পরিস্থিতি সম্পর্কে সঠিক ধারণা পেতে রয়ে সয়ে এগোতে চান দলটির নেতারা।

ইতোমধ্যেই তৃণমূলের নেতাদের প্রস্তুত করতে দলের ৭০টি সাংগঠনিক টিম সারা দেশ চষে বেরিয়েছে। তারা নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরাজমান অভ্যন্তরীণ দ্ব›দ্ব নিরসনে অনেকটাই সফল হয়েছেন বলে দাবি করেছেন। এর আলোকে দলের খসড়া তালিকা থেকে দেড় শতাধিক আসনে একক প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে। দলকে আরো চাঙ্গা করতে খুব শিগগিরই সারাদেশে সাংগঠনিক সফরে বের হওয়ার কর্মসূচি ঠিক করছেন খালেদা জিয়া। আপাতত তিনি বিভাগীয় শহরগুলো সফর করবেন। এরপর জেলা সফরের কর্মসূচি নির্ধারণ করা হবে।

বিএনপি নেতাদের মতে, কোনো পরিস্থিতেই আগামী নির্বাচন শেখ হাসিনার অধীনে হতে দেয়া হবে না। এর জন্য প্রয়োজনে আবারো অলআউট কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামতে হতে পারে বিএনপিকে। ২০১৫ সালের মতো এবার আর সিনিয়র নেতারা পালিয়ে বেড়াবেন না এমন বিশ্বাসও তৈরি হয়েছে দলটির হাইকমান্ডের। রাজপথ দখলে বিএনপি প্রয়োজনে বিদ্যমান সব শক্তিকে মোকাবিলা করতেও প্রস্তুতি নিচ্ছে। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন নিশ্চিত করতে যে ধরনের পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন তা থেকেও পিছপা হবে না দলটি।

বিএনপি মনে করে, ২০১৪ আর ২০১৮ সাল এক নয়। এবারে পরিস্থিতি পাল্টাবে। যাদের কারণে সরকার ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচন নির্বিঘ্ন করতে সক্ষম হয়েছিল এবার আর তারা ওই রোল প্লে করবে না। সময়ের সঙ্গে তারাও তাল মেলাবে। নির্বাচন নিরপেক্ষ হতে তাদেরও ভূমিকা থাকবে।

সূত্র জানায়, একাদশ নির্বাচন নিয়ে বিএনপি তাদের ভাবনা খুব শিগগিরই জাতির সামনে তুলে ধরবে। দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া নির্বাচনকালীন সরকারের একটি রূপরেখা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপন করবেন। এতে নির্বাচনকালীন সময়ে নির্বাচন কমিশন, সংসদ, প্রশাসন, সেনাবাহিনী এমনকি রাষ্ট্রপতির অবস্থান নিয়েও কথা থাকতে পারে।

সংবিধানের দোহাই দিয়ে সরকারের অবস্থানের সমালোচনাও থাকবে এতে। বিএনপির মতে, সংবিধান জনগণের জন্য, জনগণ সংবিধানের জন্য নয়। তিনি নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে সংবিধান সংশোধনেরও প্রস্তাব দিতে পারেন।
খালেদা জিয়ার এসব প্রস্তাবনার বাস্তবায়ন না করলে সরকার পতনের এক দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে মাঠে নামবে বিএনপি। এবার আর সরকার বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার সুযোগ পাবে না। বিএনপি নেতাকর্মীরা সরকারের যেকোনো ষড়যন্ত্র ঠেকাতে অতন্ত্র প্রহরীর দায়িত্ব পালন করবে। দলের নেতাকর্মীরা সব সময়ে সজাগ থাকবে সরকারের ষড়যন্ত্র সাংগঠনিকভাবে মোকাবিলার। বিএনপি নেতাদের মতে, নির্বাচন, আন্দোলন ও ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় বিএনপি এখন প্রস্তুত।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ বিষয়ে স্পষ্ট করে বলেছেন, দশম সংসদ নির্বাচনের মতো আগামী নির্বাচনে সরকারকে আর একতরফা খেলতে দেয়া হবে না। নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে আমরা সরকারি দলকে বারবার আলোচনা ও সংলাপ করার আহ্বান জানাচ্ছি। কিন্তু সরকার চায় আগামী নির্বাচনে তারা নিজেরাই রেফারি থাকবেন, লাইন্সম্যান থাকবেন। কিন্তু সেটা আর হবে না। হতে দেয়া হবে না। একতরফা খেলা আর হবে না।

No comments: