শেষ ইচ্ছা পূরণ হচ্ছেনা দ্বিজেন শর্মার !

এড. শওকতুল ইসলাম চৌধুরী/সাইফুল ইসলাম সুমন, বড়লেখা থেকে ফিরে: দেশ বরেণ্য নিসর্গবিদ দ্বিজেন শর্মার প্রয়াণে স্তব্দ জনম মাটি বড়লেখার প্রকৃতি ও শেকড়প্রেমি ভক্তকুল। সুদীর্ঘ ৮৮ বছরের বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবন শেষে বিদায় নিলেন প্রথিতযশা শিক্ষাবিদ অধ্যাপক দ্বিজেন শর্মা।

ছায়া ঢাকা পাখি ডাকা শান্তির নীড় বড়লেখার কাঠালতলীর শিমুলিয়ার ঐতিহ্যবাহী কবিরাজ বাড়িতে সর্বস্থরের জনসাধারণ প্রতীক্ষার প্রহর গুণছে প্রিয় মুখটি শেষ বারের মত দেখার জন্য। শৈশব কৈশোর আর যৌবনের অজস্র স্বর্ণালি দিন যিনি কাটিয়েছেন এ মাটির আলো-ছায়ায়। নিরহংকারী সজ্জন এই মানুষটির ডাক নাম ছিল খোকা বাবু। “খোকা বাবু যায়/লাল জুতা পায়” গানের কলির মত ছোট বড় জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকলের কাছে তিনি আকর্ষণীয় ব্যাক্তিত্ব ছিলেন। যে কেউ তাঁর সাথে প্রাণ খুলে কথা বলতে পারত। তিনিও পাড়া পড়শিদের খোঁজ খবর রাখতেন।

দ্বিজেন শর্মার শেষ ইচ্ছা ছিল নাড়ির স্পর্শধন্য শিমুলিয়া গ্রামের জনম মাটির পুকুর পাড়ের উত্তরে তিনি অন্তিম শয়ানে শায়িত হবেন। যেখানে এখনও গহীন বনের পটভূমি বিরাজমান । এ দেশের চির সবুজ বনবনানী নিয়ে যিনি আজীবন সাধনা করে গেছেন। সেই বনের ছায়ায় চিরনিদ্রায় শায়িত হবার বাসনা জীবদ্দশায় তিনি ব্যাক্ত করে গিয়েছিলেন। অথচ ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে বন্যা কবলিত ভাঙ্গাচোরা রাস্তার অজুহাত দেখিয়ে স্ত্রী দেবী শর্মা এবং পুত্র-কন্যা তাঁর শেষকৃত্য রাজধানী ঢাকাতেই সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়ে নেন। অপ্রত্যাশিত এহেন সিদ্ধান্তে সংক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যাক্ত করেছেন নিজ এলাকা কাঠাতলীর শিমুলিয়া তথা বড়লেখা-মৌলভীবাজারসহ গোটা সিলেটবাসী।   

No comments: