প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বন্ধ হলো জুড়ী নদীর মাছ বানিজ্য

ফখরুল ইসলাম: মৌলভীবাজারের জুড়ী নদীর কন্টিনালা-রাবার ড্যাম দখল করে দীর্ঘদিন থেকে চলে আসা মাছ বানিজ্য বন্ধ হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে তড়িৎ এ্যকশন। গত ৬ জানুয়ারি দৈনিক মানবজমিন পত্রিকাসহ বেশ কয়েকটি পত্রিকায় “জুড়ী নদীর কন্টিনালা-রাবার ড্যাম দখল করে মাছ বানিজ্য” শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হলে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এ বিষয়ে গত ৮ জানুয়ারি উপজেলা আইন-শৃঙ্গলা কমিটির মাসিক সভায় মানবজমিন পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদটি তুলেধরেন উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব তাজুল ইসলাম। তার পর আইন-শৃঙ্গলা কমিটির বেশ কয়েকজন এই বিষয়টির উপর গুরুত্ব দিয়ে বক্তব্য দেয়ার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অসীম চন্দ্র বনিক এটি রেজ্যুলেশন আকারে গ্রহন করেন। 

অতপর বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে সভা শেষে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুস শাকুর ও জুড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ মো: জালাল উদ্দিনকে নিয়ে তাৎক্ষণিক একটি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অসীম চন্দ্র বনিক। 

উপজেলা মৎস্য অফিস ও স্থানীয় সূত্রে জানাযায়, গত ৮ জানুয়ারি বিকেলে জুড়ী নদীর কন্টিনালা রাবার ড্যাম এলাকায় অবৈধ ভাবে স্থাপিত মাছের ঝাক গুলো সরেজমিনে অভিযান চালিয়ে ধ্বংস করে দেয়া হয়। মোবাইল পরিচালনা করে নদীতে আড়াআড়ি ভাবে স্থাপিত ফিক্সড ইঞ্জিন স্থাপনের মাধ্যমে মৎস্য আহরণ কালে ৫৭২ টি কারেন্ট জাল, ১ টি বেড় জাল, ২ টি মশারি জালসহ মোট ৪ হাজার ২ শত ৫০ মিটার জাল জব্দ করা হয়। জব্দকৃত জালের আনুমানিক মূল্য ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা। জব্দকৃত জাল গুলো জনসমূখে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। 

উল্লেখ্য, জুড়ী নদীর ড্যাম দখল করে দীর্ঘদিন থেকে একটি চক্র কন্টিনালা রাবার ড্যাম পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির সভাপতি ও সম্পাদককে ম্যানেজ করে অবৈধ ভাবে ঝাক দিয়ে মাছ নিধন করে আসছিলো। 

জানতে চাইলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সত্যতা নিশ্চিত করে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুস শাকুর জানান, উপজেলা প্রশাসন ও থানা প্রশাসনের সহযোগীতায় জুড়ী নদীর কন্টিনালা রাবার ড্যাম এলাকায় অবৈধ ভাবে স্থাপিত মাছের ঝাক গুলো সরেজমিনে অভিযান চালিয়ে আমরা ধ্বংস করে দিয়েছি। 

No comments: