শাহজালালের শিক্ষার্থী জহিরুল ১৩ দিন নিখোঁজ

বিশেষ প্রতিনিধি: সিলেটের শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবি) শিক্ষার্থী জহিরুল ইসলাম (২৫) ১৩ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। এ ব্যাপারে নিখোঁজ শিক্ষার্থীর পরিবারের পক্ষ থেকে সিলেট কোতোয়ালি থানায় ১২ আগস্ট সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

জহিরুল মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলা সদরে অবস্থিত জাঙ্গিরাই এলাকার বাসিন্দা আবুল কালামের ছেলে। পুলিশ, নিখোঁজ শিক্ষার্থীর স্বজন ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, জহিরুল শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের তৃতীয় বর্ষ দ্বিতীয় সেমিস্টারের ছাত্র। ক্যাম্পাসে তিনি ‘রিয়াজ আবদুল্লাহ’ নামে পরিচিত। জহিরুল সিলেট নগরের মদিনা মার্কেট এলাকায় একটি মেসে থাকতেন। তবে দুই-তিন মাস আগে মেস ছেড়ে এক আত্মীয়ের বাসায় চলে যান। সম্প্রতি তিনি পোল্যান্ডে গিয়ে লেখাপড়া করার জন্য স্বজনদের কাছে আগ্রহ প্রকাশ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে তিনি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরি করছিলেন। ৬ আগস্ট ঢাকা থেকে একটি ফ্লাইটে ভারতে গিয়ে সেখানে অবস্থিত পোল্যান্ডের দূতাবাস থেকে তাঁর ভিসা সংগ্রহের কথা ছিল। ৫ আগস্ট রাতে তিনি সিলেট থেকে একটি বাসে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা দেন। এরপর থেকে তাঁর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরে ভিসা প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রেখোঁজ নিয়ে জানা যায়, জহিরুল ভারতে যাননি। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে সন্ধান না পেয়ে ১২ আগস্ট জহিরুলের বড় ভাই আমিরুল ইসলাম জিডি করেন।

জহিরুলের বড় ভাই আমিরুল ইসলাম বলেন, ৫ আগস্ট রাত নয়টায় জহিরুলের সঙ্গে তাঁর সর্বশেষ মুঠোফোনে কথা হয়। এ সময় তিনি (জহিরুল) বাসে উঠে পড়ছেন বলে জানান। আমিরুল বলেন, জহিরুল চুপচাপ স্বভাবের ছিলেন। বাড়ি এলে একা একা ঘরে বসে থাকতেন। কারও সঙ্গে বেশি কথাও বলতেন না। মাঝেমধ্যে নিজের ব্যবহৃত ল্যাপটপে ইংরেজি চলচ্চিত্র দেখতেন।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ও ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক আবু হেনা বলেন, জহিরুল ক্লাসে অনিয়মিত ছিলেন। ঢাকার হোলি অর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের তালিকা তৈরি করা হয়। ওই তালিকায় জহিরুলের নামও রয়েছে।

সিলেট কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অর্জুন চৌধুরী গতকাল বলেন, জহিরুলের মুঠোফোনের কলতালিকা সংগ্রহ করে তা যাচাই করে দেখা হচ্ছে।

No comments: