তিন বছর পর মায়ের কাছে ঘরছাড়া জাকির

বিশেষ প্রতিনিধি: প্রায় তিন বছর আগে জাকির হোসেন (১৩) নিখোঁজ হয়। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পায়নি পরিবার। এদিকে রাজধানী ঢাকায় জাকিরকে পথশিশু হিসেবে পুলিশ উদ্ধার করে একটি সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠায়। সম্প্রতি সেখানকার এক আনসার সদস্যের মারফত খোঁজ পেয়ে জাকিরকে বাড়ি ফিরিয়ে আনেন স্বজনেরা। জাকির মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার জরিনা বেগমের ছেলে।

জাকিরের স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, কুলাউড়ার গিয়াসনগর গ্রামের বাসিন্দা মানিক মিয়ার সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল জরিনার। তাঁদের ঘরে জাকির ও জাহাঙ্গীর নামের দুই ছেলে আছে। সাত-আট বছর আগে মানিক আরেকটি বিয়ে করেন। এ অবস্থায় জরিনা বাবার বাড়ি চলে আসেন। দুই ছেলে বাবার কাছেই রয়ে যায়। ওই সময় জাকির তৃতীয় ও জাহাঙ্গীর পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ত। সৎমার নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে ২০১৪ সালের নভেম্বরে জাকির বাড়ি ছেড়ে পালায়। ছেলেকে না পেয়ে মা জরিনা জুড়ী থানায় জিডি করেন। ছোট ভাই জাকির নিখোঁজের পর জাহাঙ্গীরও মায়ের কাছে চলে আসে। বর্তমানে জরিনা দিনমজুর আর বড় ছেলে জাহাঙ্গীর রাজমিস্ত্রির জোগালি হিসেবে কাজ করে।

এদিকে বাড়ি ছাড়ার কয়েক দিন পর ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় জাকিরকে পায় পুলিশ। কিন্তু কোনো ঠিকানা না পাওয়ায় তাকে সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠানো হয়। এত দিন সেখানেই ছিল সে। জাকিরের কাছ থেকে মুঠোফোন নম্বর জেনে ১০-১৫ দিন আগে আশ্রয়কেন্দ্রের আনসার সদস্য আতাউর রহমান শিশুটির পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। জাকির নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল চৌধুরীবাড়ি এলাকার সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে ছিল। ৫ ডিসেম্বর স্বজনেরা সেখানে গিয়ে জাকিরকে নিয়ে আসে।

সরেজমিনে গত শুক্রবার জুড়ীর সাগরনাল ইউনিয়নের উত্তর বড়ডহর গ্রামে জরিনা বেগমের বাবার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, জাকির উঠানে খেলছে। জাকির তখন বলে, ‘হাতন মা (সৎমা) আমরা ভালা পাইতা না। এর লাগি বাড়ি ছাড়ি যাই। বাসে, ট্রেইনে ঢাকাত গেছি গিয়া।’ শিশুটি আরও বলে, ‘বাড়ির মোবাইল নম্বর মুখস্থই আছিল। পুলিশরে আগে এইটা কইছি না। কইলে আবার বাড়িত পাঠাই দিত। কিন্তু রাইতো ঘুমাইলে মারে খোয়াবো দেখতাম।’

জরিনা আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, ‘পুতরে (জাকির) ফিরিয়া পাইছি। আল্লাহর দরবারো লাখো শোকর।’

আনসার সদস্য আতাউর রহমান মুঠোফোনে জানান, এদিন জাকিরকে কাঁদতে দেখে তিনিও আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। পরে মুঠোফোন নম্বর সংগ্রহ করে তিনি শিশুটির বাবা মানিক মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কিন্তু বাবা আগ্রহ না দেখানোয় তাঁর কাছ থেকে জাকিরের নানার বাড়ির মুঠোফোন নম্বর সংগ্রহ করে শিশুটির মায়ের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও জাকিরের বাবা মানিক মিয়ার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।

No comments: