অনির্দিষ্টকালের জন্য ইনকিলাব কার্যালয় অবরুদ্ধ

জুড়ী টাইমস সংবাদ: চাকুরিচ্যুত সাংবাদিক- কর্মচারীদের পাওনার দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য দৈনিক ইনকিলাবের কার্যালয় অবরুদ্ধ রাখা হয়েছে। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) বৃহস্পতিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে এ কর্মসূচি পালন করছে।

পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী এদিন সকাল নয়টা থেকে দুই সংগঠনের সাংবাদিকরা অবস্থান কর্মসূচি শুরু করে। বিকেল ৫টায় প্রধান অতিথি ও বিএফইউজের মহাসচিব ওমর ফারুক পাওনা পরিশোধ না করা পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দেন।

ওমর ফারুক বলেছেন, ‘বকেয়া বেতন এবং অন্যান্য সুবিধাদি পরিশোধের জন্য ইনকিলাব সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দীন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি কথা রাখেনি। বাহাউদ্দীন নেতৃবৃন্দের ফোন পর্যন্ত ধরেন না। ঈদুল আযহাতে কোন টাকাই দেয়নি ইনকিলাব। চাকুরিচ্যুতরা ঈদ উদযাপন করতে পারেনি।’

তিনি আরো বলেছেন, ‘আমরা ইনকিলাব গেটে অবস্থান করছি। পাওনা আদায় না হওয়া পর্যন্ত এ কর্মসূচি চলবে। অবস্থান কর্মসূচি অনির্দিষ্টকালের জন্য ঘোষণা করা হলো। পাওনা পরিশোধ না করা পর্যন্ত গেটে অবস্থান করবে চাকুরিচ্যুত সাংবাদিকরা। এই কর্মসূচিতে পাওনা আদায় না হলে সম্পাদকের বাসা ঘেরাও করা হবে।’

গত মঙ্গলবার বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতি মন্জুরুল আহসান বুলবুল ও মহাসচিব ওমর ফারুক, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি শাবান মাহমুদ ও সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী যুক্ত বিবৃতিতে ইনকিলাব সম্পাদককে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছিল। সেই সময় সীমা পার হয়ে গেলেও পাওনা পরিশোধে কোনো প্রকার উদ্যোগ নেয়নি ইনকিলাব কর্তৃপক্ষ।

বৃহস্পতিবার ডিইউজে সভাপতি শাবান মাহমুদের সভাপতিত্বে অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন-ডিইউজের সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বাদশা, বিএফইউজের যুগ্ম-মহাসচিবঅমিয় ঘটক পুলক, সাব-এডিটর কাউন্সিলের সভাপতি কে এম শহীদুল হক, সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, ডিউইজের সাংগঠনিক সম্পাদক মো, শাহজাহান মিয়া, ক্রীড়া সম্পাদক মফিজুর রহমান বাবু, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ জামাল, সাবেক কার্যনির্বাহী সদস্য ওসমান গণি বাবুল, ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সাবেক সভাপতি এম এম জসিম, সাংবাদিক এইচ এম মুর্শেদ, রমজান আলী প্রমুখ।

গত ৩০ এপ্রিল থেকে ৯ মে পর্যন্ত ইনকিলাব থেকে শতাধিক সাংবাদিক-কর্মচারীকে ছাঁটাই করা হয়। ২৬ মাসের বকেয়া বেতনসহ অন্যান্য পাওনাদি ইনকিলাব সম্পাদক তার মনগড়া হিসেবে করে তার তিনভাগের একভাগ নিয়ে সকল পাওনা বুঝে পেলাম মর্মে ৩শ’ টাকার স্ট্যাম্পে সাক্ষর দেয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। তাতে রাজি না হওয়ায় এই ছাটাই করে ইনকিলাব কর্তৃপক্ষ।

No comments: