আওয়ামী লীগের জোর প্রস্তুতি

জুড়ী টাইমস সংবাদ: আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। সরকারের মেয়াদের শেষ বছরে পা রেখে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষার পাশাপাশি দলকে সুসংগঠিত করে নির্বাচনের ফসল ঘরে তুলতে সুকৌশলী অবস্থান নিচ্ছে দলটি। ইতোমধ্যে কেন্দ্র থেকে নির্বাচনের পূর্ব প্রস্তুতি নেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে তৃণমূলে। তৈরি করা হয়েছে নির্বাচনী ছকও। তবে কৌশল হিসেবে নির্বাচনী কার্যক্রম এখনই দৃশ্যমান করবে না দলটি। সংশ্লিষ্ট সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

সূত্রমতে, নির্বাচনি প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে আওয়ামী লীগ। এ লক্ষ্যে দেশব্যাপী দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সাংগঠনিক সফর শুরু হবে আগামী ২৬ জানুয়ারি থেকে। দলের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, সফরের মাধ্যমে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল মেটাতে সর্বাত্মক উদ্যোগ নেয়া হবে। কারণ বিদ্রোহী প্রার্থী একটি বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিগত স্থানীয় নির্বাচনের প্রতিটি স্তরে একাধিক বিদ্রোহীর কারণে নৌকার ভরাডুবি হয়েছে। জাতীয় নির্বাচনের আগে এসব প্রশ্ন মীমাংসা করা অত্যন্ত জরুরি। দল যাকে মনোনয়ন দেবে, তার পক্ষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নামতে হবে- দলীয় হাইকমান্ডের কঠোর এই হুঁশিয়ারি পৌঁছে দেবেন কেন্দ্রীয় নেতাদের ১৫টিমের সদস্যরা।

পাশাপাশি বিগত ৯ বছরে সরকারের উন্নয়ন এবং উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য আবারো আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনতে জনগণের দোরগোড়ায় তৃণমূলকে পৌঁছানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে উন্নয়নের বিভিন্ন চিত্রসংবলিত পোস্টার, ভিডিওচিত্র তৈরি করে জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে। সেই সঙ্গে বিএনপি-জামায়াতের আমলের নানা দুঃসময়ের বিষয়গুলো তুলে ধরে নৌকার পাল্লা ভারী করতে জনগণের মন গলানোর চেষ্টা করা হবে। শিগগিরই বিভাগীয় শহরসহ গুরুত্বপূর্ণ জেলা শহরগুলোতে সফরে যাবেন দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এদিকে নির্বাচন নিয়ে তৎপরতা শুরু হওয়ায় দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরাও নড়েচড়ে বসেছেন। অংশ নিচ্ছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে। সামাজিক কর্মকাণ্ডেও বেড়েছে তাদের তৎপরতা। নানাভাবে কেন্দ্রীয় নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছেন তারা।

সূত্র জানায়, জনপ্রিয় প্রার্থী হিসেবে মাঠপর্যায়ে জরিপের প্রতিবেদন এখন দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার হাতে। আগামী নির্বাচনের আগে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা, জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ, বেসরকারি গবেষণা সংস্থা, দলীয় বিভিন্ন শাখার মাধ্যমে আসনভিত্তিক একাধিক জরিপ করা হয়। সব জরিপের ফল একসঙ্গে বিশ্লেষণ করে কিছু আসনের প্রার্থী প্রাথমিকভাবে চূড়ান্ত করা হয়েছে। যেসব আসনে মনোনয়ন পরিবর্তন হতে পারে এখন ওই আসনগুলো নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে। এ বিষয়ে দলের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, সবার কাছে গ্রহণযোগ্য এবং জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি এমন প্রার্থীই আমরা চাইব। দলের প্রস্তুতি বিষয়ে তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে জনসংযোগকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। মাঠপর্যায়ের কর্মীদের চাঙ্গা করতে ইতোমধ্যেই আমরা জেলায় জেলায় কর্মিসভা করেছি। আরো কর্মিসভা, সদস্য নবায়নের প্রক্রিয়া ও সদস্য সংগ্রহ অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি। এসব কাজে আমাদের জনসম্পৃক্ততা থাকবে। পাশাপাশি প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে। প্রার্থী ও নির্বাচনের মাঠ সম্পর্কে প্রতি তিন মাস পরপরই জরিপ চালানো হচ্ছে। প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে মনোনয়ন বোর্ডকে সাহায্য করবে এসব তথ্য। সব মিলিয়ে আমাদের নির্বাচন প্রস্তুতির কাজ চলছে।

No comments: