জুড়ী নদীর কন্টিনালা-রাবার ড্যাম দখল করে মাছ বানিজ্য

ফখরুল ইসলাম: মৌলভীবাজারের জুড়ী নদীর কন্টিনালা-রাবার ড্যাম দখল করে দীর্ঘদিন থেকে চলছে মাছ বানিজ্য। উপজেলা মৎস্য অফিস ও কন্টিনালা রাবার ড্যাম পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতিকে ম্যানেজ করে এই বানিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে স্থানীয় একটি চক্র। এই চক্রের প্রধান বেলাগাঁও গ্রামের মৃত ছায়েব আলীর ছেলে আব্দুর রব।

এলাকাবাসীর অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত সেপ্টম্বর থেকে জুড়ী নদীর কন্টিনালা-রাবার ড্যাম দখল করে নদীতে অবৈধ ভাবে ঝাক দিয়ে মাছ নিধন করে আসছে ওই চক্রটি। সাধারন মৎস্যজীবীরা নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে এই চক্রের বাধার সম্মুখিন হন। শেষমেশ প্রভাবশালী ওই চক্রের বাধার মুখে বাধ্য হয়ে চাঁদা দিয়েই মাছ ধরতে হয় তাদের। সূত্র জানায়, কন্টিনালা রাবার ড্যাম পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির সভাপতি- সাধারন সম্পাদককে চাঁদা দিয়ে চক্রটি নদীতে প্রায় ৬/৭ টি ঝাক পেতে মাছ আটকিয়ে আহরন করছে। ঝাকের ধারে কাছে ঘেষতে দেয়া হচ্ছে না সাধারন মৎস্যজীবীদের। কেবল মাত্র ঝাক কর্তৃপক্ষের সাথে আর্থিক লেনদেন করলেই মাছ ধরার পারমিশন পাওয়া যায়। এ নিয়ে এলাকাবাসী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, মৎস্য কর্মকর্তা ও জুড়ী থানায় পৃথক পৃথক লিখিত অভিযোগ করেন। কিন্তু রহস্যজনক ভাবে এসব অভিযোগ আমলে নেয়া হচ্ছেনা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত আব্দুর রব তার উপরে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে একটি মহল তার বিরোদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে বলে তিনি জানান। তবে কন্টিনালা রাবার ড্যাম পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির সভাপতি-সাধারন সম্পাদক দু’ধরনের বক্তব্য দেন। সাধারন সম্পাদক মো: জামাল উদ্দিন মানবজমিনকে জানান, জোরপূর্বক আব্দুর ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা নদী দখল করে এসব ঝাক দিয়েছে। তবে সভাপতি ফজলুর রহমান বজলু মেম্বার ঝাকের কথা অস্বীকার করে জানান, নদীতে মাছ ধরার জন্য উন্মুক্ত ভাবে সবাইকে সুযোগ করে দেয়া হয়েছে। এদিকে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুস শুকুর জানান, বিষয়টি তিনি অবগত রয়েছেন। এ নিয়ে উপজেলা সমন্বয় সভায় একটি সিদ্ধান্ত হয়েছে। সময়ের অভাবে আমরা অভিযানে নামতে পারছিনা। 

No comments: