একজন এস এম জাকির হোসাইন ভাই যিনি লক্ষ তরুণের আইডল

ইসতিয়াক আহমেদ শরীফ: গাহি সাম্যের গান, মানুষের চেয়ে কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান, নাই দেশ-কাল-পাত্রের ভেদ, অভেদ ধর্মজাতি, সব দেশে, সব কালে, ঘরে-ঘরে তিনি মানুষের জ্ঞাতি। কবি নজরুলের মানবতা নিয়ে অমর অনবদ্য এই কবিতা থেকেই আমরা মানবতা সম্পর্কে স্বল্প পরিসরে বিশদভাবে উপলদ্ধি করতে পারি। পৃথিবীর বয়স হল মহাবিশ্বের বয়সের কমবেশি এক তৃতীয়াংশ। এই বিপুল সময়ের মধ্যে অজস্র ভূতত্ত্বীয় পরিবর্তন ঘটে গেছে, জীবনের উদ্ভব হয়েছে এবং সে জীবনে এসেছে বিবর্তন। সভ্যতার বিকাশ ঘটেছে, মানুষের মানসিক পরিবর্তন সাধিত হয়েছে, মানুষ পরিবার সৃষ্টি করেছে, সমাজ সৃষ্টি করেছে, রাষ্ট্র সৃষ্টি করে সরকার গঠন করেছে। সর্বোপরি, সৃষ্টির সেরা জীব হিসাবে নিজকে প্রমাণিত করেছে।

তারপরও এই মহাবিশ্ব বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত হয়েছে, মানুষে মানুষে সংঘাত সৃষ্টি করেছে, হিংস্রাত্বক হয়েছে, কখনো কখনো মানবতা ভূলিন্ঠিত হয়েছে। মানবতা যখন মারাত্মকভাবে বিপর্যয়গ্রস্ত হয়েছে, তখন সৃষ্টিকর্তা কর্তৃকই মানবতার ফেরিওয়ালারা মানবতা নিয়ে সাধারণ মানুষের দরবারে পৌঁছিয়েছেন। মহাবিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব হযরত মোহাম্মদকে আল্লাহ্‌ পাঠিয়েছিলেন মানবতার সুষম বন্টন করতে, মানুষের মাঝে শান্তির বার্তা পৌছিয়ে দিতে। যুগেযুগে যেখানে অন্যায় অবিচার, নির্যাতন, খুন খারাবি সীমা লংকিত হয়েছিলো, সেখানেই একজন মহাপুরুষে আবির্ভাব হয়েছেছিলো। যেটা অদ্যাপি পর্যন্ত বিদ্যমান।

ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের গোড়াপত্তন পরে এই বাংলার শাসনভার নিজের কাঁদে তুলে নিয়েছিলো পাকিস্তানের নামের এক শাসকগোষ্ঠী। তারা তাদের নির্যাতন, অবিচার, হত্যা, বৈষম্যের মাত্রা লংকিত করেছিলো। মানবতার ফেরি নিয়ে শাসন আর শোষণের বিরুদ্ধে কথা বললেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি এদেশের স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন। কিন্তু, এই জাতির কিছু চিহ্নিত কুলাঙ্গার তার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে তার পরিবারসহ তাকে নির্মমভাবে হত্যা করে। এই জনপদে নেমে আসে আবার হত্যা, অন্যায় অবিচার। 

ভাগ্যক্রমে বেচে যাওয়া বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যার একজন শেখ হাসিনা এদেশের দুঃখ লাঘব করতে মানবতার ফেরি নিয়ে ফিরে আসেন সুদূর বিদেশ থেকে। অনেক নির্যাতন এবং অনেক নেতাকর্মীকে হারিয়ে তিনি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এসেছেন সাধারণ মানুষের ভাগ্যের উন্নয়নের জন্য, সাধারণ মানুষের পক্ষ হয়ে কথা বলার জন্য। তার সঙ্গের সারথি হিসাবে দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন অনেক নেতাকর্মী। আর তাদের মধ্যেই একজন হলেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন ভাই। যিনি নিজের সাংগঠনিক দায়িত্ব যেমন পালন করছেন নিষ্ঠার সাথে, তেমনি নিজের দায়িত্ববোধ থেকে মানবতার কাজে নিজকে নিয়োজিত রেখেছেন অসামান্যভাবে। আমার দেখা সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য এবং ইতিবাচক চিন্তায় নিজকে নিমগ্ন রাখেন এস এম জাকির হোসাইন ভাই। দায়িত্বশীল জায়গা থেকে আমরা সবাই যদি জাকির ভাইয়ের মত এমন দায়িত্বশীল হতে পারতাম ; তাহলে এসমাজে কোন দরিদ্র থাকতো না, কেউ না খেয়ে থাকতো না, কেউ মানবেতর জীবনযাপন করতো না। সরকারের পাশাপাশি আমাদের সকল দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের এসব সামাজিক কাজে এগিয়ে আসা উচিত। এরকম চিন্তার অভিপ্রায় থেকে হয়ত জাকির ভাই গত দুইবছর নিজকে নিয়োজিত রেখেছিলেন সমাজের গরীব এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে। যারা অর্থের অভাবে চিকিৎসা করতে পারেনা, বিশেষ করে ছোট শিশু এবং বিভিন্ন ছাত্রছাত্রীদের। কারণ, তিনি যে সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের প্রতিনিধি। কখনো এটা করেছেন নিজের অর্থ দিয়ে, কখনো সরকার সহায়তায়, কখনো সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহবান জানিয়েছেন।

চলুন জেনে নিই গত দুই বছরে এস এম জাকির হোসাইন ভাইয়ের সাংগঠনিক দায়িত্বের পাশাপাশি ব্যক্তিগতভাবে উল্লেখযোগ্য কিছু দায়িত্বশীল মানবতার কাজ।

১) খাদিজার কথা মনে আছে? দূর্বৃত্ত্ব বদরুলের হাতে মারাত্মকভাবে জখম হয়েছিলো খাদিজা। প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত দেশরত্ন শেখ হাসিনার তরফ থেকে খাদিজার পাশে ছিলেন জাকির ভাই। খাদিজা এখন অনেকাংশই সুস্থ স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছে। 

২) সড়ক দূর্ঘটনায় মারাত্মকভাবে আহত বাংলাদেশ ছাত্রলীগের উপ- বেসরকারি সম্পাদক আসিফ ইকবাল অনিকের পাশে ছিলেন এস এম জাকির হোসাইন ভাই। অনিক ভাই ধীরেধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন।

৩) বাংলাদেশ ছাত্রলীগের অকাল প্রয়াত মহুরুম নজরুল ইসলামের পরিবারের পাশে ছিলেন এস এম জাকির হোসাইন ভাই।

৪) বখাটে কর্তৃক খুন হওয়া উইলস লিটল ফ্লাওয়ার অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী সুমাইয়া আক্তার রিশার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন এস এম জাকির হোসাইন ভাই। 

৫) ব্রেইন টিউমারে আক্রান্ত হওয়া নীলফামারী কলেজের শিক্ষার্থী রুমার চিকিৎসার ব্যয়ভার নিয়েছিলেন এস এম জাকির হোসাইন ভাই। নিজের বই 'আন্দোলন সংগ্রামে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ' বইয়ের প্রাপ্ত লয়ালইটি থেকে চিকিৎসার ব্যয়ভার চালিয়ে যাবেন বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন। রুমা এখন সুস্থ স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছে।

৬) বিউটি রানীর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন এস এম জাকির হোসাইন ভাই। সিলেটের সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলার মেয়ে বিউটির রানী। তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ হার্টের রোগে ভুগছিলেন। ডাক্তারের পরামর্শ তার জরুরি অপারেশনের প্রয়োজন। কিন্তু আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারণে থেমে গিয়েছিল বিউটির সকল চিকিৎসা।গত কয়েক দিন আগে ফেইসবুকে প্রমথ তালুকদার নামে এক ছাত্রলীগ নেতা বিউটি সরকারের সাহায্যের জন্য দেশের বৃত্তবান ব্যক্তিদের কাছে সাহায্যের আবেদন করেন। বিষয়টি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন ভাইয়ের দৃষ্টিতে আসলে তিনি সিলেট জেলা যুবলীগ নেতা সাজলু লস্করকে মেয়েটির সম্বন্ধে বিস্তারিত জানতে বলেন। সাজলু লস্কর ও ফেইসবুকে বিউটির আবেদনকারী প্রমুথ তালুকদার সহ বিউটির বাসায় গিয়ে তার খোজ খবর নেন এবং জাকির হোসাইন ভাইকে বিষয়টি অবগত করান। পরে বিউটির চিকিৎসায় সার্বিক সহযোগীতা করতে সিলেট জেলা যুবলীগের নেতা সাজলু লস্কর ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ডাঃ কাজি মাহবুব ভাইকে দায়িত্ব দেন।

৭) গত কিছুদিন আগে এক গরীব দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হাফেজ চাঁন সওদাগরকে একটি ব্রেইল মেশিন প্রধান করে মানবতার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন এস এম জাকির হোসাইন ভাই। 

৮) বিরল রোগে আক্রান্ত মুক্তা মনির পাশে দাঁড়িয়েছিলেন এস এম জাকির ভাই। মুক্তা মনির চিকিৎসা চলছে।

৯) বাগেরহাটের আমিনুলের কথা মনে আছে? বিরল রোগে আক্রান্ত এই ছেলেটির অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে পারেনি তার পরিবার। তার চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছিলেন এস এম জাকির হোসাইন ভাই।

১০) সাত কলেজের পরীক্ষা এবং রুটিনের দাবিতে আন্দোলনরত তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী সিদ্দিককেও দেখতে গিয়েছিলেন এস এম জাকির হোসাইন ভাই।

১১) সর্বশেষ শিবিরের নারকীয় হামলায় আহত শাহীনের পাশে সরসর্বপ্রথম ছুটে গিয়েছিলেন এস এম জাকির হোসাইন ভাই। এবং এখন পর্যন্ত শাহীনের যাবতীয় খোজ খবর নিচ্ছেন জাকির ভাই। এরকম অনেক কাজ জাকির ভাই গোপনে করে যাচ্ছেন, রিফারেন্সগুলো এজন্য নিয়ে আসলাম যে আমাদের সমাজে বিত্তবান লোকের অভাব নেই, অনেক সচিব আছেন, প্রশাসনিক কর্মকর্তা আছেন, ডাক্তার আছেন, ইঞ্জিনিয়ার আছেন, তারকাখচিত অনেক লোক আছেন। যাদের একটু প্রচেষ্টায় সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষদের আমরা ক্ষুদা এবং দারিদ্রমুক্ত করতে পারি। চিকিৎসারর ব্যয়ভার নিতে পারি, ব্যয়ভারের চেয়ে মনে হয় দায়িত্বশীল হওয়াটা জরুরী। কারণ, সবকিছু করতে আপনার ব্যক্তিগত অর্থই যে ব্যয় হবে তা নয়, আপনার দায়িত্বশীল জায়গা থেকে একটু দায়িত্ব নিয়ে কাজ করলেই অনেক কাজ হয়ে যায়। জাকির ভাই আমাদের সামনে যে উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন মানবতা নিয়ে, তা সত্যিই আমাদের গর্বিত করে। জয় হোক মানবতার, জয় হোক সাধারণ মানুষের।

No comments: