উদ্বোধনের অপেক্ষায় জুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

আব্দুর রহমান শাহীন: নব নির্মাণাধীণ জুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নির্মাণের একবছর পার হলেও ভূমি সংক্রান্ত জটিলতা থাকার কারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উদ্বোধনের কোন উদ্যোগ নিতে পারেননি। উদ্বোধন না হওয়ায় আজও অপেক্ষার প্রহর গুণতে হচ্ছে গোটা উপজেলাবাসীকে। দীর্ঘ দিন থেকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্বোধন না হওয়ায় স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত উপজেলার ৬ টি ইউনিয়নের ২লক্ষাধিক জনসাধারণ। জুড়ী উপজেলায় উন্নতমানের কোনো সরকারি হাসপাতাল না থাকায় শিশু, কিশোর ও বৃদ্ধসহ যেকোন বয়সী মানুষ হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে, অসুস্থ ব্যক্তিকে জরুরী ভিত্তিতে পাশ্বর্বতী কুলাউড়া ও বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যেতে হয়। যার ফলে সময়,খরচ ও ভোগান্তি তুলনামূলক বেশি করতে হয় অত্রাঞ্চলের জনসাধারণকে।

জানা যায়, উদ্বোধনের আগে নব-নির্মিত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ২০১৭ সালের জানুয়ারী থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত ৮ লাখ ৭১ হাজার ৯শ০৪ টাকার বিদ্যুৎ বিল পাঠিয়েছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ। কোনো কর্যক্রম ছাড়াই এতো টাকার বিল কিভাবে আসল, তা জানতে চেয়ে  পিডিবি কার্যালয়ে লিখিত আবেদন পাঠিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। এদিকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এস আলী এন্ড সন্স সূত্র জানিয়েছে, তারা বিগত ১৭ নভেম্বর ২০১৪ থেকে ১৫ ডিসেম্বর ২০১৬ পর্যন্ত ২৬ মাস ভবণ নির্মাণকালীন সময়ে বিভিন্ন কাজে ১ লাখ ২২ হাজার ৫৯৬ টাকা বিদ্যুৎ ব্যবহার ও বিল পরিশোধ করেন। 
   
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে উপজেলার পশ্চিমজুড়ী ইউনিয়নের বাছিরপুর গ্রামে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিমার্ণকল্পে ৫ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। ২০১৪ সালে ১৯ কোটি ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মাণের বরাদ্দ আসে। ওই বছরের নভেম্বর মাসে নির্মাণ কাজ শুরু হয়ে ২০১৬ সালের ১৫ ডিসেম্বর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা হয়। নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার একবছর পার হলেও ভ’মি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত জটিলতা থাকার কারণে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্বোধন অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।

এ ব্যাপারে জুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মহি উদ্দিন আহমেদ জানান, ভূমি সংক্রান্ত সমস্যা সমাধান হয়েছে। হুইপ আলহাজ্ব শাহাব উদ্দিনের সিডিউল পেলে জানুয়ারী মাসেই উদ্বোধন হবে। উদ্বোধনের আগে ৮ লক্ষাধিক টাকা বিদ্যুৎ বিল সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ সম্পর্কে জানতে চেয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগের কাছে লিখিত আবেদন পাঠিয়েছি। বিলের ব্যাপারে পিডিবি নির্বাহী প্রকোশলী (কুলাউড়া) মুছতাফিজুর রহমান বলেন, এ ব্যাপারে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির রিপোর্ট হাতে পেলে বিষয়টি কি বোঝতে পারব।

দীর্ঘদিন থেকে ভবণ উদ্বোধন না হওয়া নিয়ে উপজেলার বিভিন্ন মহলে অভিমান, ক্ষোভ ও নানা প্রশ্ন বিরাজমান ছিল। অবশেষে উদ্বোধনের আভাস পেয়ে জনমনে প্রাপ্তির হাসি ফুটেছে। এখন শুধু উদ্বোধন কবে হচ্ছে, তা দেখার অপেক্ষায় চেয়ে আছেন উপজেলার ২ লক্ষাধিন জনমাধারণ। কবে আসছে উদ্বোধনের সেই সুদিন। এখন শুধু সময় ও অপেক্ষার পালা।

No comments: