কবিতা “ভাষণ”----মো: কামরুল মোজাহীদ

শুনছ না কি নইমুদ্দিন! প্রেসিডেণ্টের ভাষণ,
ভবিষ্যতের কথা ভেবে তার লেগেছে কাপন।
খাওয়াদাওয়া, চিকিৎসা ব্যয় সবই তো তার মাগনা।

তাও কেন যে পিছ ছাড়ে না ভবিষ্যতের ভাবনা।
বিজ্ঞ মানুষ হিসেবি লোক ,গুণিলোকতো বটে।
এমন সুখে অাছেন ক'জন বলো তো তল্লাটে। 

এক বেলা তার একটা রোগের চিকিৎসা ব্যয় শুনবি?
সেই এক রোগে তোর কত ব্যয়, একটু কি কর গুনবি। 

না রে না ভাই তুলনা নয় রোগের রুগী দরকার
কি লাভ ভেবে কোনটা প্রজা কোনটা দেশের সরকার। 

কার কত অায় কে খেটে খায় ভাবনা ভেবে কাজ কি?
যাকেই পাবে ধরবে তাকেই তাতে রোগের লাজ কি?
সময় অাসার অাগেই ভাবেন কাজেই তিনি বিজ্ঞ
তুই অামিতো হারহাভাতে রয়েই গেলাম অজ্ঞ।

নয়' শ টাকায় রোগ সাড়ে না, শুধুই তারে অাটকায়
পাঁচ টাকা তোর কোন অাক্কেলে রোগ সাড়াতে তড়পায়।

রোগ হেসে খায় লুটুপুটি কোথায় নয়'শ কোথায় পাঁচ!
কমদামী সেই ঔষধ খেয়ে কোন সাহসে বাঁচতে চাস!
ভেবেছিলি শুধু যদি দাওয়ার দামটা কমতো
বন্ধকি এই জীবনটা তোর টেনেটুনে চলতো।

এরপরও কি করবি দাবি কমানো হোক দাওয়ার দাম
তারচেয়ে তুই দুই বেলা হাট ঝড়িয়ে ফেলনা গায়ের ঘাম।

দেখবি এতেই রোগ কমেছে রুগীকে ভয় পাচ্ছে রোগ
দাওয়া কেনার অর্থটা তোর অায় হিসেবে হচ্ছে যোগ।
ভাবছিস তুই তোর এই অায়ে তোর চিকিৎসাই হয় না।
তোর সে টাকাই ব্যয় হয়ে যায়। চিকিৎসা তার মাগনা।

কেন জানিস! তোর ভাবনায় সময় যে তার কাটে
মোদের ভেবেই একশা তিনি তার যা সবই লাটে।

নিজের বলে ভাবতে গেলে মোদের কথাই ভাবেন
তাইতো তিনি তোর টাকারই রাজপ্রাসাদে থাকেন।

নিজের বলে তার কিছু নেই , তবুও ভেবে হয়রান
অনাদরে তোর কিছু হয়? তাইতো তিনি ভয় পান।

সৈন্য, পুলিশ, কাস্টম সব তোকে ভেবেই রাখা
যদিও জানেন তোর কিছু নেই ঘরদ্বোর সব ফাকা
নিশ্চিন্তে নির্ভাবনায় থাকতে যাতে পারিস
স্বাধীনভাবে চলবি ফিরবি ধার না কারো ধারিস। 

একটা ডিমের অর্ধেক খান অর্ধেক খায় ডাক্তার
খাওন পরণ অাসন যাওন সব কিছুতেই ভাগ তার।

ক্ষমতা তার বিশাল ঠিকই- সোনার খাঁচায় বন্দী
ফিতা কাঁটেন, বক্তৃতা দেন মেনে চলেন সন্ধি। 

সন্ধি ছাড়া চলতে মানা সৈন্য, পুলিশ সব তার
সকল কর্ম তার নামে হয় নেই কো শুধু দায় ভার
অবসরে যাবেন যখন কেমনে তখন চলবেন
চিন্তা এলেই ঘুড়ছে মাথা ভিমরি খেয়ে টলছেন।

গিন্নি শুনে গেলেন চটে বাকবিতণ্ডা চরমে
বক্তৃতাতে বলেই দিলেন মরে যাচ্ছেন মরমে।

দেনমোহরের পঁচিশ হাজার পৌছলো পঁচিশ কোটিতে
ঘরেও শেষে সন্ধি হলো দ্বন্দ্ব গেল ছুটিতে। 

ঘি অাশি মণ জুটবে না তাই নাচবে না অার রাধা
এমন হাজার যুক্তিতে তার রইলো জীবন বাধা। 

রক্ষা পেল ঘর সংসার বাঁচলো শেষে ইজ্জত
শুনলি তো সব নইমুদ্দিন এবার কিছু বুঝছস। 

দোয়া করি স্বাস্থ্য নিয়ে সুস্থ্য দেহে বাঁচুক হে
এমনি করে অকপটে সদাই সত্য বলুক সে।

No comments: