শোক শ্রদ্ধায় বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ

জুড়ী টাইমস সংবাদ: বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪২তম শাহাদৎবার্ষিকী জাতীয় শোক দিবস শোকাশ্রু আর শ্রদ্ধায় পালিত হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর প্রাঙ্গণে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। এরপর রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীসহ আপামর জনতা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

মঙ্গলবার প্রথম প্রহরে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর প্রাঙ্গণে প্রথমে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এর পরই আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দলের সিনিয়র নেতাদের নিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর একে একে আওয়ামী লীগের সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম যুবলীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ যুব মহিলা লীগ, বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগ, শ্রমিক লীগ ও তাঁতী লীগের নেতাকর্মীরা শ্রদ্ধা জানান।

এরপর বিভিন্ন পেশাজীবী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, শের-ই-বাংলা কৃষি বিশ্বিবিদ্যালয় ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। জাতীয় প্রেসক্লাব, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন থেকে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দেওয়া হয়। এছাড়াও রাজধানীর বনানী করবস্থানে ১৫ আগস্ট নিহত অন্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও দলীয় নেতাকর্মীরা। এরপর গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় চিরনিদ্রায় শায়িত জাতির জনকের সমাধিতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও আপামর মানুষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এছাড়াও রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে আওয়ামী লীগসহ সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতাকমীরা মিলাদ, দোয়া মাহফিল ও দুস্থদের মধ্যে খাবার আয়োজন করে।

সরেজমিনে দেখা যায়, জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য হাজার হাজার মানুষের ঢল নামে। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সর্বস্তরের মানুষের জন্য বঙ্গবন্ধু চত্বর উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। ব্যানার-ফেস্টুনে ঢেকে যায় জনতার শেষ মাথা। আবার দলীয় নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগানে স্লোগানে বঙ্গবন্ধু স্মরণ করেন।

শোকার্ত মানুষের ঢল সারিবদ্ধ হয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে দেখা যায়। মানুষের চাপ সামলাতে ঘোষণামঞ্চ থেকে ভেসে আসে দ্রুত শ্রদ্ধা নিবেদনের আহ্বান। ঘোষণামঞ্চ থেকে এ ব্যাপারে বারবার তাগিদ দিচ্ছিলেন আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা মো. আবু কাওছার ও সাধারণ সম্পাদক পঙ্গজ দেবনাথ এমপি। তবে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর থেকে মাত্র কয়েক গজ দূরত্বে কলাবাগান এলাকায় আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর আত্মঘাতী জঙ্গির সন্ধান প্রাপ্তির ঘটনাও কোনো আতঙ্কের রেশ ছড়াতে পারেনি। এক্ষেত্রে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর ঘিরে প্রধান প্রধান সড়কমুখ ও রুটে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী কয়েক স্তরে নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলে।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বাঙালি জাতি স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে পরিবার-পরিজনসহ নৃশংসভাবে শহীদ হন ধানমন্ডির ঐতিহাসিক ৩২ নম্বর সড়কের বাসভবনে। কতিপয় বিশ্বাসঘাতক রাজনীতিকের চক্রান্ত এবং সেনাবাহিনীর বিপথগামী সদস্যের নির্মম বুলেটের আঘাতে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে সেদিন প্রাণ হারান তার প্রিয় সহধর্মিণী বেগম শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, তিন ছেলে শেখ কামাল, শেখ জামাল ও দশ বছরের শিশুপুত্র শেখ রাসেল এবং নবপরিণীতা দুই পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল। কিন্তু ভাগ্যের অদৃষ্ট লিখনে সেদিন প্রবাসে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান বঙ্গবন্ধুর দুই মেয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা।

No comments: