ফের বন্যা, ভোগান্তিতে হাকালুকি হাওরপারের মানুষ

আলাউদ্দিন কবির: পূর্বে দুই দফা ভয়াবহ বন্যার ধকল কাটতে না কাটতেই ফের হাওরে পানি বাড়ায় বন্যার কবলে পড়েছেন হাকালুকি তীরবর্তী মৌলভীবাজারের তিন উপজেলার অর্ধশত গ্রামবাসী। তাদের দুর্ভোগের শেষ নেই। চলতি সপ্তাহের ঘন ঘন বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে হাকালুকি হাওরে প্রায় চার থেকে পাঁচ ফুট পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে হাওরতীরের অর্ধশত গ্রাম এখন পানিবন্দী। কুলাউড়া উপজেলার ভূকশিমইল, ভাটেরা, জয়চণ্ডী, কাদিপুর, বরমচাল ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নের শত শত পরিবার পানিবন্দী অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় কুলাউড়া পৌর এলাকার নং ওয়ার্ডে অবস্থিত ইয়াকুব তাজুল মহিলা ডিগ্রি কলেজ সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। চলমান জাতীয় বিশ¡বিদ্যালয়ের অধীনে ডিগ্রি পরীক্ষার কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি ছিল, ইতিপূর্বেও বন্যার কারণে তা স্থানান্তর করা হয়। অন্যদিকে একই চিত্র পাশর্¡বর্তী জুড়ী উপজেলার জায়ফরনগরের বেলাগাঁও, ইউসুফনগর, নয়াগ্রাম, মানিকসিংহ, শাহপুর, ভাটি শাহপুর, ভুয়াই, রাজাপুর, পশ্চিম জুড়ীর বাছিরপুর, খাগটেকা, বড়লেখার সুজানগর, দক্ষিণভাগ (.) ইউপির রাঙ্গাউটি, শেখপাড়া, তালিমপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রামের। এসব এলাকার অনেক ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রাস্তাঘাট বন্যার পানিতে ফের তলিয়ে গেছে। জানা যায়, চলতি বছরের জুন মাসের শেষের দিকে এবং জুলাই মাসের শুরুর দিকে ভারত থেকে আসা জুড়ী নদী (কন্টিনালা) দিয়ে পানি বৃদ্ধি, মনু নদীর ভাঙন, অতিবৃষ্টি পাহাড়ি ঢলে নেমে আসা পানিতে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছিল। ইতিমধ্যে বন্যাকবলিত এলাকার মানুষ আশ্রয়কেন্দ্র থেকে নিজ ঘরে ফিরেছেন। প্রায় দুই সপ্তাহ যেতে না যেতেই আগস্ট থেকে ১৮ আগস্ট পর্যন্ত প্রতিদিনের ভারী বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে ফের বন্যা দেখা দিয়েছে এসব এলাকায়। কুলাউড়ার ভূকশিমইল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান মনির, নং ওয়ার্ডের মেম্বার নজরুল ইসলাম, জুড়ীর জায়ফরনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাজি মাছুম রেজা, সাবেক চেয়ারম্যান হাজি মুসলেহ উদ্দিন, স্থানীয় বাসিন্দা সাংবাদিক হারিস মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম সুমন, নং ওয়ার্ডের মেম্বার ফজলুর রহমান বজলু মিয়া, ব্যবসায়ী সংবাদপত্র এজেন্ট জুড়ী সংবাদ বিতানের মালিক আবুল কালাম আজাদ, কুলাউড়া শহরের ব্যবসায়ী মোহাম্মদ শাহরিয়ার মো. রেদওয়ান হোসাইন জানান, একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগে খেটে খাওয়া মানুষ সব হারিয়ে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। অনেকেই বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসনে ব্যস্ত ছিলেন। ফের পানি বাড়ায় সকল স্তরের মানুষই আবারও বিপাকে পড়েছেন। ভূকশিমইল জায়ফরনগরের গ্রামীণ গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলো ফের পানির নিচে। কুলাউড়া-বড়লেখা আঞ্চলিক মহাসড়কের জুড়ীর নাইট চৌমুহনী, বাছিরপুর, হাতলিয়ায় ফের পানি উঠেছে। এমনিতে ভাঙাচোরা রাস্তার কারণে জনসাধারণের ভোগান্তির শেষ নেই আবার পানি ওঠায় মহা ভোগান্তিতে পড়েছেন তারা। এদিকে হাওর এলাকায় গো-খাদ্য সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। এর ফলে অনেকেই বাধ্য হয়ে গরু-মহিষ সস্তা মূল্যে বিক্রি করে দিচ্ছেন।

No comments: