মৌলভীবাজারে চালু হচ্ছে দ্বিতীয় চা নিলাম কেন্দ্র

মো: শাহজাহান মিয়া: মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলে দেশের দ্বিতীয় চা নিলাম কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে। নভেম্বরের মাঝামাঝি এটি চালু করা হবে। এ অঞ্চলের দু’শ বছরের চা শিল্পের ইতিহাস থাকলেও এখানে গড়ে ওঠেনি কোনো নিলাম কেন্দ্র। বাধ্য হয়ে সিলেটের বাগান সংশ্লিষ্টরা উৎপাদিত চা নিলামের জন্য বয়ে নিয়ে যান চট্টগ্রামে। এরকম অবস্থায় চা বাগানের মালিক, ব্যবসায়ী, শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল শ্রীমঙ্গলে চা নিলাম কেন্দ্র স্থাপনের। এ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে আন্দোলনও হয়েছে। অবশেষে দাবি পূরণ হচ্ছে তাদের। এর মধ্য দিয়ে সিলেটে চা শিল্পে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, সম্প্রতি শ্রীমঙ্গলে দেশের দ্বিতীয় চা নিলাম কেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। শীঘ্রই কেন্দ্রটি চালু হওয়ার কথা রয়েছে। এ লক্ষ্যে গত ১২ সেপ্টেম্বর ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন গঠনসংক্রান্ত বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবের কনফারেন্স কক্ষে উচ্চপর্যায়ের একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আবদুর রউফের সভাপতিত্বে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, চা সংসদ, চা বোর্ড এবং টি প্ল্যান্টার্স অ্যান্ড ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন জাতিসংঘের বাংলাদেশ মিশনের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি ও টি প্ল্যান্টার্স অ্যান্ড ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি ডা. একেএম আবদুল মোমেন। তিনি যুগান্তরকে বলেন, দেশের দ্বিতীয় চা নিলাম কেন্দ্র শ্রীমঙ্গলে চালুর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। অবকাঠামোগত সব সুযোগ-সুবিধাই শ্রীমঙ্গলে রয়েছে। খুব শীঘ্রই এ নিলাম কেন্দ্রের কার্যক্রম শুরু হবে। এতে শত শত কোটি টাকা ব্যয় কম হবে এবং জনগণ স্বল্পমূল্যে ফ্রেশ চা পাতা ক্রয় করতে পারবেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত ওই সভায় ব্রোকার্স ট্রেড অর্গানাইজেশনের টিও লাইসেন্সের অনুমোদন সাপেক্ষে অক্টোবরে শ্রীমঙ্গলে চা নিলাম কেন্দ্র চালুর নীতিগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে বলে তিনি জানান।

এ ব্যাপারে শ্রীমঙ্গলের চা ব্যবসায়ী মোস্তাক টি হাউসের মালিক মো. মোস্তাক বলেন, শ্রীমঙ্গলে নিলাম কেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্তে সিলেটের চা শিল্পে সম্ভাবনার নতুন পালক যুক্ত হচ্ছে। নিলাম কেন্দ্র চালু হলে একদিকে পরিবহন ব্যয়, সময় ও শ্রম বাঁচবে, অন্যদিকে চায়ের গুণগত মানও পুরোপুরি অক্ষুণ্ণ থাকবে।

ব্রিটিশদের হাত ধরে ১৮৪৯ সালে উপমহাদেশের প্রথম চা বাগান প্রতিষ্ঠিত হয় সিলেটের মালনীছড়ায়। এরপর একে একে গড়ে ওঠে খাদিমনগর চা বাগান, আহমদ টি এস্টেট, লাক্কাতুড়া চা বাগান, আলী বাহার চা বাগান প্রভৃতি। দেশের ১৬৪টি চা বাগানের ১৩৫টিই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বৃহত্তর সিলেটজুড়ে। বর্তমানে এ বিভাগের সিলেট জেলায় ২০টি, মৌলভীবাজারে ৯৩টি এবং হবিগঞ্জ জেলায় ২২টি চা বাগান রয়েছে। দেশের সিংহভাগ চায়ের জোগান সিলেট থেকেই হয়ে থাকে। এছাড়া প্রতি বছর চা রফতানি করে বাংলাদেশ হাজার কোটি টাকা আয় করে থাকে। সিলেটের এতসংখ্যক চা বাগান থাকা সত্ত্বেও এখানে চা নিলাম কেন্দ্র স্থাপন না করে চট্টগ্রামে করা হয়। অথচ চট্টগ্রামে চা বাগান আছে মাত্র ২৩টি। তাই সিলেট বিভাগের কোথাও চা নিলাম কেন্দ্র স্থাপনের দাবি ছিল সংশ্লিষ্টদের।

সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি, মৌলভীবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি, চা শ্রমিকদের বিভিন্ন সংগঠন, এমনকি রাজনৈতিক নেতারাও বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে এখানে চা নিলাম কেন্দ্র স্থাপনের দাবিতে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন। সিলেটের চা সংশ্লিষ্টরা নিলামের জন্য চা নিয়ে যান চট্টগ্রামে। বাগান সংশ্লিষ্টদের দাবি, এতে বছরে ১০ কোটি টাকারও বেশি ব্যয় হয়।


No comments: