বন্যাদুর্গত তিন উপজেলায় ওএমএস চালুর দাবি

বিশেষ প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের বন্যাদুর্গত কুলাউড়া, জুড়ী ও বড়লেখা উপজেলায় খোলাবাজারে চাল বিক্রির (ওএমএস) কার্যক্রম চালুর দাবি উঠেছে। এদিকে ঈদুল আজহা উপলক্ষে ভিজিএফের খাদ্যশস্য বরাদ্দ স্থগিত করে দেওয়ার আদেশে মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা আশঙ্কা করছেন।

মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসন, কৃষি বিভাগ ও জেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত এপ্রিলে অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে নামা পাহাড়ি ঢলে তিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বন্যা দেখা দেয়। এতে হাকালুকি হাওরের সব বোরো ধান তলিয়ে নষ্ট হয়ে যায়। বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় তিন উপজেলায় আউশ ধানের বেশ কিছু জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বন্যার পানি পুরোপুরি না নামায় রোপা আমনের আবাদও ব্যাহত হচ্ছে। এই অবস্থায় সম্প্রতি অনেক এলাকায় কৃষকেরা ভাসমান বীজতলা তৈরি শুরু করেন। এদিকে বন্যায় বোরো ফসল নষ্ট হওয়ায় খাদ্য অধিদপ্তরের উদ্যোগে মে মাসের প্রথম সপ্তাহে তিনটি উপজেলায় ডিলারের মাধ্যমে ওএমএসের চাল বিক্রি শুরু হয়। প্রতি কেজি ১৫ টাকা দরে একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ৫ কেজি চাল কিনতে পারতেন। সরকারি নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে ১ জুলাই থেকে এসব এলাকায় ওএমএসের চাল বিক্রি বন্ধ করে দেওয়া হয়। এদিকে ৬ আগষ্ট দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর থেকে জারি করা এক আদেশে ঈদুল আজহা উপলক্ষে বন্যা ও দুর্যোগাক্রান্ত, দুস্থ এবং অতিদরিদ্র লোকজনের জন্য ভিজিএফের খাদ্যশস্য বরাদ্দ স্থগিতের কথা জানানো হয়। ওই কর্মসূচির আওতায় প্রত্যেক উপকারভোগীর বিপরীতে ১০ কেজি করে খাদ্যশস্য বরাদ্দ হতো।

কুলাউড়ার ভূকশিমইল ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান বলেন, ‘এমনিতেই বোরো ফসল হারিয়ে এলাকার মানুষ নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। ওএমএস চালুর পর কিছু মানুষ কম দরে চাল কেনার সুযোগ পেয়েছিল। পরে তা-ও বন্ধ হয়ে যায়। এখন কোরবানির ঈদে ভিজিএফ বন্ধ থাকবে। মানুষের ভোগান্তি আরও বেড়ে যাবে।’

মৌলভীবাজার জেলার ভারপ্রাপ্ত খাদ্যনিয়ন্ত্রক মনোজ কান্তি দাস বলেন, জেলার বন্যা পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে ওএমএস পুনরায় চালু করার অনুরোধ জানিয়ে ৪ জুলাই তাঁরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু এখনো এর জবাব মেলেনি।

মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক মো. তোফায়েল ইসলাম বলেন, ওএমএস চালুর ব্যাপারে চেষ্টা-তদবির চলছে। প্রয়োজনে এ ব্যাপারে আবারও তাঁরা সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠাবেন।

No comments: