বিএনপি ত্রান বিতরণে কক্সবাজারে যাচ্ছে রাজনৈতিক উদ্যেশ্যে------ওবায়দুল কাদের

স্টাফ রিপোর্টার: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া রোহিঙ্গাদের ত্রাণ দিতে কক্সবাজারে যাচ্ছেন না, তাঁর মূল উদ্দেশ্য রাজনীতি। ঢাকা থেকে কক্সবাজারের উদ্যেশ্যে গাড়ী নিয়ে রওয়ানা হওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি অচল হয়ে যাবে। বিএনপি হারানো ক্ষমতা ফিরে পেতে আবারও আসতে চাচ্ছে পানি গোলা করে। আড়াই মাস বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার কোন খবর ছিলনা। ‘চক্রান্তের গলিপথ দিয়ে অনেকেই ক্ষমতায় আসতে চাইছে। হারানো ক্ষমতা ফিরে পেতে ওই যে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা বিএনপি আবারও চক্রান্তের জাল ছড়িয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে, পানি ঘোলা করে আন্দোলনের নামে ক্ষমতায় আসতে চেষ্টা করছে।’

২৮ অক্টোবর শনিবার দূপুর সাড়ে ১২ টায় মৌলভীবাজার শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে জেলা আওয়ামীলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন উদ্বোধন শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।

খালেদা জিয়ার সমালোচনাা করে মন্ত্রী আরো বলেন, রোহিঙ্গাদের ত্রানের নামে তিন দিনের সফরে ঢাকা থেকে কক্সবাজারের উদ্যেশ্যে দেড়’শ গাড়ী নিয়ে রওয়ানা হওয়ায় এবং গাড়ীবহর নিয়ে রাস্থায় থাকার কারণে ঢাকা-চট্রগাম গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি অচল হয়ে যাবে। খালেদা জিয়ার রোহিঙ্গাদের প্রতি যদি দরদ থাকতো তাহলে তিন দিনের সফরে গাড়ী বহর না নিয়ে বিমানে করে যেতে পারতেন। দেড়শ গাড়ীর জ¦ালানী তৈল হিসেবে যে টাকা খরছ হতো তা রোহিঙ্গাদের জন্য সাহায্য দিতে পারতেন। রোহিঙ্গাদের জন্য ত্রান বিতরণের মানবিক উদ্যেশ্য নহে, এটি খালেদা জিয়ার হলো রাজনৈতিক উদ্যেশ্য, আর উপলক্ষ্য দেখানো হচ্ছে মানবিক।

মন্ত্রী আরো বলেন, বেগম জিয়া কোর্টে গিয়ে খুব কান্নাকাটি করেছেন। কখনো ফখরুল কাঁদে কখনো বেগম জিয়া কাঁদে। বিএনপি এখন কান্নাকাটি আর প্রেসবিফিংয়ের দল। আর বাংলাদেশ নালিশ পার্টি। ওই প্রেসবিফিংয়েই নালিশ করাই তাদের কাজ। খালেদা জিয়া কোর্টে আতœপক্ষ সমর্থন করতে গিয়েও তিনি অশ্রদ্ধেয় ভাষায় বর্তমান প্রধান মন্ত্রী জননন্দিত নেত্রী শেখ হাসিনাকে গালিগালাজ করেছেন।

ক্যান্টরম্যান্টের ৪০ বছরের বাড়ি থেকে তাকে বের করা দেওয়া হয়েছে। তিনি কিভাবে এতো মিথ্যাচার করলেন। যে খানে এখন কয়েশ শ’ অফিসারের বাসা হয়েছে। তিনি ওই বাড়িতে রাজনীতি করার জন্য অবৈধ দখল করেছিলেন। সরকার তাকে উৎখাত করেনি আদালতের নির্দেশে তিনি বাড়ি ছেড়েছেন। খালেদা জিয়া ৮ মাস বিচার কাজকে বিলম্বিত করেছেন। ১৬০ বার সময় নিয়েছেন। আদালতকে হেনস্থা করছেন। খালেদা জিয়া ছেলের জন্য কুম্ভিরাশ্রু বির্সজন করেন অথচ তার ছেলের মৃত্যু শোনে সান্তনা দিতে শেখ হাসিনা যখন তার বাড়িতে যান তখন তার বাড়ির গ্রেইট বন্ধ করে দেওয়া হয়। শোক জানানোরও সুযোগ দেওয়া হয়নি। 

সম্প্রতি লন্ডনে গিয়ে তিনি সরকার উৎখাতের নানা ষড়যন্ত্র করেছেন। বক্তব্যের শুরুতে জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু, দলের সকল প্রয়াত নেতৃবৃন্দ ও দেশের জন্য প্রাণ দেওয়া সকল শহীদদের শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করেন। নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে দূর্বার গতিতে। তার হাতকে শক্তিশালী করতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন বাংলাদেশকে বাঁচাতে হলে আওয়ামীলীগকে বাঁচাতে হবে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও গণতন্ত্রকে বাচাঁতে হলে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে হলে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রাখতে হবে। বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ মরণের মিছিলেও জয়ের গান গায়। এমন অটুট মনবল আমাদের নেতাকর্মীদের। বিপন্ন মানবতার বাতিঘর শেখ হাসিনাই আমাদের আশার আলো। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়ন সারা বিশ্বে দৃষ্ঠান্ত। তার এই উন্নয়ন অগ্রযাত্রা থামাতে নানা ষড়যন্ত্র চলছে। সে জন্য নেতাকর্মীদের আরো হুঁশিয়ার হতে হবে।

মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি উপাধ্যক্ষ মোঃ আব্দুস শহীদ এমপির সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক নেছার আহমদের সঞ্চালনা সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মিছবাহ উদ্দিন সিরাজ, সদস্য বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, সদস্য অধ্যাপক মো: রফিকুর রহমান।

বক্তব্য রাখেন জাতীয় সংসদের হুইপ শাহাব উদ্দিন, মৌলভীবাজার ৩ আসনের সাংসদ সৈয়দা সায়রা মহসীন, মৌলভীবাজার ২ আসনের সাংসদ আব্দুল মতিন, মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান ও ছাত্ররীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেন। এছাড়া সিলেট, সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সম্মেলনে নেছার আহমদকে সভাপতি ও মিছবাউর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক করে ১২ সদস্যদের নাম ঘোষণা করা হয়। সিনিয়র সহসভাপতি মুহিবুর রহমান তরফদার, শাহাব উদ্দিন আহমদ এমপি, ভূপতি রঞ্জন চৌধুরী, আজমল হোসেন, মসুদ আহমদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ ফজলুর রহমান, সৈয়দ নওশের আলী খোকন, কামাল হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাডভোকেট রাধা পদ দেব সজল, জাতীয় পরিষদ সদস্য হিসেবে মোঃ ফিরোজের নাম এপর্যন্ত ঘোষণা করা হয়। 

No comments: