আজ 'জুড়ী' মুক্ত দিবস

জুবায়ের হাসান: আজ ৫ই ডিসেম্বর জুড়ী মুক্ত দিবসের ৪৫তম বার্ষিকী । ১৯৭১ সালের এ দিনেই শত্রুমুক্ত হয় সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী উপজেলা। ২৫ শে মার্চ 'অপারেশন সার্চলাইট' এর গনহত্যার ধারাবাহিকতায় ১০ এপ্রিল পর্যন্ত সিলেট বিমানবন্দর ত্রলাকায় অবস্থান নিয়ে পরে পাকিস্তানি হানাদাররা শক্তি সঞ্চয় করে এতদঞ্চলের গ্রাম-গঞ্জে মানুষের উপর বর্বর নির্যাতন চালায়। ১০ই মে পাকিস্তানী হানাদার সেনারা জুড়ীতে প্রবেশ করে। পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর ৩১ পান্জাব রেজিমেন্টের ক্যাপ্টেন গোলাম রসুলের নেতৃত্বে স্থানীয় শান্তিকমিটির রাজাকারদের সহায়তায় জুড়ীতে বহু মানুষকে হত্যা করা হয়। জুড়ীর স্থানীয় ভবানীগঞ্জ বাজারের পাকিস্তানি বাহিনীর টর্চার সেলে ধরে ত্রনে বহু মানুষকে নির্যাতন-হত্যা,বহু নারীদের যৌনদাসী বানিয়ে রাখা হয়। হাত বেঁধে লাইনে দাঁড় করিয়ে হত্যার পর বহু মানুষকে স্থানীয় বীরগুগালি হাওর(ফুলতলা রোড)ও জগোধারী পুকুরে(জুড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের পেছনে) গর্ত করে পুঁতে ফেলে পাকিস্তানি হায়েনারা। ১৯৬৫ সালে ক্যাপ্টেন তৈমুছ আলীর নেতৃত্বে মোজাহিদ বাহিনীর ট্রেনিংপ্রাপ্ত হন জুড়ীর মুক্তিপাগল তরুনেরা। ১৯৭১ এর উত্তাল মার্চের শেষে জুড়ীর স্থানীয় যুবক-EPR-মোজাহিদ বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত হয় মুক্তিবাহিনী । মুক্তিযুদ্ধের ৪ নং সেক্টরের অধীনে সেক্টর কমান্ডার সি.আর দত্তের নেতৃত্বে বিভিন্ন উপগ্রুপে বিভক্ত হয়ে পাকিস্তানি বাহিনীর উপর গেরিলা আক্রমণ পরিচালনা করে মুক্তিবাহিনীর গেরিলা কমান্ডোরা। মুক্তিবাহিনীর সাথে সম্মুখযুদ্ধে টিকে থাকতে না পেরে পালায় হানাদার বাহিনী। রনাঙ্গনের সম্মুখযুদ্ধে শহীদ হন- মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মরহুম আব্দুর নূর, মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মরহুম আব্দুর রহিম চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মরহুম ফয়জুর রহমান, সহ আরো অনেকে। দুঃখজনক হলেও সত্য এতোগুলো বছর পরেও জুড়ী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যাপারে অনেক তথ্য অজানা ই থেকে গেছে!খোদ জুড়ী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের কাছেও অনেক তথ্য-নথি নেই। এ পর্যন্ত জুড়ীর মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে যে কয়েকজনের নাম বিভিন্নভাবে সংগ্রহ করতে পেরেছি তারা হচ্ছেন- মুক্তিযোদ্ধা মরহুম তৈমুছ আলী ত্রম.সি.এ (ভবানীগঞ্জ বাজার), মুক্তিযোদ্ধা মরহুম এম,এ,মুমিত আসুক (প্রয়াত উপজেলা চেয়ারম্যান,জুড়ী), মুক্তিযোদ্ধা বদরুল হোসেন(ভবানীগঞ্জ বাজার), মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস শহীদ চৌধুরী খুশী(ভবানীপুর), মুক্তিযোদ্ধা কুলেশ চন্দ্র চন্দ মন্টু(পোস্ট অফিস রোড), মুক্তিযোদ্ধা আজির উদ্দিন(শিলুয়া) মুক্তিযোদ্ধা মহিউদ্দিন চৌধুরী (ভবানীপুর), মুক্তিযোদ্ধা ত্রম ত্র জলিল মাসুক(ভবানীগঞ্জ বাজার), মুক্তিযোদ্ধা শ্রী মন্ত রায় চৌধুরী(কলেজ রোড), মুক্তিযোদ্ধা এম এ মুয়ীদ ফারুক (হল্যান্ড), মুক্তিযোদ্ধা এম ত্র মুহাইমীন সালেহ (ভবানীগঞ্জ বাজার), মুক্তিযোদ্ধা ললিত মোহন সূত্রধর (স্টেশন রোড), মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হান্নান(উত্তর ভবানীপুর), মুক্তিযোদ্ধা মনিন্দ্রকুমার দাস (ভুয়াই), মুক্তিযোদ্ধা কিরেশ দাস (ভুয়াই), মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম(ভোগতেরা), মুক্তিযোদ্ধা ফয়াজ আলী(কালীনগর), মুক্তিযোদ্ধা ইসহাক আলী(বাবুসিং-সাগরনাল), মুক্তিযোদ্ধা শ্রী পারুয়া কুমার(রাজকী চা বাগান-শিলুয়া), মুক্তিযোদ্ধা ফজর আলী(রাজকী চা বাগান-শিলুয়া), মুক্তিযোদ্ধা কামরুজ্জামান(জায়ফরনগর), মুক্তিযোদ্ধা পাহাড়ী গড় (ফুলতলা), মুক্তিযোদ্ধা আব্দুশ শুকুর(শিলুয়া), মুক্তিযোদ্ধা নানথ ধর(সাগরনাল), মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহিম(বটুলি), মুক্তিযোদ্ধা লালরাবন চন্দ্র (রাজকী চা বাগান-শিলুয়া), মুক্তিযোদ্ধা মনিয়া লাউয়ার(রাজকী চা বাগান-শিলুয়া) সহ অনেক মুক্তিযোদ্ধা আছেন যাদের নাম-ঠিকানা আমরা ত্র প্রজন্ম আজও জানি না। বিজয়ের এ মাসে মুক্তিযুদ্ধে নিহত সব শহীদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা। মুক্ত মাটিতে যাদের কাছে আজন্মের ঋনী বাংলাদেশ, রনাঙ্গনের সে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সশ্রদ্ধ 'স্যালুট'। বিজয়ের ইতিহাস জানা তো আমাদের এ প্রজন্মের দায়। জুড়ীর মুক্তিযুদ্ধ সংক্রান্ত তথ্য-উপাত্ত,সহায়ক গ্রন্থ দিয়ে কেউ সহযোগিতা করলে কৃতজ্ঞ থাকবো। এ তথ্যগুলোর জন্য বিশেষ কৃতজ্ঞতা: কানাডাপ্রবাসী অগ্রজ মোহাম্মদ কাদির ভাই, আমার শ্রদ্ধাভাজন শিক্ষক মুক্তিযোদ্ধা কুলেশ চন্দ্র চন্দ (মন্টু স্যার), মুক্তিযোদ্ধা বদরুল হোসেন ভাই, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস শহীদ চৌধুরী(খুশী চাচা), ফিরোজ আহমেদ(মেম্বার চাচা)ও বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রনালয়) তথ্যগত কোন ভূল থাকলে,দয়াকরে জানাবেন।

No comments: