জুড়ীতে দু’পক্ষের সংর্ঘষে মুক্তিযোদ্ধা নিহত : আহত ৩৫

বিশেষ প্রতিনিধি: জুড়ী উপজেলার পূর্ব জুড়ী ইউনিয়নের জামকান্দি গ্রামে ১৭ জানুয়ারি বুধবার দু’পক্ষের সংর্ঘষে ইয়াছিন মিয়া (৬৫) নামে এক মুক্তিযোদ্ধা নিহত হয়েছেন। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ৩৫ জন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জামকান্দি গ্রামের জমির মিয়া গত সোমবার সন্ধ্যায় স্থানীয় বাসিন্দা সোনারূপা চা বাগানের শ্রমিক হরিলালের সাথে দেখা করতে তার বাড়ীতে যান। এ সময় হরিলাল বাড়ীতে না থাকায় তার স্ত্রীর সাথে বাগান শ্রমিক স্বপনের ছেলে সঞ্জুকে অনৈতিক কাজে দেখতে পেয়ে বাঁধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সঞ্জু হাতে থাকা লাইট দিয়ে জমিরের উপর হামলা করলে তার মাথা ফেটে যায়। স্থানীয়রা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে জুড়ীতে একটি বেসরকারী হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন। জমির সেখানে চিকিৎসাধীন থাকাবস্থায় মঙ্গলবার সঞ্জু নিজেই নিজের ঘর ভেঙ্গে জমিরের উপর দোষ চাপায়। এ ঘটনায় জমিরের দুই আত্মীয় বুধবার সকালে সোনারতল নামক এক শ্রমিকের উপর হামলা করলে বাগানে পাগলা ঘন্টি বাজিয়ে ৪-৫শত শ্রমিক দা, চিয়াড়ীসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে স্থানীয় মুসলমানদের উপর হামলা চালায় এবং পশ্চিম জামকান্দি জামে মসজিদে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে। সেই সাথে ৬-৭টি গরু নিয়ে যায়। এদিকে মসজিদে হামলার ঘটনা মাইকে ঘোষণা দিয়ে মুসল¬ীরাও জড়ো হতে থাকেন। শ্রমিকদের হামলায় মুক্তিযোদ্ধা ইয়াছিন মিয়া (৬৫), তার পুত্র শাহিন (৩৫), লিমন (১৮), হেলাল মিয়া (৪০), কাশেম মিয়া (৪০) ও আব্দুল আলী (৪০) আহত হন। আহতরা দক্ষিণভাগ, জুড়ী, কুলাউড়া ও সিলেটের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেন ও এদের মধ্যে আশঙ্কাজন ব্যক্তিদের ভর্তি করা হয়। গুরুতর আহতাবস্থায় ইয়াছিন মিয়া, শাহিন ও লিমনকে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকাল সাড়ে তিনটায় মুক্তিযোদ্ধা ইয়াছিন মিয়া মারা যান এবং শাহিনের অবস্থা আশংকাজনক বলে জানা যায়। খবর পেয়ে জুড়ী থানার পুলিশ এবং অতিরিক্ত পুলিশ নিয়ে কুলাউড়া সার্কেলের এএসপি ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন। এ সংবাদ লেখা পর্যন্ত (বিকাল ৫টা) থানায় কোন মামলা হয়নি। জুড়ী উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউএনও, ভাইস চেয়ারম্যান, এএসপি সার্কেল (কুলাউড়া) সহ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এলাকায় অবস্থান করে উভয়পক্ষকে শান্ত রাখার চেষ্টা চাল্চাছন

No comments: