ফিলিপ গাইনের সাথে কিছুক্ষণ -৪

                   ফিলিপ গাইনের সাথে কিছুক্ষণ -৪
                   লেখক: মো: কামরুল মোজাহীদ

(অামি বিনয়ের সাথে জানতে চাইলাম -অাদিম সংস্কৃতির মূল প্রসঙ্গে যাবার অাগে বলুনতো, গারো জনগোষ্ঠী কোন ধর্মাবলম্বী?) --- অাচমকা ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলেও তিনি এতটা চমকে উঠতেন কি না সন্দেহ! শিক্ষার্থীদের দৃষ্টিতে তার এই ' চকিত চমকে ওঠা ' ধরা পড়লো কি? বুঝতে পারলাম না! তিনি নিমিষেই নিজেকে সামলে নিলেন । অার যে জবাব সাথে সাথে দেবার কথা তার জন্য কালক্ষেপন করতে থাকলেন। এত সহজ উত্তর কিন্তু তিনি সময় নিচ্ছেন।কেন নিচ্ছেন, তা অামি জানি। কিন্তু শিক্ষার্থীরা ? তারা কি জানেন!  না না, তারা জানবেন কি করে! তাদের মন:শ্চক্ষু তো এখনো স্বার্থপরতার ঠুলীতে বাধা পড়েনি। তাদের এই বয়স যুক্তি নির্ভর। যার উপস্থাপনা যত যৌক্তিক তাকে তারা ততটাই শ্রদ্ধা করেন,ভালবাসেন। বক্তার অন্তরের নিভৃত কোনে কি গোপন ইচ্ছা, কতটা লোভ লালসা, উদ্দেশ্য - অভিসন্ধি খেলা করে তার ঠিকুজিকোষ্ঠীতো তাদের জেনে নেবার কথা নয় ! তাইতো ধর্মের কথা জিজ্ঞেস করলে তার উত্তর দিতে যে দুদণ্ড ভাবতে হয় এ তিক্ত অভিজ্ঞতা শিক্ষার্থীদের থাকবে কি করে! তাই তাদের শ্রদ্ধেয় ফিলিপ গাইন স্যারের মনে এখন কি চলছে তার অাঁচ পাওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। অামি গভীর অাগ্রহ নিয়ে তার মুখের দিকে তাকিয়ে রইলাম। তার টকটকে লাল ঠোট তিরতির করে কেঁপেই থেমে গেল। অামি তার নাজুক অবস্থা বুঝতে পারছি। বিজ্ঞ ও অভিজ্ঞ তিনি। কিভাবে বৈরি পরিস্থিতি সামলাতে হয়, কিভাবে প্রতিকুল পরিবেশকে অনুকূলে অানতে হয় তা তার নখদর্পণে। সেই চেষ্টায় তিনি মূল সত্যের হাজার ভাগের একভাগ দিয়ে পুরো বিষয়টাকে অাড়াল করার মরিয়া প্রয়াসে সংক্ষেপে কৌশলী জবাব দিলেন - সংসারেক (ধর্মের নাম)। অাবার বিরতি নিলেন। অামি স্বকৌতুকে বলেই ফেললাম - শুধু এই টুকুই। জানি, একজন হিন্দু কিম্বা মুসলমান অথবা খ্রিস্টানের জন্য এই জবাবটুকুই যথেষ্ট। তার কাছে পুনরায় কেউ জানতে চায় না -অাপনি কি ধর্মান্তরিত? তিনি ভেবেছিলেন অামিও হয়তো এ টুকুতেই সন্তুষ্ট থাকবো। কিন্তু অামি যদি জেনে বুঝে এইটুকু নিয়েই সন্তুষ্ট হই তাহলে অামার বিবেক অামাকে " অসত্য " প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা করার দায়ে দায়ী করবে । তাছাড়া শিক্ষার্থীদেরওতো জানা দরকার কিভাবে একটা ডাহা মিথ্যা দীর্ঘদিনের কৌশলী প্রচারণায় 'সর্বাঙ্গসুন্দর সত্য' বলে স্বীকৃত হতে চলেছে । যা সভ্য সমাজের বিদ্বান ব্যক্তিরাও অতি সাধারণ দৃষ্টিতে দেখে মুগ্ধ হন । সত্য তাদের চোখের সামনে উন্মুক্ত কিন্তু তারা লক্ষ্য না করে নিশ্চিন্তে পাশ কাটিয়ে যান । কারণ দীর্ঘদিন থেকে অব্যাহতভাবে প্রবাহিত অসত্য ভাষণের বালির প্লাবনে দিবালোকের মত দৃশ্যমান' জলজ্যান্ত সত্য ' ঢাকা পড়ে গিয়েছে প্রায়। প্রপাগাণ্ডার সফেদ উত্তরীয়তে অাপাদমস্তক ঢেকে যাওয়া সত্যের বেরুবার পথ প্রায় রুদ্ধ। অবশিষ্ট ফাঁক ফাটল যাও বা রয়েছে তাও বন্ধ করার যুদ্ধে তারা মরিয়া। তাইতো ফিলিপ গাইনরা কাঁদছেন। 

কাঁদছেন তো কাঁদছেনই। তার সেই ইনিয়ে বিনিয়ে কান্নার মায়াবী গঁদ দিয়ে 'অাবদ্ধসত্যের' মুক্তির জন্য যেটুকু ফাঁক ফাটল রয়েছে তা মুড়ে দিতে তিনি বদ্ধপরিকর। প্রকৃত সত্য প্রকাশের সব রাস্তার মুখেই রয়েছে শক্ত বেরিকেড। তাদের এই অাদিম সংস্কৃতি রক্ষার মায়াকান্নার শব্দদূষণেই তো বড় বড় কুরসিওয়ালা, বুদ্ধিব্যবসায়ীদের কান প্রায় বয়রা হবার দশা।
তাইতো তারা যা শুনেন তা ফিল্টার করা। অার সেই শোনা কথা যখন সরেজমিনে দেখতে চান তখন শুধুই দেখেন, অাদৌ লক্ষ্য করেন না। তারা এমন একটা ভাব ধরেন, যেন জন্মের পর থেকেই সব বুঝে এসেছেন। তাইতো এ সম্পর্কে কারো কাছ থেকে কিছু শোনা বা জানার মত অারো যে কোন তথ্য থাকতে পারে তা তারা মনেই করেন না। বরং এসেই ভাব দেখান সবই তার জানা, তিনি যেন সর্বোজ্ঞ। অাসলে তিনি যে কি বুঝেছেন তা নিজেই জানেন না। এদিকে তাদের সেই না বুঝে বোঝার ভান দেখে সহজ সরল ফিলিপ গাইনরাতো হেসে খুন। পৃথিবীর সবচেয়ে সহজ সরল অাদিবাসী নেতার সরলতার অসৎ খাদের নোংড়া জলে খাবি খেতে খেতে কর্তাব্যাক্তিরা যখন তাদের অসত্য কাজে সমর্থন দেন তখন ফিলিপ গাইনদের অার পায় কে ? তারা দ্বিগুণ উৎসাহে উৎসাহিত হয়ে নতুন নতুন বুদ্ধিমানদের নির্বোধ বানানোর মিশন শুরু করেন। যোগসূত্রে ব্যবহার করেন পূর্বে শিকার হওয়া প্রথিতযশা শ্রদ্ধাভাজনের নাম। তাইতো তারা কখনো জানতে চান না - হে অাদিম সংস্কৃতির ধারক ইউজিন, তোমাদের দাবি অনুসারে তোমার নাম তো সত্যেন কিম্বা নৃপেন হবার কথা? হে ঐতিহ্যগতভাবে অর্জিত সংরক্ষিত বনভূমির মালিকানার দাবিদার এ্যান্থনী, তোমাদের দাবি অনুসারে তোমার নাম তো হবার কথা রবি অথবা রাম, তা না হয়ে তুমি ইউজিন বা এ্যান্থনী হলে কি করে? অাদিম সংস্কৃতি রসাতলে গেল বলে বুক চাপড়ানো হে অালবার্ট, তোমার নাম তো যদু অথবা মধু হওয়ার কথা তা না হয়ে অালবার্ট হলে কি করে? অার হলেই যদি, কবে থেকে হলে? কি করে হলে? কে তোমাকে বানালো ইউজিন, এ্যান্থনী অার অালবার্ট? খ্রিষ্ট্রিয় নামের লেবাসে বেশ তো করে কেটে খাচ্ছ , এসির বাতাসে উত্তপ্ত শরীর শীতল করছো, ইন্টারনেটের তুখোর জগতে দূর্দান্ত প্রতাপে হেসেখেলে বেড়াচ্ছ, অাধুনিকতার সর্বশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করে জাগতিক সব সুখ শুষে নিয়েও কেন তুমি তোমার পূর্ব পুরুষের অাদিম সংস্কৃতি , ঐতিহ্যের মায়াকান্নায় কেঁদেকেটে বুক ভাসাচ্ছো? পূর্ব পুরুষের অাদিম সংস্কৃতি অাঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকার দাবি নিয়েই তো তোমাদের অান্দোলন । তোমারাতো চাও তোমাদের পূর্ব পুরুষের অাচার, ব্যবহার, পোষাক পরিচ্ছদ, কৃষিকাজ,সামাজিক রীতিনীতি, ধর্ম, গীত ও বাদ্যযন্ত্রের মাঝেই অাবর্তিত হতে, তোমরাতো তোমাদের পূর্বপুরুষের ঐতিহ্য ছাড়া বাঁচতে পারবে না বলে অাহাজারি করো, তোমাদের সেই অার্তচিৎকারেই তো বন ও বন্যপ্রাণির নিরাপত্তার বিষয়টি জাতি থেকে অান্তর্জাতিক মহলের ভীত নাড়িয়ে দেয়। তাহলে তোমার নিজের নামের সাথে সেই ঐতিহ্যের চিহ্ন কই, তোমার পরিধেয় পোষাক পরিচ্ছেদে, অাচার অাচরণে সেই সাংসারেক ধর্মের লেবাস কই। যে সভ্য জগতের অাধুনিক সমস্ত কিছুই তোমাদের জন্য অস্পৃশ্য বলে সভা সেমিনারে কেঁদেকেটে একশা হও, সেই তাকেই কণ্ঠহার করে দিব্যি হাওয়া খেয়ে বেড়াচ্ছ, কারণটা কি ? অাদিম সংস্কৃতির প্রতি যার এত মায়া, এত মমতা তাকে পাশ কাটিয়ে কি করে নির্দ্বিধায় তুমি হয়ে উঠলে ইউজিন অার এ্যান্থনী ? তোমার দাদা, পরদাদা, পরদাদার বাবা বা তার পরদাদা যাদের সংস্কৃতির ছত্রছায়ায় তুমি অাদিবাসী হবার জন্য দুয়ারে দুয়ারে মাথা খুটে মরছো, কই তোমার নামে, পোষাকপরিচ্চদে, অাচার অাচরণে সেই অাদিম সংস্কৃতির বিন্দুমাত্র উপসর্গও তো দেখতে পাচ্ছিনে। তাহলে অাদিম সংস্কৃতি রসাতলে গেল বলে অাহাজারি করে তোমরা যে অাকাশ বাতাস উথালপাথাল করছো । তোমরা কি দেখাতে পারবে, তোমাদের পরিধেয় পোষাক পরিচ্ছেদ, ব্যবহৃত অত্যাধুনিক বৈদ্যুতিক সামগ্রীর সাথে পূর্বপুরুষদের সেই সংস্কৃতি অার ঐতিহ্যের সম্পর্ক কোথায় ?

কিন্তু কি অাশ্চর্য! কেউ জিজ্ঞেস করেন না। জানতেও চান না। তাদের মনে একবারও প্রশ্ন জাগেনা যাদের দাবির সাথে বাস্তবতার বিন্দুমাত্র মিল নেই তারা এত শক্তি কোথায় পায়! তাই অামি চাই, অাজ অন্তত এ সত্যটুকু প্রকাশ পাক, ফিলিপ গাইন স্মরনাতীত কাল বলে যে কালকে বোঝাতে চান তা অাসলে দেড়শ বছরের বেশি নয়। অাজ অন্তত শিক্ষার্থীরা জেনে যাক অাদিম সংস্কৃতির নামে এতদিন ফিলিপ গাইনের মুখে যা কিছু শুনে এসেছেন সেখানে অাদৌ অাদিমতার কোন লক্ষণ নেই। অাজ অন্তত জেনে যাক , তাদের ঐতিহ্যগতভাবে অর্জিত জমির মালিকানার দাবি নিয়ে যে অাহাজারি তা বাস্তবে জবরদখলকৃত বনভূমি, তাতে তাদের বিন্দুমাত্রও কোন ঐতিহ্য নেই। তারা অারো জেনে যাক, এতদিন এক পেশেভাবে ফিলিপ গাইন যা কিছু বলে গেছেন তাতে মূল ইতিহাসটুকুই নেই। কৌশলী বক্তব্যের মারপ্যাচে এতদিন যা তিনি বুঝিয়ে এসেছেন তা শুধুই উদ্দেশ্যমূলক,বানোয়াট । তিনি তার মনের মাধুরী মিশিয়ে যে ইতিহাস সাজিয়েছেন তা মূলত অাষাঢ়ে গল্প। অামি চাই, অাজ অল্প করে হলেও সেই সত্যটুকু উন্মোচিত হোক। যদিও অামি জানি, এই সত্য প্রকাশে চলমান কোনকিছুরই ইতরবিশেষ পরিবর্তন হবে না বা স্থায়ী কোন প্রভাব পড়বে না। তাছাড়া অামি যার সাথে কথা বলছি, তিনিতো হেজিপেজি কেউ নন। তিনি হচ্ছেন সেই ফিলিপ গাইন। যার বাকচাতুর্যের ইন্দ্রজালে বাঘা বাঘা অামলারা সত্য মিথ্যে গুলিয়ে ফেলেন। যিনি বললে প্রাজ্ঞজনেরাও দুই বা তিন প্রজন্মের সময়কেই মেনে নেন স্বরণাতীত কাল । যিনি "ঐতিহ্যগতভাবে অর্জিত জমির মালিক" হিশেবে দাবি তুললে সাথে সাথেই বিশ্বাস করেন জবরদখল করা তাদের জন্মগত অধিকার অার সেই জবরদখলী বনভূমির মালিকানা তাদের। একবারও মনে করেন না, যারা স্বজ্ঞানে সুস্থ মস্তিষ্কে অাপন ধর্ম, অাপন সংস্কৃতি বিষর্জন দিয়ে ইউজিন হয়েছেন এ্যান্থনী হয়েছেন কিম্বা অালবার্ট হয়েছেন, নিজের ঐতিহ্যকে বিষর্জন দিয়ে গির্জাগামী হয়েছেন, তাতারা রাবুকার সর্বোচ্চ স্থানের দখল অবলীলায় ইশ্বরের হাতে তুলে দিয়ে খ্রিস্ট্রিয় সংস্কৃতির পতাকা তলে সমবেত হয়েছেন তাদের অাবার অাদিম ঐতিহ্যের দাবি কিসের? স্বেচ্ছায় যে অধিকার ছেড়ে দিয়েছেন সেই অধিকারের প্রশ্ন তুলে দাবি অাদায় করতে চায় কোন সে অধিকারে? অামি সেই শক্তিমান ফিলিপ গাইনের সাথে কথা বলছি। এখানে অামি ছাড়া অামার পক্ষে বলার অার কেউ নেই। কিন্তু তার সাথে রয়েছে গুণমুগ্ধ বিশাল ছাত্রছাত্রীর দল। তারা তো কোমলমতি অাবেগপ্রবণ শিক্ষার্থী। ফিলিপ গাইনের ঐন্দ্রজালিক সম্মোহনী বক্তৃতার মায়াজালে বন্দী হওয়া এই শিক্ষার্থীদের সামনে অামাকে হিশেব করে কথা বলতে হবে। কারণ দীর্ঘ অতীত থেকে বিশ্বাস করে অাসতে থাকা অসত্যের দেয়াল ভেদ করে সত্যের প্রবেশ বরই কঠিন। যেহেতু ফিলিপ গাইন তাদের শ্রদ্ধেয় শিক্ষক , তিনি বিব্রত হন বা অসম্মান বোধ করেন এমন কোন অাচরণ তারা মেনে নিতে চাইবেন কেন? অার যদি চায় ও তা কি ঠিক হবে? কারণ অামরা যখন অচেনা রিক্সাওয়ালার রিক্সায় চড়ে কোথাও বেড়াতে থাকি তখন যদি কেউ তার সাথে খারাপ ব্যবহার করে অামরা রিক্সাওয়ালার পক্ষ নিয়ে রুখে দাঁড়াই, এটাই অামাদের সংস্কৃতি। অার অামিতো তাদের শ্রদ্ধেয় শিক্ষকের অসত্য ভাষণ প্রমাণের জন্য রীতিমত চাপ দিয়ে যাচ্ছি। অামার এ ব্যবহার তাদের কাছে ভাল লাগবেই বা কেন ? কিভাবে বিশ্বাস করি সত্য প্রতিষ্ঠিত হলেই তারা তাদের শিক্ষকের লজ্জা পাওয়াকে সহজভাবে মেনে নেবে? কারণ তারা যা জানে তা ফিলিপ গাইনের বানানো সত্য। বাস্তবতাতো বড়ই কঠিন ও কঠোর। তারা যদি সেই কঠিন কঠোর সত্যকে মেনে নিতে না চায় তাহলে কি তাদের দোষ দেয়া যায়? তাছাড়া অামরা যারা বন বিভাগে চাকুরী করি, তারা কি সবাই জানি , ফিলিপ গাইনদের মত ভদ্র, সভ্য, লেবাসদূরস্থ, যুক্তিবাদীদের সফেদ চাদরের নিচে কি সাংঘাতিক অশরীরী মারণাস্ত্র লুকিয়ে অাছে? তাই অামি সতর্কতার সাথে কথোপকথন চালিয়ে যেতে বিনয়ে বিগলিত হতে থাকি। কারণ অামার বিশ্বাস, এই একটিমাত্র জবাবই তার সততাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য যথেষ্ট। অামি শান্ত সুরে জানতে চাইলাম - তারা কি জন্মসূত্রে সংসারেক ধর্মাবলম্বী। তিনি রুষ্ট কণ্ঠে বললেন - জ্বি -হ্যা। - তারা কি এখনো এই সংসারেক ধর্মই পালন করেন? -না,না, কেউ কেউ খ্রিস্টান হয়েছেন। -অাপনি তো গারোদের নিয়েই গবেষণা করেন। তাই দয়া করে শতাংশের হিশাবে সংসারেক অার খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীর পরিসংখ্যান কত, বলবেন কি? চরম বিরক্তি নিয়ে তিনি ভ্রু কুঁচকে বললেন -এখানে এ প্রসঙ্গ অাসছে কেন? অামি তার মন:কষ্ট জানি বলেই অাস্তে করে জানতে চাইলাম। -অাপনার বলতে কি কোন সমস্যা? তিনি এখন এ প্রসঙ্গ থেকে বেড়িয়ে অাসার জন্য মরিয়া। কারণ তিনি বুঝতে পেরেছেন, তার মিথ্যাভাষণ শুনে অভ্যস্ত ছাত্রছাত্রীদের সামনে অাজ তার মুখোশ উন্মোচনের সময় উপস্থিত। এই একটা মাত্র প্রশ্নের উত্তর তার অাদিম সংস্কৃতি অার ঐতিহ্যকে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দেবে। বিব্রত দৃষ্টিতে তার অসন্তুষ্টির ছায়া। শুকনো মুখে অামার দিকে চেয়ে রইলেন। বুঝতে পারছি কিভাবে শুরু করবেন তা নিয়ে তিনি দ্বিধাবিভক্ত! ---চলবে---

No comments: