‘খুন হয়েছিলেন সালমান শাহ’ : আসামি রুবির ফেসবুকে ভিডিওবার্তা নিয়ে তোলপাড়

জুড়ী টাইমস সংবাদ: কিংবদন্তি চিত্রনায়ক সালমান শাহর মৃত্যুরহস্যে নতুন বাঁক তৈরি হয়েছে। সালমান হত্যা মামলার অন্যতম আসামি রাবেয়া সুলতানা রুবি দাবি করেছেন, এই নায়ক আত্মহত্যা করেননি, তাকে খুন করা হয়েছে। প্রবাসী ওই নারীর মতে, সালমান হত্যার সঙ্গে নায়কের স্ত্রী সামিরার পরিবার জড়িত। আমেরিকা প্রবাসী রাবেয়া সুলতানা রুবি সম্প্রতি নিজের ফেসবুকে একটি ভিডিওবার্তায় এসব তথ্য প্রকাশ করেছেন।

ফেসবুক থেকে ইউটিউবে ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওবার্তায় রুবি বলেছেন, ‘সালমান শাহ আত্মহত্যা করে নাই, সালমান শাহ খুন হইছে। আমার হাজব্যান্ড (জন) এইটা করাইছে আমার ভাইরে দিয়ে। আমার হাজব্যান্ড করাইছে, এইটা সামিরার ফ্যামিলি করাইছে আমার হাজব্যান্ডরে দিয়ে, সবাইরে দিয়ে সব চাইনিজ মানুষ। সালমান শাহ আত্মহত্যা করে নাই, সালমান শাহ খুন হইছে।’

রুবি দাবি করেছেন, সালমান শাহের খুনে জড়িত ছিলেন তার স্বামী যিনি চীনা নাগরিক চ্যান লিং চ্যান ওরফে জন চ্যান নামে বাংলাদেশে পরিচিত। ধানমন্ডির সাংহাই রেস্টুরেন্টের মালিক তিনি। ভিডিও বার্তায় ওই নারী আরো দাবি করেন, চীনাদের দিয়ে এই খুন করানো হয়। এতে জড়িত ছিলেন সালমান শাহর স্ত্রী সামিরার পরিবারও।

সালমান শাহের মা নীলা চৌধুরীকে উদ্দেশ করে ভিডিওতে রুবি বলেছেন, ‘ভাবি, আপনার ছেলেরে খুন করা হইছে। আমার যা করার আমি করবো, আমি ভেগে আছি ভাবি, নাইলে আমারেও মেরে ফেলত এরা সবাই মিলে। লুসি, আমার হাজব্যান্ড জন, সবাই মিলে আমার বাচ্চাটা, আমার বাচ্চা রিকি আর আমার জানের ওপর অনেক জিনিস আছে ভাবি। দয়া করে কিছু করেন ভাবি, কিছু করেন, কিছু করেন। যেখানেই যান ইনভেস্টিগেশন করেন। এটা খুন ছিল, ইমন আত্মহত্যা করে নাই। সালমান শাহ আত্মহত্যা করে নাই ভাবি, আপনার ছেলে আত্মহত্যা করে নাই, আপনার ছেলেরে খুন করানো হইছে। আমার বাপরেও মনে হয় মাইরা ফেলছে ভাবি, আমি জানি না, আমার ভাইটারেও মাইরা ফেলছে মনে হয়।’

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এরই মধ্যে এই ভিডিওটি ভাইরাল হয়েছে। রুবি দাবি করেছেন তিনিই শেষ ব্যক্তি যিনি এই খুনের ব্যাপারে বিস্তারিত জানেন। এ অবস্থায় সালমানের হত্যাকারীরা রুবির প্রাণনাশ করতে পারে বলে আতঙ্কিত বোধ করছেন। ভিডিওতে রুবি আরো বলেন, ‘আমি রুবি, এখানে ভেগে আসছি, আমি ভেগে আসছি, এই কেস যেন না শেষ হয়। আমি যেভাবে পারি, ঠিকমতো যেন আমি সাক্ষী দিতে পারি। আপনারা আমার জন্য দোয়া করেন।’

রুবি চৌধুরী এখন পেনসিলভানিয়ায়। ভিডিওবার্তায় তিনি জানান, ‘জীবন হারানোর আশঙ্কায় আছেন তিনি। তিনিই নাকি একমাত্র জীবিত মানুষ যার কাছে প্রমাণ আছে সালমানকে খুন করা হয়েছে। তাই তাকেও মেরে ফেলা হতে পারে। কেন খুন করা হতে পারে রুবিকে? তার ভাষ্যে, ‘কারণ আবার (সালমানের মৃত্যু রহস্য) কেস ওপেন হইছে।’

সালমান শাহ ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর প্রয়াত হন। তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে পুলিশকে জানিয়েছিলেন তার স্ত্রী সামিরা। এদিকে সালমান শাহের পরিবারের দাবি- তাকে হত্যা করা হয়েছে। দুই দশকেও হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন হয়নি। পুলিশ দুই দফা ময়নাতদন্ত করে একে আত্মহত্যা বলেছিল। কিন্তু নারাজি আবেদন করেছে সালমান শাহের পরিবার। মামলাটির বিচার বিভাগীয় তদন্তও হয়েছিল। এখন এটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-পিবিআইয়ে রয়েছে।

সালমান শাহ হত্যা মামলার ১১ আসামির মধ্যে চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই ও রাবেয়া সুলতানা রুবির নাম রয়েছে। এ অবস্থায় রুবির এমন আচরণও সন্দেহজনক অনেকের কাছে। আসামি হয়ে তিনিই বা কেন এমন ভিডিও প্রকাশ করলেন?

১৯৯২ সালে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ ছবি দিয়ে সালমান শাহের রূপালি পর্দায় যাত্রা শুরু। চার বছরের ক্যারিয়ারে তিনি ২৭টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। এর প্রতিটিই দর্শকপ্রিয়তা পায়। সালমান শাহের মৃত্যুর পর স্ত্রী সামিরা মুস্তাক ওয়াইজ নামে এক ব্যবসায়ীকে বিয়ে করে সংসার করছেন থাইল্যান্ডে। তাদের সংসারে তিনটি সন্তানও রয়েছে।

এদিকে ভিডিওটি নজরে এসেছে সালমান শাহের মা নীলা চৌধুরীর। তিনি এখন লন্ডনে সালমানের ছোট ভাই শাহরানের কাছে। সেখান থেকেই নিজের ফেসবুকে স্ট্যাটাসে তিনি বলেছেন, ‘প্রিয় দেশবাসী। আমাকে সাহায্য করুন। দেখুন, রুবি সুলতানার স্বীকারোক্তি। কীভাবে সালমানকে হত্যা করা হয়েছে। যেভাবে পারেন এফবিআইকে জানান, বাংলাদেশের সব চ্যানেলকে অনুরোধ করছি- রুবির স্বীকারোক্তিটা চালিয়ে দেন।’ তিনি আরো বলেন, ‘প্রিয়জন, খেয়াল রাখবেন এই নিউজের পর অনেকে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার চেষ্টা করবে। শান্তভাবে কাজ করবে।’ এরপর তিনি সালমানের স্ত্রী সামিরা ও তার পরিবার যেন দেশ থেকে পালিয়ে যেতে না পারে সেদিকেও নজর দিতে অনুরোধ করেন।

রুবির ভিডিওবার্তা দেখে তার কাছে ফোন নাম্বার চেয়ে নীলা চৌধুরী ফেসবুকে লেখেন, ‘রুবি তুমি এতো কথা বলতে পারছ তাহলে এফবিআই বা আমেরিকার পুলিশকে জানাতে পারছ না কেন, তারা যাতে তোমাকে নিরাপদে রাখে। তোমার ফোন নাম্বার দাও।’

No comments: